somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার লেখালেখি

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এবার আসা যাক। লিখব কেন, লিখি কেন? প্রতিটি ভাষায় অজস্র মণি মুক্তো। বাংলাতে আছে এ রকমই সীমাহীন প্রাচুর্য। তাহলে লেখক আরও কেন লিখছে?
যদিও এর চেয়ে সহজ উত্তর আর হয় না যে ভাবাতে ভাবতে লেখক লিখে যায়।
সে গল্প কবিতা গান নাটক উপন্যাস প্রবন্ধ ইত্যাদি যাই লেখা হোক না কেন তার প্রধান লক্ষ্য হল নিজস্ব উপলব্ধি তুলে ধরা। সঠিক সিধান্তে লেখা এবং পাঠককে পৌঁছে দেওয়া। অনেক রহস্য কাহিনীর শেষে রহস্যভেদ করা। এই উপলব্ধি যদি পাঠকের থই না পায় তাহলে লেখার সার্থকতা আসে না।
তাই যে লেখার আগে অথবা লিখতে লিখতে অথবা লেখনীতে সেই উপলব্ধি লেখককে তৈরি করে নিতে হয়।
এই উপলব্ধিতে পৌঁছানোর সবচেয়ে সহজ অথচ কঠিন হল জীবন নিরীক্ষণ। যতটা পারপার্শ্বিকে চেনা যায় চিনে নিতে হবে। চিনতে চাইলেই চেনা যায় না তাই জীবনকে চেনার জন্য পূর্ববর্তী বা সমসাময়িক চিহ্নিতকরণীকগণের সহযোগিতা নিতে হয়। অর্থাৎ বই পড়তে হবে। তথ্যের সাথে তত্ত্বের মেলবন্ধন ঘটাতে হবে। তবেই না উপলব্ধি তৈরি হয়।
যেমন ধরুন একটা খুন হল। এখানে তিনটে পরিস্থিতি প্রথম যে খুন হয়েছে, দ্বিতীয় যে খুন করেছে তৃতীয় সামনে দেখা। লেখক বা ভাবানু কোন পথ নেবে। কেউ হঠাৎ খুন হয় না। কেউ হঠাৎ খুন করে না।সামনে যা দেখা যায় তা বুঝে ওঠা যায় না। তাহলে সবার দিক বিশ্লেষণে লেখক চাইবে গোলাপ ফোটাতে। এই গোলাপ ফোটানোর উপলব্ধি উপদেশ নির্দেশ কেউ শুনবে না। তাই চেনা ছকে অথচ অচেনা আঙিনায় তাকে তুলে ধরতে হবে।
এই তুলে ধরার উপস্থাপনাটাই আসল মুন্সিয়ানা। সেখানে ভাবুক কেরামতি। উপলব্ধির অপার আকাশ সংস্থান। সেটুকু বোঝাতে কেউ গল্পের আকারে কেউ কবিতার আকারে, কেউ উপন্যাসের আকারে লেখে। বর্তমানে শুরু হয়েছে অণু আকারে। আসলে উপলব্ধি বহুরাস্তা পেরিয়ে আরও সাবলীল সঙ্গত এবং টু দি পয়েণ্ট হয়ে উঠছে। তাই অণু এক পেরিয়ে অনেকের হাত ধরে এগিয়ে চলেছে।
শ্রদ্ধেয় বনফুল এই সঠিক উপলব্ধি কয়েকটা বাক্যেই তুলে ধরে গেছেন যা সর্বাংশে অফুরন্ত বার্তাবাহী। অণুকবিতায় তাও আভাষবিহীন অন্ধকার থাকে। কিন্তু সঠিক মুন্সিয়ানায় অণুগল্প বুকের ভেতরে আত্মপ্রসাদ দান করে।
এবার ধরা যাক আমি কেন লিখি? আমি কি সে রকম পারি? আমার প্রথম উত্তর না, একটুও পারি না। তাও কেন লিখি? আমি কি কবি সাহিত্যিক লেখক বিশারদ জ্ঞানী বুদ্ধিজীবী? না, আমি কিছুই না। তাও লিখি। কেন না আমি নিজেকে নিজে ভাবি। বিচার করি। ভুল করা বিশ্লেষণ। আবার ভুল করি। না জানা জানতে চেষ্টা করি। জানাতে চেষ্টা করি।
অবসর এলে মানুষ কি করে? আড্ডা মারে। যে যার বৃত্তে নিজস্ব তৈরি করে অবসর কাটায়। আমি সে সময়টা লিখি। আগে কাগজ নষ্ট করতাম, এখন নেট খরচ করি আর লিখি। ভুল ঠিক যাই হোক লিখি। অন্য অনেক কাজের মত এটা করি। হয়তো ভাল করতে পারি নি। কিন্তু খারাপ হয়ে যায় কি? সেটাও ভাবি লিখি।
রবীন্দ্রনাথ নজরুল সুকান্ত শীর্ষেন্দু জয় সুনীল এঁরা কেউ অনেক জানি অনেক ভাবি ভাবাব ভেবে লেখা শুরু করে নি। উপলব্ধির মাত্রায় নিজেরা নিজেদেরকে উচ্চতায় তুলে নিয়ে গেছেন। সে উচ্চতায় আমি উঠতে পারব না তাকাবও না। কিন্তু চেষ্টার মধ্যে আর যাই থাক কোন অমঙ্গল নেই। তাই লিখি। লিখতে শুরু করে পড়ি। পড়ার মাঝে নিজেকে নিজে বুঝাই। ভাঙি গড়ি। তাই আবার লিখি।
এই ভাবনার মধ্যে অন্তত একজনকেও যদি ভাবাতে পারি তাহলেও তা হবে সামাজিক মঙ্গল। যাই করি না তার মধ্যে ভাবনা আছে। ভাবানো আছে। ভাবানু আছে। তাই যে কোন কর্মের অবস্থান পারে লেখা আছে। লেখায় উপলব্ধি মিশিয়ে দেওয়া আছে। আর সেই উপলব্ধির উপস্থাপনাই আসল লেখনী। কেউ তাকে প্রকাশ করতে পারে কেউ পারে না।
তাহলে হিসেবে দাঁড়াল সবাই লেখক। তাই আমি লেখক।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:৩৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইন দ্যা শ্যাডোস অব ইল্যুশন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮



রাজধানীর নিঝুম আবাসিক এলাকার তিনতলা ফ্ল্যাটের শোবার ঘরটি তখন ক্রাইম সিন টেপে ঘেরা। ধুলো জমে থাকা এয়ার কন্ডিশনারের শব্দের মাঝে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রক্তের হালকা সোঁদা গন্ধ।

পিবিআই ইনভেস্টিগেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭


মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

একসময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানুষকে ভাবতে হতো। বই খুলতে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো, কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হতো, ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৬


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেম....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১০



সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেমঃ সমর্থনের জায়গা থেকেই কিছু কঠিন কথা.....

ছয় মাস খুব দীর্ঘ সময় নয়- কিন্তু একটি সরকারের দিকনির্দেশনা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কিছুটা ধারণা পাওয়ার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পাঠের সওয়াব

লিখেছেন শিমুল মামুন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬


লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এর ফজিলত ও সওয়াব অনেক বেশি। আমলটি করার ব্যাপারে হাদিসে অনেক বর্ণনা এসেছে।

সাগরের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফ হয়
আবদুল্লাহ ইবনে আমর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×