কারো কারো মাথার মধ্যে এক একটা জিনিস ঢুকে যায়। অতঃপর সে মনে করা শুরু করে এটাই একমাত্র সহী। তখন অন্যগুলোকে অবমূল্যায়ণ করা শুরু করে।
কারো মাথার মধ্যে মাদ্রাসা ঢুকে যায়।
কারো মাথার মধ্যে দাওয়াত ও তবলিগ ঢুকে যায়।
কারো মাথার মধ্যে তাসাউফ ঢুকে যায়।
কারো মাথার মধ্যে জিহাদ ঢুকে যায়।
কারো মাথার মধ্যে কিতাল ঢুকে যায়।
কারো মাথার মধ্যে কেবলই নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত ঢুকে যায়।
কারো মাথার মধ্যে ফেসবুক ঢুকে যায়।
অতঃপর সে মনে করে দ্বীনের জন্য তার মেহনত অধিকতর মূল্যবান। অন্যদের মেহনত তখন তার কাছে পছন্দনীয় বা জরুরী মনে হয় না। নিজের মেহনত তার চোখে শোভন বা সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ধরা দেয়। সে অহংকারী হয়ে পরে।
শয়তানকে প্ররোচনা দেয়ার জন্য অন্য কোন শয়তান লাগে নাই। এই আমিত্ব ও অহংকার শয়তানকে শয়তানে পরিণত হয়েছিল।
আফসোস! পরিতাপ আমাদের জন্য!! আমরা মুসলমান হয়েও নিজের নফসকে কুরবানী করতে পারছি না। হযরত ইবরাহীম য়ালাইহিস সালাম থেকে আমরা কি শিক্ষা গ্রহণ করলাম। অথচ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছি। ভয় হয় শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে না আবার শেষ পর্যন্ত জাহান্নামে চলে যাই।
আমাদের কারো কোন মেহনত দ্বীনের জন্য প্রয়োজন নেই। আমরা মেহনত করি আমাদের জন্য। দ্বীন আমাদের মুখাপেক্ষী নয়। আমরা দ্বীনের মুখাপেক্ষী। আমার মত দুই-দশজন, দুই-দশ লাখ, দুই-দশ কোটি এমনকি আমরা কেউই না থাকলেও দ্বীনের কোন ক্ষতি হবে না।
আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত হবে না কুরআনের ঘোষণাঃ
۞يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ أَنتُمُ ٱلۡفُقَرَآءُ إِلَى ٱللَّهِۖ وَٱللَّهُ هُوَ ٱلۡغَنِيُّ ٱلۡحَمِيدُ
"হে মানুষ, তোমরা তো আল্লাহ তায়ালার গলগ্রহ (অত্যন্ত গরীব)। আল্লাহ তায়ালাই ধনী ও প্রশংসার্হ"। (সূরা ফাতিরঃ আয়াত ১৫)
একই সূরায় আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন বলেন,
إِنَّ ٱلشَّيۡطَٰنَ لَكُمۡ عَدُوّٞ فَٱتَّخِذُوهُ عَدُوًّاۚ إِنَّمَا يَدۡعُواْ حِزۡبَهُۥ لِيَكُونُواْ مِنۡ أَصۡحَٰبِ ٱلسَّعِيرِ
"শয়তান তোমাদের শত্রু। অতএব তোমরা তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ কর। সে তার দলদলকে এজন্যই ডাকে যেন তারা জাহান্নামে প্রবেশ করতে পারে"। (সূরা ফাতিরঃ আয়াত ৬)
অতএব আমার ভাই, দোস্ত, বুজুর্গ। প্রতিটা মেহনতই দ্বীনের কাজ। দ্বীন নামক বৃক্ষের এক একটি শাখা। এ শাখার মেহনত বেশী গুরুত্বপূর্ণ না ঐ শাখার মেহনত - এ আলোচনায় সময় নষ্ট না করে যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের জন্য নীরবে, নিভৃতে য়ামল করে যেতে থাকি।
আর নেতৃত্ব কে দিবে, মাদ্রাসা ওয়ালারা, না তবলিগ ওয়ালারা, না পীর সাহেবেরা, না মুজাহিদরা এ প্রশ্ন অবান্তর। নেতৃত্ব আল্লাহ তায়ালা যাকে দিয়ে দেওয়াবেন সেই নেতৃত্ব দিবে। যদিও সে গোলাম হয়, যদিও তার মাথা কিসমিসের মত ছোট হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



