somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বাসে মেলায় বস্তু, তর্কে বহুদুর !

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ন্যাটিভ আমেরিকানরা সেদিন খুব অবাক হয়েছিল যখন তাদের ইউরোপিয়ান দখলদাররা হন্যে হয়ে হলদে রঙের পাথরগুলো খুজতেছিল । সেই হলদে পাথরের জন্যে ইউরোরোপিয়ানরা তখন চালাচ্ছিল নির্মম তাণ্ডবলীলা । খুব অবাক হয়েই হয়ত অনেক ন্যাটিভ আমেরিকান সেদিন বলেছিল-এই মুল্যহিন পাথরে কেন সবার এত ব্যাগ্রতা ?
স্বর্ন । সেই চির আকাংখিত বস্তু । কিন্তু কেন ? এক সমাজে যা মুল্যহীন সেটা অন্য সমাজে কেন এতটা মোহনীয় ?
একটা সময় মানুষ রুপার জন্যে,তারও আগে ব্রোঞ্জ এমনকি লোহা নিয়েও ঠিক এতটাই মোহাবিস্ট ছিল । কালের পরিক্রমায় আমাদের এই মোহগুলোর বিনিময় প্রথায় আমরা প্রচলন করলাম কিছু কাগুজে নোট বা ধাতব মুদ্রা । টাকা । টাকা আসলে কি ?
একটি কাগুজে নোট বা চেক কিংবা সোনা-রুপা-তামার তৈরি কোনো মুদ্রার নাম টাকা নয় । টাকা ইলেক্ট্রিক কারেন্ট কিংবা কম্পিউটারের বাইনারি কোডও নয় ।টাকা কোনো বস্তুগত পদার্থ নয়, টাকা একটি বিশ্বাস । একটি সামস্টিক বিশ্বাস , একটি সামাজিক বিশ্বাস ।
আমাকে একটি দোয়েল-কোয়েল আকা একটি কাগজের নোট দিয়ে বলা হচ্ছে এটা টাকা । যার বিনিময়ে একটি চকলেট কিনা যাবে । যে কিনছে সে এই কাগুজে নোটটাকে বিশ্বাস করে নিচ্ছে , যে বিক্রি করছে সেও । একটি চকচকে কাগজে একজনের ছবি আর কিছু আকাবুকা করে বলা হচ্ছে এটা হলো একশ টাকা অথবা এটা পাঁচশ টাকা ,এর বিনিময়ে তুমি এই এই জিনিস কিনতে পারবে আর বিক্রয় করবে । আমরা সেটাই বিশ্বাস করে নিয়েছি । ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই বিশ্বাস করে নিয়েছি । সেই কাগুজে নোটের জন্যে খুন,হত্যা,রাহাজানি থেকে শুরু করে দেশে দেশে যুদ্ধ পর্যন্ত বাধিয়ে দিয়েছি । পুরো পৃথিবী চলছে এই এক অদ্ভুত বিশ্বাসের উপর ।
কোনো যুক্তিবাদি নাস্তিকও তা অবিশ্বাস করছেনা । বরং এই জাগতিক বিশ্বাসে বুঁদ থেকেই সে পরাজাগতিক বিশ্বাসকে ভাসিয়ে দিচ্ছে তার যুক্তির ফোয়ারায়, হাসি-ঠাট্টা বা ঘৃণা-বিদ্বেস ছড়াচ্ছে মানুষে-মানুষে । হাউ লেইম দে আর !
তারা কি জানেনা যে Money is credit.Credit is belief.Belief is religion !
নাকি তারা ভাবে Money is credit.Credit is to praise.Praise is to price.Price is from latin Pretium.Pretium is from indo-europian word ‘per-‘.Prostitution is also from that word ‘per-‘ !

যাহোক, এজন্যেই জ্ঞানীরা বলে থাকেন “বিশ্বাসে মেলায় বস্তু,তর্কে বহুদুর” ! সবাই নিজের বিশ্বাসের উপর থাকেন । কোনো ভন্ড বা প্রগতিস্টিটিউটের যুক্তিতে নিজের বিশ্বাসকে আহত করবেননা । মনে রাখবেন বিশ্বাস মানেই অন্ধ,যুক্তিহীন !
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৩২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×