বাবলু কলেজ লাইফ থেকেই আমাদের বন্ধুমহলে কম্পিউটার এক্সপাটর্ হিসাবে পরিচিত। তার শয়নে-স্বপনে কম্পউটার গেমস। তবে বাবলুর সমস্যা একটাই তা হলো কোন গেমস-ই সে শেষ করতে পারে না। অজানা কারনে শেষ স্টেজে এসে সে আটকে যায়। তখন আমাদেরকে লাস্ট স্টেজ পার করে দিতে হয়। আর একটা বিশেষত্ব ছিল বাবলুর তা হলো জনপ্রিয় যাবতীয় কম্পিউটার গেমসে ব্যর্থতা। যেমন ল্যান বেজড গেমসের মধ্যে আমাদের হলে জনপ্রিয় ছিল ফিফা 98, এন এফ এস 2, আনরিয়েল ও স্টার ক্রাফট। কোন এক অজানা কারনে বাবলু এই গেমসগুলোতে ছিল চরমভাবে ব্যর্থ। এই ব্যর্থতা ঢাকতে সে বিচিত্র সব অজুহাত দাঁড় করাত। যেমন- ফিফা 98 মানুষ খেলে?সাহস থাকলে ফিফা 2002 তে আয়। এন এফ এস 4-এ আয়...দেখি কত ভালো খেলিস? আমার টিমে সব ফালতু প্লেয়ার থাকায় আনরিয়েলে হেরে গেলাম। পারলে একলা আয় খেলতে দেখায়ে দিব। আর স্টার ক্রাফটে খেলা শুরুর আধঘন্টার মধ্যে সুইসাইডাল মিশনে নেমে বলত এই খেলা মানুষ খেলে? বলাই বাহুল্য বাচ্চা পোলাপানের সাথে কথা বাড়িয়ে আমরা সময়ক্ষেপন করতাম না।
যাইহোক বাবলুর কনফেসড ভালোবাসার পাত্রী ছিল মুনি্ন । মুনি্ন ছিল আবার আমাদের কলেজের সহপাঠী। ক্লাসে বাবলু-মুনি্নর বসার সহান ছিল পাশাপাশি। দু'জনের বাসার দূরত্ব ছিল হাঁটাপথ। সবদিক মিলিয়ে বাবলু-মুনি্ন উপাখ্যান লাইলী-মজনুর চেয়ে কম ছিল না।কিন্তু বাবলুর কিছু চারিত্রিক সমস্যা ছিল বা মেয়েরা ওর প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হত। আমার জানামতে মুনি্ন ছাড়াও বাবলু একাধিক মেয়ের সাথে নিজের বেডরুমে বাবা-মার বাড়িতে উপসিহতি সত্ত্বেও একান্তে সময় কাটিয়েছে।মুনি্নর বিষয়টা ওপেন সিক্রেট হলেও বাবলু বরাবরই সেটা অস্বীকার করে এসেছে এবং আজও আসছে। একসাথে রিকশা চড়ে কোথাও যাওয়ার সময় বা রমনা পার্কে প্রেমরত অবসহায় ধরা না খেলেও ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে দৃষ্টি বিনিময় ও মুনি্নর বাবলুর প্রতি মাত্রাতিরিক্ত দুর্ব লতা ঘটনা ফাঁস করে দিয়েছিল। যেমন ঈদের দিন মুনি্নর বাড়িতে গেলে বাবলু লাভ করত জামাই আদর। আর আমরা হতভাগারা থাকতাম উ পেক্ষিত। বাবলুর খাদ্যগ্রহনের সময় হবু শ্বাশুড়ি আম্মার ঘন ঘন তদারকি আর মুনি্নর প্রায় খাবার মুখে তুলে খাইয়ে দেয়া দেখে আমাদের ঈর্ষ া হত বৈকি। মাঝে মাঝে মনে হত শালার প্রেমই করে গেলাম ভালোবাসা পেলাম না।
বাবলুকে নিয়ে আমাদের বন্ধুমহলে সবারই অনেক অম্ল-মধুর স্মৃতি আছে। তার কারন বাবলু নিজেই। যেমন 3 বার টাইটানিক দেখে ফেলার পরও সমবয়সী খালাত বোনদের সাথে ঐ মুভি দেখার কোন যুক্তি নেই। আমাদের যুক্তিবিদ বাবলু সেই যুক্তিহীন কাজটি করে ফেললেন খালার বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়ে। লিওনার্দো-কেট উইন্সেলেটের চুম্বন দৃশ্য খালাত বোনদের সাথে দেখে ফেললেও কেট উইন্সলেটের নগ্নদেহ আত্নীয়-স্বজনের সাথে দেখা সম্ভব নয় বলে বাবলু সেই বিশেষ মুহুর্তে টয়লেটে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। টয়লেটে মোটামুটি মিনিট বিশেক কাটিয়ে এসে দেখে তার প্রাণপ্রিয় খালাত বোনেরা তার অনুপসিহতিতে মুভি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেট উইন্সলেটের নগ্ন দেহ একসাথে দর্শনের বিড়ম্বনার সাথে যোগ হয় মানুষের বাসায় 2 নম্বর টয়লেট সারার বিড়ম্বনা। তার দীর্ঘসময় টয়লেটে অবসহানে সবার ধারণা জন্মে যে দাওয়াতের খানা-পিনাতে বাবলুর পেটে বিশেষ বিক্রিয়া হয়েছে। এই দুই বিড়ম্বনার পর জ্যাক-রোজের শারিরীক সমপর্ক সহাপনের সময় সে আর কোন অজুহাত না খুঁজে চুপচাপ সিনেমা দেখার সিদ্ধান্ত নেয়।
(আগামী পর্বে সমাপ্ত)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১০:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


