আমার মনে হয়, ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র পরিসরে আমাদের মধ্যে 'কেয়ার' জিনিসটা এনাফ নাই। এটি বোধ হয় আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বেশীরভাগ সমস্যার প্রধান কারন।
একটু ব্যাখ্যা করি। আমরা যখন কোন সমস্যায় পড়ি, বেশিরভাগ সময় আমরা তাৎক্ষনিক, অস্থায়ী সমাধান খুজি। রাস্তায় জামে পড়েছি, নিয়ম কানুন সব ছুড়ে ফেলে, যেভাবেই হোক কোনমতে নিজে পার পেয়ে যেতে চেষ্টা করি। কোথাও লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সুযোগ পাওয়ামত আরেকজনকে ফেলে দিয়ে হলেও, নিজের কাজ করে নিতে চাই।
আমার মনে হয়, এ ধরনের প্র্যাক্টিস আমাদের অভ্যাস হয়ে যাওয়াতেই, কোন সমস্যায় পড়লে, তা নিয়ে ভালভাবে চিন্তা না করেই সমাধান করার চেষ্টা করছি। আর তাতে স্থায়ী সমাধান না হয়ে, বরং স্থায়ী আরো অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদু্যৎ, পানি বিল অস্বাভাবিক ভাবে কখনো বেশী আসলে, আমরা তা নিয়ে কমপ্লেন না করে, কিছু ঘুষ দিয়ে ব্যবস্থা করে নিচ্ছি। পাসপোর্ট অফিসে কাজ আদায় করার জন্য আমরা সার্ভিস চার্জেরও দ্্বিগুন ঘুষ দিচ্ছি। আগোরা বা বড় শপিং মলে আমরা নিরাপদ শপিং করার জন্য দুইবার ট্যাক্স দিচ্ছি। ফলাফল হচ্ছে, সব ক্ষেত্রে দূনীর্তিবাজদের সৃষ্টি হচ্ছে (তারা জন্মসূত্রে অবশ্যই দূনীর্তিবাজ হয়ে জন্মাচ্ছে না) এবং তারা ঘুষ ছাড়া আর কাজ করছেনা এবং আমরা ন্যায্য সার্ভিস পেতেও লাগামহীনভাবে ঘুষ দিতে হচ্ছে।
বলছিলাম আমাদের কেয়ার নিয়ে। আমরা ঠিকভাবে কেয়ার করিনা বলেই, দূনীর্তিতে 5 বার টানা চ্যাম্পিয়ন হবার পরও, 5টা বিক্ষোভ মিছিল বের হয়না, 63 টি জেলায় একযোগে বোমা ফাটার পরও, 32 টি জেলায় একযোগে কঠোর কোন প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন হয়না। রাস্তাঘাটে চোখের সামনে পুলিশ সহ সব সার্ভিস প্রোভাইডারদের অন্যায় আচরন দেখেও আমরা মুখ বুজে চলে আসি। গুলশান লেক কিছুদিন পরপর এক দেড় মাসের জন্য নর্দমায় পরিনত হয়, তার 200 ফুট দুরে দিয়েও হাটা যায়না। চিনির দাম 53 টা হলেও আমরা একযোগে চিনি বর্জন বা এ জাতীয় কোন বিক্ষোভ কর্মসূচি নেই না। প্রচন্ড হর্ন তুলে লালু সালু ফালুরা মার্সিডিজ নিয়ে রাস্তা কাঁপিয়ে যায় (হর্ন দেয়া কতখানি ক্ষতিকর তা এই নিবের্াধগুলো জানে না?), আর আমরা কানে হাত দিয়ে কোন মতে রাস্তা পার হয়ে যেতে চাই। সন্ত্রাসী হামলায় কোলের বাচ্চা মারা যায়, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আল্লার মাল আল্লা নিয়ে গেছে, সে আবার বানিজ্যমন্ত্রী হয়, এবং সবখানে দেশের স্বার্থ আদায়ে ফেল করে, তবু আমদের রক্তে আগুন ধরে উঠেনা (আমরা গাধাটাকে কানে ধরে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলতে পারিনা)।
ভাবছিলাম ক্ষুদ্র পরিসর নিয়ে লিখব। তাই আবার ব্যক্তিপযর্ায়ে ফিরে আসি। আমরা যদি একটু মনোযোগ দিয়ে সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবি, সর্টকাট নিয়ে না মরে চিরস্থায়ী সমাধানের উপায় করি, তবে তা আমাদের সাশ্রয় করবে অনেকগুন- ব্যক্তি, সমাজ, জাতীয় সবক্ষেত্রেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

