somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি শাড়ি ও মধ্যবিত্তের গল্প

১১ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আঞ্জেরার মার মন টা আজ সকাল থেকে অসম্ভব রকম ভালো। সে কিছুক্ষণ পর পর তার পান খেয়ে বিশ্রী রকমের লাল হয়ে যাওয়া নোংরা দাঁত গুলো বের করে হাসছে, আর সকালে কাজে আসার সময় কিনে আনা গুলের ডিবিটা থেকে বেশ দিলদরিয়া ভাবে দাঁতের ফাকে গুজে দিচ্ছে গুল। পাঁচ টাকার গুলে যে তার দুদিন চালাতে হবে, আজ সে কথা তার মনেই নেই। আজ সে বেজায় খুশি। গতকাল রাতে ছোট আপা মনির বিয়ে ছিল। বড় লোকের বিয়ে, প্রচুর উপহার উঠেছে। খালাম্মা উপহারে উঠা বেশ কিছু শাড়ি আলাদা করে রেখেছেন। শাড়ি গুলোর কোয়ালিটি ভালো না, তাই আপা মনি পরবেন না। আঞ্জেরার মাকে শাড়ির কাছে ঘুর ঘুর করতে দেখে, খালাম্মা বলেছেন বেছে একটা শাড়ি নিয়ে নিতে। সে বেশ কয়বার সিদ্ধান্ত বদল করে, শেষ পর্যন্ত নীলের উপর কাজ করা একটা বেছে নিয়েছে।

রফিক সাহেবের মেজাজটা আজ করলার মত তিতকুটে হয়ে আছে। মাসের শেষ দিন আজ। সকালে অফিসে এসেই মনে পড়েছে আজ বসের মেয়ের বিয়ে। ছোটোনের টিউটরের বেতন দেবার জন্য মানি ব্যাগের শেষ বড় নোট টা রেখে এসেছেন জেনেও, তিনি মানি ব্যাগ টা আবার বের করলেন। মানি ব্যাগটা তাকে কিছু খুচরা আর একটা বড় দীর্ঘ শ্বাস ছাড়া কিছুই দিতে পারলো না। বিনা উপহারে দাওয়াতে হাজির হবার বিড়ম্বনা মনে হতেই তার চিন্তা গুলো ধোঁয়াটে হয়ে এলো। তিনি সেল ফোনের বোতাম চাপলেন, ওপাশ থেকে উত্তর এলো,

“তুমি কি অফিসে পোঁছে গেছো?”

“হুম, ছোটোন স্কুলে গেছে?”

“হ্যাঁ”

বিপদ থেকে রক্ষা পাবার শেষ সুযোগটাও বোধহয় গেলো !

“হ্যালো, আর কিছু কি বলবে?”

“না, বলছিলাম কি, আজ রাতে আমার বসের মেয়ের বিয়ে, দাওয়াতটার কথা আমার একদম মনে ছিলো না।”

ওপারে খানিকক্ষণ নিস্তব্ধতা,

“এক কাজ করো, এবার ঈদএ আমাকে যে শাড়িটা দিয়েছিলে, আমি রেখে দিয়েছি, কোন অনুষ্ঠানে পড়বো বলে......।”

“আহ, তুমি এটা কি বলছো! এতো শখ করে কিনেছো!”

“ও নিয়ে তুমি ভেবো না...।”

রফিক সাহেব ফোন টা রাখার আগে মৃদু আপত্তি করলেও, মনে মনে চরম একটা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললেন।

সিগারেটের শেষ টানের ধোঁয়া টুকু ছাড়তে ছাড়তে মধ্যবিত্ত জীবনের এক বিশাল ক্রান্তি লগ্ন থেকে উদ্ধার পাবার প্রশান্তি নিয়ে তিনি তার ছোট্ট ডেস্কে ফিরে গেলেন।।

২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×