দি এশিয়া ফাউন্ডেশন পরিচালিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট কাইমেট ফান্ডের সহায়তায় স্থানীয় অর্থনৈতিক সুশাসন কর্মসূচীর অধীনে ডিপিপিডি কোনো প্রচলিত ধরনের সংলাপ নয় যা শুধু আলাপ-আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। বরং প্রচলিত ধারনা কাঠামোর বাইরে যেয়ে স্থানীয় অর্থনৈতিক সুশাসন এবং বিনিযোগ বান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পথে যেসব প্রতিবন্ধকতা, অন্তরায় বা বাধাসমূহ আছে সেগুলো চিহ্নিত করে তা দূরীকরণের লক্ষে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে সকলের সমন্বিত উদ্যোগ এবং প্রচেষ্ঠার মাধ্যমে কাজ করে। অধিকন্তুু ডিপিপিডি পূর্বের যেসব উদ্যোগ এবং প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি অনুসন্ধানি দৃষ্টি দিয়ে তার কারণ চিহ্নিত করে এবং সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সেসব উদ্যোগ সফল করার লক্ষে কাজ করে। এই যে ডিপিপিডির সামগ্রিক আয়োজন তার মাধ্যমে একটি টেকসই পাটাতন নির্মিত হবে যা মোটাদাগে ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের কন্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা পালন করবে এবং ব্যবসায়ী স¤প্রদায়ের কল্যাণে ও বিনোয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যাবে, এটাই কর্মসূচীর লক্ষ্য।
বরিশালে অনুষ্ঠিত বিগত ৩টি ডিপিপিডির উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে রয়েছে বেশ কিছু উধাহরন, যেমন- প্রদত্ত ট্রেড লাইসেন্স-এ ব্যবসা শুরুর তারিখ উল্লেখ করা, তথ্য কেন্দ্র এবং ব্যাংক বুথ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহন, আর নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত স্টল বরাদ্দ ও পোল্ট্রি ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক পোল্ট্রি খামার রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় আনার আনুপাতিক হার বৃদ্ধি এবং রেজিষ্ট্রিকৃত খামারকে সার্টিফিকেট প্রদানের সিদ্ধান্তও ডিপিপিডি আয়োজনের ফসল। ডিপিপিডির মাধ্যমে জন্ম নেয়া ডিস্ট্রিক্ট উইমেন বিজনেস ফোরাম (ডিব্লিউবিএফ) নিজেই একটি চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বরিশাল জেলায়। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান মাননীয় গভর্নর-এর সাথে সাক্ষাত-এর মাধ্যমে বরিশাল অগ্রনী ব্যাংকের বটতলা শাখায় নারী উদ্যোক্তা ডেস্ক স্থাপনে সক্ষম হয়েছে একই সাথে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ প্রাপ্তি করেছে সহজতর এবং স্বাচ্ছন্দময়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তরগুলোর সহযোগিতা ছিল সমান্তরাল।
ডিপিপিডির একটি শক্ত ভীত বরিশালের জনপ্রতিনিধি এবং মিডিয়াকর্মীগন। ওয়ার্ড কাউন্সেলর থেকে মাননীয় সংসদ সদস্যগন এবং মাননীয় মেয়র মহদয় আকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে এই সংলাপের অগ্রগতি এবং সফলতায়। কখনো উপস্থিতী নিজ জেলায় এমনকি প্রয়োজনে জাতীয় পর্যায়ের সভায়, কখনো সার্বিক বিবেচনায় ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহনে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনায়। আর প্রতিটি ডিপিপিডিতে মিডিয়াকর্মীদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন-ই প্রমান করে তাদের আগ্রহ এবং দায়িত্বশীল খবর প্রচারনা প্রমান করে তাদের অংশীদারিত্ব। বরিশালের চেম্বার অব কমার্স-সহ অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো ডিপিপিডি’র প্রাণ, যাদের জন্য ডিপিপিডি- ডিপিপিডির জন্য যারা। মূল নেতৃত্ব এবং অগ্রযাত্রার সমন্বয়ক।
ত্রৈমাসিক এই সংলাপ থেকে ক্রমেই উঠে আসছে এমন কিছু সমস্যা যা, স্থানীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়; যা জাতীয় পর্যায় বা নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। চতুর্থ সংলাপ আয়োজনের প্রাক্কালে ধারণা করা যাচ্ছে এ রকম কিছু ইস্যু সামনে চলে আসছে এ বারের সংলাপে- ব্যবসা ও বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশে নিশ্চিত করতে। এসব ক্ষেত্রে মাননীয় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা আরো বেগবান করার সময় এসেছে। সংসদে এ সকল ইস্যু নিয়ে, দল-মত নির্বিশেষে বরিশালের বানিজ্য সম্ভাবনা রক্ষার স্বার্থে, ঐক্যমত্যের প্রকৃত উধাহরন তুলে ধরবেন এ কামনা বরিশালের সকল শ্রেণীর ব্যবসায়ীসহ সুশীল সমাজের। তারা আশা করছেন, আগামী ১৯ মে, ২০১০ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য সংলাপে সকল দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্যগন উপস্থিত থাকবেন, উপস্থিত থাকবেন মাননীয় মেয়র মহদয়- বরিশাল জেলার উন্নয়নের স্বার্থে। একেকটি জেলার উন্নয়ন, প্রকারন্তে সমগ্র বাংলাদেশেরই উন্নয়ন। আর উন্নত বানিজ্য-ই গড়তে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
১৪মে, ২০১০ বরিশাল থেকে দৈনিক সত্যসংবাদ-এ প্রকাশিত।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০১০ বিকাল ৩:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


