somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উবুন্টু ব্যাকআপ সল্যুশন : এসব্যাকআপ

২৪ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যেকোন কারনে কখনোই ড্যাটা লস হয়নি এরকম কম্পিউটার ব্যবহারকারি দুর্লভ । অপারেটিং সিস্টেমের সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে, পার্টিশন করতে গিয়ে, বেখেয়ালে অথবা হার্ড ডিস্কের কোন ফিজিক্যাল ড্যামেজের কারনেও অনেক কারনে এই ড্যাটা লস হতে পারে । নিজের এই মূল্যবান ড্যাটা সংরক্ষনের উপায় নিয়ে এজন্য সব ব্যবহারকারিদেরই ভাবা উচিত । একটা সময় ছিলো যখন একজন সাধারণ ইউজারের ড্যাটার পরিমান খুব কম ছিলো । তখন ইউজারদের কম্পিউটারে কাজের ডকুমেন্ট ছাড়া বলতে গেলে তেমন কিছুই থাকতো না । সময়ের সাথে সাথে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে । এখন ইউজারদের সাধারণ ডকুমেন্টস ছাড়াও মুভি, ছবি, সফটওয়্যার সেটিংস অনেক কিছু থাকে যেটা ব্যাকআপ করাটা একটু কষ্টসাধ্য । এগুলো ছাড়াও পিসির বিভিন্ন সেটিংস, কনফিগারেশন থাকে যেগুলোও ব্যাকআপ রাখা সম্ভব ।

তো এই ব্যাকআপ সিস্টেম গড়ে তোলাটা সহজ হয় সিডি আসার পর । একটা ছোট বহনযোগ্য ডিস্কে তখন অনেক ড্যাটা কপি করে ফেলা যেত । এরপর ফাইলসাইজ রিকয়ারমেন্ট বাড়ার সাথে সাথে বিকল্প হিসেবে ডিভিডি ব্যবহার শুরু করে ইউজাররা । তবে সাধারণ ব্যবহারকারিরা এই বহনযোগ্য সিডি/ডিভিডিতে ড্যাটা ব্যাকআপ রাখলেও এন্টারপ্রাইজ লেভেলে এটা কখনোই প্রচলিত হয়নি কিছু কারনে । কারনগুলো হলো - সিডি/ডিভিডি কোন নির্ভরযোগ্য মিডিয়াম না, এটা হ্যান্ডল করাটা অসুবিধাজনক এবং এর স্টোরেজ ক্যাপাসিটি কম ।

এই অসুবিধাগুলো ব্যক্তিপর্যায়ে ব্যাকআপ সল্যুশনেও প্রভাব ফেলে নি:সন্দেহে । সিডি বছর দুয়েক ফেলে রাখলেই এর একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়, বারবার ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়লে তাতে স্ক্র্যাচ পড়ে যেটা আস্তে আস্তে সিডিকে আনরিডেবল করে তোলে । এটা ছাড়া দরকার মতো বারবার ট্রেতে ঢোকানো বের করাও ঝামেলার । এই সমস্ত সমস্যার কারনে ব্যাকআপের জন্য হার্ডডিস্ক আস্তে আস্তে অপ্রতিদ্বন্দী হয়ে উঠছে । এছাড়া প্রতি গিগাবাইট হিসাবে হার্ডডিস্কের দামও প্রায় এক । হার্ডডিস্কের ক্ষেত্রে প্রতি ইউরোতে পাওয়া যায় ৭.৭ গিগাবাইট আর প্রতি ইউরোতে ডিভিডিতে পাওয়া যায় ৭.৪১ গিগাবাইট ।

ব্যাকআপ রাখতে হার্ডডিস্কের আরেকটা সুবিধা হলো আপনি সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপনার পছন্দমতো সিডিউল করে ব্যাকআপ প্রসেস অটোমেটেড করে রাখতে পারবেন । ভুলে গিয়ে বিপদে পড়ার সম্ভাবনাও এখানে নেই ।

লিনাক্সের জন্য ব্যাকআপ রাখার জন্য এরকম বেশ কয়েকটা সমাধান রয়েছে । আমার কাছে এর মধ্যে ব্যবহারবান্ধব মনে হয়েছে এসব্যাকআপকে (sbackup).

এসব্যাকআপ আপনি যে হার্ডড্রাইভে কাজ করেন সেই হার্ডড্রাইভেই ব্যাকআপ রাখতে পারে । তবে আমি পরামর্শ দেবো আলাদা একটা হার্ডডিস্ক ব্যবহার করার জন্য । এই হার্ডডিস্ক আপনি ইউএসবি অথবা প্রাইমারী স্লেভ বা সেকেন্ডারি মাস্টার/স্লেভ হিসেবেও কম্পিউটারে ব্যবহার করতে পারেন । ফাইল সিস্টেম এনটিএফএস হওয়াই ভালো কারন এটা ৪গিগার বেশী ফাইল সাইজ সাপোর্ট করে । এটা দরকার হবে ব্যাকআপ ফাইল ক্রিয়েট করা জন্য ।

আপনার প্রথমেই যেটা করতে হবে সেটা হলে এসব্যাকআপ সফটওয়্যারটা ইনস্টল করে নেয়া । এটার জন্য কমান্ড লিখুন এরকম -

sudo apt-get install sbackup

সফটওয়্যারাটার সাইজ ৫০০কিলোবাইট বা তার কিছু বেশী । দেশের স্লো কানেকশনেও তাড়াতাড়ি ইনস্টল হবে ।

ইনস্টল করার পরে এটা চালু করুন মেন্যুবার থেকে সিস্টেম > এ্যাডমিনিস্ট্রেশন > সিম্পল ব্যাকআপ রিস্টোর কনফিগ । চালু করলে আপনি এরকম একটা ইন্টারফেস পাবেন ।



এখানে ইউজ কাস্টম ব্যাকআপ সেটিংস সিলেক্ট করুন ।

তারপর উপরে ইনক্লুড ট্যাব ক্লিক করুন । এখানে আপনি দেখতে পাবেন কোন কোন ফোল্ডার আপনি ব্যাকআপ করবেন ।



ডিফল্ট হিসেবে /var (আপনার যেসব প্রোগ্রাম ব্যবহার করছেন সেগুলো সেটিংস ক্যাশে), /home (আপনার হোম ফোল্ডার), /usr/local (আপনার ইনস্টল করার সব প্রোগ্রামগুলো) এবং /etc(হার্ডওয়্যার সেটিংস, সফটওয়্যার কনফিগারেশন) সিলেক্ট করা থাকবে । আপনি চাইলে আরোও কিছু ফোল্ডার যোগ করতে পারেন । সেটা করতে এ্যাড ডিরেক্টরি ক্লিক করে দরকার মতো অন্য ডিরেক্টরিও সিলেক্ট করতে পারবেন । (নতুনদের জন্য - লিনাক্সের কোন ফোল্ডারে কি থাকে সেটা জানতেClick This Link target='_blank' > এখানে ক্লিক করুন ) ।

এরপর এক্সক্লুড ট্যাবে যান । এখানে দেখতে পাবেন কি ধরনের ফাইল আপনি ব্যাকআপ রাখতে চান না সেগুলোর তালিকা ।





এছাড়াও আপনি সর্বোচ্চ কত বড় সাইজের ফাইল ব্যাকআপ রাখবেন সেটাও এখানে নির্ধারণ করে দিতে পারবেন । এইখানে একটু চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন । কারন আমরা অনেক সময় অনেক ছবি ও ভিডিও রাখি হোম ফোল্ডারে যেগুলো আমরা ব্যাকআপ রাখতে চাই কিন্তু এখানে এগুলো এক্সক্লুড করা আছে । দরকার মতো ফাইল টাইপ ও সাইজ কনফিগার করে নেবেন যার যার দরকার মতোন ।

এর পরের ট্যাবটি আপনি কোথায় ব্যাকআপ রাখবেন সেটা সিলেক্ট করার জন্য ।



আমি একটা এক্সটারনাল ড্রাইভে রাখছি এটা যেটার নাম ব্যাকআপ । এছাড়া আপনি যে ড্রাইভে কাজ করেন সেখানেই বা সিকিউর শেল বা এফটিপির মতো রিমোট জায়গাতেও ব্যাকআপ করতে পারেন ।

পরবর্তী ট্যাবে ব্যাকআপ সিডিউল ঠিক করার অপশন পাবেন ।



আমি পরামর্শ দেবো প্রতিদিন আপনি একটি সময়ে ব্যাকআপটা অটোমেটেড করে রাখুন । এই ব্যাকআপ প্রসেস খুবই দ্রুত ও খুব কম রিসোর্স নেয় । আপনি টের পাবেন না কখন এটা ব্যাকআপ করছে ।

এরপর শেষ ট্যাবে আপনি পাবেন পুরনো ব্যাকআপ কিভাবে ডিলিট করে শুধু আপডেটেডটাই রাখবেন সেটা সিলেক্ট করার অপশন পাবেন ।



এতে আমি লগারিদমিক সিলেক্ট করছি । এটাতে পুরোনো ব্যাকআপ ডিলিট না করে নতুন আপডেট গুলো আলাদা আলাদা করে ব্যাকআপ নেবে । অন্য অপশনটাতে পুরোনো ব্যাকআপ ডিলিট করে তারপর নতুন ব্যাকআপ নেবে । ডিলিট করে আবার নতুন করে ব্যাকআপ নেবার সময় পাওয়ার চলে গেলে কি হবে আমি নিশ্চিত না । একারনে এটা না সিলেক্ট করতেই পরামর্শ দেবো । এছাড়া লগারিদমিক অপশনটা দ্রুত কাজ করবে কারন প্রথমবার আমার ল্যাপটপে এটা একটু সময় নিয়ে দেড় গিগার একটি পার্টিশন ক্রিয়েট করেছে । কিন্তু পরবর্তী ব্যাকআপ ফোল্ডারটা তৈরী করেছে মাত্র সাড়ে তিনশো মেগাবাইট । সিম্পল কাটঅফে প্রতিবারই প্রথমে পুরোনোটা ডিলিট করবে তারপর নতুন করে দেড় গিগাবাইট ব্যাকআপ নেবে যেটা সময়সাপেক্ষ ও বাংলাদেশের মতো পাওয়ার সিস্টেমে ঝুকিপূর্ন ।

এই সব গুলো কনফিগারেশন সেট করে সেইভ করুন । তারপর ব্যাকআপ নাউ ক্লিক করুন । একটা ব্যাকআপ শুরু হবার কনফারমেশন আসবে । সেটাতে ক্লোজ ক্লিক করুন । একটু পর চেক করুন ব্যাকআপ ফোল্ডার ।

ব্যাকআপ শেষ হলে আপনি যে ড্রাইভে ব্যাকআপ রাখছেন সেখানে একটা ফোল্ডার পাবেন । এর মধ্যে আপনি একটা files.tgz ফাইল পাবেন । এই ফাইলটা আপনার ডকুমেন্ট সাইজের ওপর নির্ভর করবে । এই ফাইলটা ৪গিগার বেশী হলে এটা FAT ফাইল সিস্টেমে ক্রিয়েট হবে না । এজন্য আপনার দরকার NTFS বা এরকম কোন ফাইল সিস্টেমে ড্রাইভ ফরম্যাট করা যাতে ৪গিগার বেশী ফাইল সেইভ করা সম্ভব হয় ।

কোন কারনে আপনার ব্যাকআপ রিস্টোর করার দরকার হলে এসব্যাকআপে খুব সহজেই আপনি ব্যাকআপ রিকোভার করতে পারবেন । প্রথম আপনার মেন্যুবার থেকে সিস্টেম > এ্যাডমিনিস্ট্রেশন > সিম্পল ব্যাকআপ রিস্টোর এ ক্লিক করতে হবে ।



তারপর রুট পাসওয়ার্ড দিলে আপনি ঠিক এরকম একটা উইন্ডো পাবেন । এখানে রিস্টোর ক্লিক করলেই ব্যাকআপ রিস্টোর হয়ে যাবে ।




আপনি ইচ্ছা করলে এই ব্যাকআপ ভিন্ন নামের ফোল্ডারেও রিস্টার করতে পারবেন । এরজন্য আপনাকে রিস্টোর এ্যাজ ক্লিক করতে হবে ।
৩০টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

...কুয়াশা মাড়িয়ে আমার অনেক রৌদ্র আছে, স্বর্ণালী প্রান্তরে... কবিতা সংকলন ও সেরা-৩০, নভেম্বর ১৬-৩০, ২০১৯!!

লিখেছেন বিজন রয়, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০১


সেরা-৩০ঃ
০১. স্বপ্নবাজ সৌরভ - অসমাপ্ত ছবি
০২. নীল আকাশ - কবিতাঃ সুন্দরী আমি, হার্টথ্রব মডেল হতে চাই! - ৩
০৩. সোনালী ডানার চিল -বিবেক, তুমি কি সহমরনের এ্যাটোমিক পিরানহা!
০৪. লাইলী আরজুমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধিনাক ধিনাক তাক ধিন আজকে দাদার জন্মদিন :)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩৬



হইহই রইরই সুর কলরব, সুখের বাজনা বাজে
হাওয়া নিয়ে এলো খবর, আজ আমাদের মাঝে
এই পরিবারে এক সদস্য নাম জানো কী বিজন?
ব্লগ বাড়িটা কেনো তবে, আজকে আছে নির্জন?



জন্মদিনের বার্তা দিতে, এলেম... ...বাকিটুকু পড়ুন

'শয়তান' চরিত্রকে সিরিয়াস বিষয়ে আনলে, বিষয়টি গার্বেজে পরিণত হওয়ার কথা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৮



আদি সাহিত্য রচিত হয়েছে কল্পিত চরিত্র সমুহকে ঘিরে; গ্রীক মাইথোলোজীর চরিত্রসমুহ ও তাদেকে ঘিরে সাহিত্য আজকের বিশ্বের জন্য অবশ্যই বিশাল বিস্ময়; গ্রীক মাইথিলোজীর উপর নির্ভর করে গ্রীক ও রোমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডায়েরির পাতাজুড়ে আমার শৈশবস্মৃতি কথন.....

লিখেছেন রুমী ইয়াসমীন, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৬



প্রায় দুই যুগ হয়ে গেল! মনে হচ্ছে এইতো সেইদিনের কথা,,,,,

দক্ষিণের জানালায় তাকিয়ে আছি ৷ শীতের হিমহিম বাতাস গায়ে এসে লাগছে৷ বন্দরের ঝাঁঝালো সোনালী আলোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনষ্টাইন এবং নিউটনের স্পেসটাইমের রোমাঞ্চকর দ্বন্দ্ব

লিখেছেন শের শায়রী, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১:১০



হাজার হাজার বছরের বৈজ্ঞানিক গবেষনা যে টাইম (সময়) আর স্পেস (মহাশুন্য) কে নিত্য এবং ধ্রুব বলে মেনে নিয়ে বিভিন্ন আবিস্কার হল, ১৯০৫ সালে আইনষ্টাইনের থিওরী অভ রিলেটিভিটি এক মুহুর্তে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×