somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট গল্পঃ শেষ চিঠি

২৯ শে নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আকাশলীনার শেষ চিঠি আমার হাতে। আজ বিকেলে ওর সাথে শেষবারের মত দেখা হল! খুব কাঁদছিল ও। আমি ওর চোখের জল মুছে দিতে পারিনি। সেই অধিকার আমি হারিয়েছি। বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি আমি ওর সাথে। নিজেকে খুব বেশি ছোট মনে হচ্ছিল ওর সামনে। ওর কোন প্রশ্নেরই জবাব দিতে পারিনি। জবাব যে আমার কাছে ছিল না!
আমার ভালবাসা নাকি ওকে আর স্পর্শ কর না। সত্যিই কি স্পর্শ করে না? জানিনা...হয়তোবা ওর মুখের কথাটাই ঠিক। আমি একটা কাপুরুষ। একজন পুরুষকে ভালবাসা যায়,কাপুরুষকে নয়। ও কি জানবে এই কাপুরুষটা তার হৃদয় মন্দিরে এই দেবীর জন্য কত সুন্দর একটা আসন তৈরি করে রেখেছিল?
ওকে নিয়ে কত স্বপ্ন দেখিছিলাম... হয়তো আমাকে নিয়ে ও নিজেও বুনেছে হাজারো স্বপ্নের জাল। কিন্তু সব স্বপ্ন কি সত্য হবার জন্য জন্ম নেয়! হারিয়ে যাওয়ার জন্যই তো স্বপ্নের সৃষ্টি...! যেগুলোকে আমরা ধরতে পারি তারাই বাস্তব নামে টিকে থাকে। সব বাস্তবের অঙ্কুরোদগম তো সপ্নের মাঝেই।
ও আমার খুব কাছে বসে ছিল... কিন্তু ওকে আজ অনেক বেশি দূরের মানুষ মনে হচ্ছিল। এতো বেশি দূরের যে কখনো তার নাগাল পাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
আমার হৃদয়ে প্রতি মূহুর্তে একটি কথাই প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, ‘আমার সবটুকু দিয়ে তোমায় ভালবেসেছিলাম,আজও একই ভাবে তোমায় ভালবাসি। কিন্তু সেই ভালবাসায় তোমায় সঙ্গী করতে পারিনি। আমায় ক্ষমা কর। সুখে থেকো তুমি...সুখে থেকো আকাশলীনা!’
ও চলে গিয়েছে অনেকক্ষণ আগে...আমায় ছেড়ে...যেমনিভাবে আমি গিয়েছিলাম আজ থেকে দু’বছর আগে।না,ওর আর আমার যাওয়া এক নয়। আমি গিয়েছিলাম ওকে কাঁদিয়ে। আর আজ ও চলে গেল কান্নাকে নিজের সঙ্গী করে।
ও বলেছিল ওকে আমার জীবন সঙ্গী করে নিতে। সমাজের রক্তচক্ষু তুচ্ছ করে আমার সাথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিল ও। ওর কাছে ভালবাসাই ছিল সবকিছু... কিন্তু আমার কাছে? তখন সমাজের ছি ছি করে ওঠাকে বড্ড বেশি ভয় করেছিলাম। আমার ভয়টুকুর জন্য সমাজ কিংবা ধর্মের কাছে হয়তো অনেক বেশি বাহবা পেয়েছি... কিন্তু ওর কাছে আমি হয়েছি একজন পরাজিত প্রেমিক... একজন মৃত মানুষ!
কিইবা ক্ষতি হত যদি সেদিন রাতের অন্ধকারে পালিয়ে না গিয়ে আমি ওর আহবানে সাড়া দিতাম,সমাজের সব নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে ওর সাথে ঘর বাঁধতাম? ওর কাছে অন্তত আমি একজন সত্যিকারের প্রেমিক হতে পারতাম!
আজ এই নির্জন সন্ধ্যায়,এই উন্মুক্ত আকাশের নিচে,এই নদীর তীরে আমি একজন পরাজিত মানুষ আমার সবটুকু শুন্যতা নিয়ে একা দাঁড়িয়ে আছি। আমার শুন্যতা মুছে দেবার জন্য আজ ও আসবে না। আজ ও আমার নয়।আমার অমূল্য সম্পদ আমি হেলায় হারিয়েছি!
আমার হাতে আমায় লেখা ওর শেষ চিঠি!সাদা খামের উপর তারিখ দুবছর আগের ঠিক আজকের এই দিন! সেদিন হয়তো ও কত আশা আর কত কান্নার রঙে লিখছিল এই চিঠি! কিন্তু সেই চিঠি তার গন্তব্য খুঁজে পায়নি। সবকিছু পেছনে ফেলে আমি নিজেকে নির্বাসিত করেছিলাম ভালবাসা শুন্য এক নিষ্ঠুর পৃথিবীতে!
আজ সে চিঠি তার হারিয়ে যাওয়া গন্তব্য খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু বড্ড বেশি দেরি হয়ে গেছে!
আকাশলীনা কেন ঠিক আজকের দিনটি বেছে নিল? আমাকে কেন মর্মে মর্মে মনে করিয়ে দিল সেই দিনটি যেদিন আমি পরাজিত হয়েছিলাম ওর পবিত্র ভালবাসার কাছে?
এই চিঠি খুলে পড়ার বিন্দুমাত্র সাহস আমার নেই। আমি আজও এতটুকু শক্তি অর্জন করতে পারিনি যাতে ওর ভালাবসার মুখোমুখি হতে পারি। আজ এতকাল পর ওর চিঠি পড়ে কিইবা হবে যদি আমি চিঠির মাঝে লুকিয়ে থাকা ওর কান্নার জল মুছে দিতে না পারি!
তাই বয়ে চলা একলা নদী ভাসিয়ে নিক আমায় লেখা ওর শেষ চিঠি! আমায় নিয়ে ওর রচিত শব্দগুলো ভেসে চলুক মহাকালকে সঙ্গী করে। আমি নাহয় সমস্ত জীবন এই অদেখা শব্দগুলোকে নিয়ে রচনা করব নানা রঙের কল্পনা। যুদ্ধ করব অতৃপ্তিকে সঙ্গী করে বেঁচে থাকার।
‘আকাশলীনা...মহাকালকে শুন্যতায় রাঙিয়ে ভাসিয়ে দিলাম আমায় লেখা তোমার শেষ চিঠি’
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৪৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×