চৈত্রের কাঠফাটা রোদ আর সাথে ভ্যাপসা গরমের পর বিকালে যখন আকাশ গোমড়ামুখো হলো তখন থেকেই আশা করে ছিলাম নিশ্চয়ই যে কোন মুহূর্তে কেঁদে ভাসাবে আকাশ। মাঝে মাঝে আকাশের মন খারাপ হওয়াটা আমাদের জন্য খুবই স্বস্তিদায়ক।
সন্ধ্যা যখন সবে রাত হতে শুরু করেছে--- তখন হটাৎ করেই বাতাসের ঝাপটা তারপর নেমে এলো ঝম ঝম বৃষ্টি। আহা! বৃষ্টি!
হটাৎ বাতাস এলোমেলো করে দিলো আমার টেবিলময় ছড়ানো কাগজপত্র। জানালার পর্দাগুলো উড়তে লাগলো পতপত করে। ঠান্ডা হাওয়া ছুঁয়ে গেলো আমার চোখ, মুখ, খোলা চুল। কাজের বারোটা বাজলো। মনে হলো এক ছুট লাগাই বাইরে--সেই ছোট বেলার মতো। কিন্তু চাইলেই তো আর ছোটবেলায় ফিরে যাওয়া যায় না।
ঘরের আলো নিভিয়ে দিয়ে জানালায় দাড়িয়ে বৃষ্টি দেখলাম অনেকক্ষন। হাত বাড়িয়ে ছুতে চাইলাম বৃষ্টিকে। অতদূর পৌছালো না আমার হাত। দেখলাম গার্মেন্টেসের মেয়েরা কাজ থেকে ফিরছে ভিজতে ভিজতে। ওদের গল্প আর হাসির শব্দ মিশে যাচ্ছিলো বৃষ্টির টুপুর টাপুর শব্দের সাথে। বৃষ্টি হয়তো মুছে দিয়েছে ওদের সারাদিনের ক্লান্তি।
একটা লোককে দেখলাম পেপার জাতীয় কিছু একটা মাথায় দিয়ে ছুটতে ছুটতে যাচ্ছে। কিন্তু তারপরও ভিজে একসারা। কাকভেজা লোকটাকে দেখে হাসি পাচ্ছিলো খুব।
তরপর কেন জানিনা হটাৎ করেই একটা অজানা কষ্ট হতে লাগলো আমার। খোঁজার চেষ্টা করলাম কষ্টটা কিসের। কারন ছাড়া-- নাম না জানা--অচেনা একটা কষ্ট। মনে হলো--- কি যেন পাওয়ার কথা ছিলো জীবনে--যা পাওয়া হয়নি। কথা দিয়ে কথা রাখেনি কে যেন-- কি যেন হতে চেয়েছিলাম জীবনে --হতে পারিনি। মনের ভিতর ডুব দিয়ে-- অনেক ক্ষন ধরে আমার এই দুঃখ খুঁজে বেড়ানোর অনুভূতিটাকে লালন করলাম হয়ত বা।
জানিনা বৃষ্টি এমন উদাস করে কেন? এমন মন খারাপ করে দেয় কেন?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


