somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফুটবল থেকে অবসর

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খেলাধুলা আমার খুব পছন্দের বিষয়। জীবনে অনেক রকমের খেলাই খেলেছি। ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস, স্কোয়াশ, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল.........আর এদেশে এসে রাগবি, গলফ.......মাঝে মাঝে মনে হয় খেলার রাজ্যে আর কিছু মনে হয় বাকি নেই। জনপ্রিয় খেলাধূলা আমাকে বরাবরই বিকর্ষণ করেছে। এর মূলে রয়েছে সম্ভবত আমার প্রতি আমার বন্ধুদের বর্ণবাদীমূলক আচরন। আমার স্বাসহ্য ছোটবেলা থেকে মাশাল্লাহ ভালো হওয়ায় খেলার মাঠে কিছু অযাচিত সুবিধা লাভ করতাম। ফুটবলে আমি পায়ের অগ্রভাগ দিয়ে সারাজীবন লাথি মেরে গেছি। এজন্য আমার নিক নেম ছিল "আগারু"। অনেকবার পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের নখ উপড়ে ফেলেছি আমি বলে লাথি দিতে গিয়ে। কিন্তু আমার সাথে খেলা সবাই স্বীকার করবে আমার শটের গতি ও এ্যাকুরেসির কথা। একবার খেলার সময় আমাদের জনৈক বড় ভাইয়ের মুখে আমার তীব্রগতির শট আঘাত করে। কপাল খারাপ থাকায় বেচারা ছিল চারচোখা। ফলাফল: চশমা ভেঙ্গে একাকার, তবে কপাল ভালো থাকায় উনার চোখের কিছু হয় নি।এই ঘটনার পর আমার "আগা শট"কে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয় ও আমাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। শর্ত হলো খেলতে চাইলে আমাকে গোলকিপিং করতে হবে। এই রকম ন্যাদা পোলাপানের কাজ আমার পক্ষে করা সম্ভব না দেখে আমি ফুটবল খেলা ছেড়ে দেই সেদিন।

অনেক বছর পর ইউনিভার্সিটির মাঠে একদিন দেখি পোলাপান বৃষ্টির মাঝে ফুটবল খেলছে। নেমে পড়ি খেলতে। ভালোই লাগত। মাস কয়েক পর আমার নখ দিয়ে শট করাটা পোলাপানের চোখে পড়ে গেল। ব্যাস, আর পায় কে? অন্যকে খোঁচা মারার অভ্যাস তো বাঙ্গালীর জন্মগত রোগ। একজন তো ঘোষনা দিয়ে বসল, এই রকম খেলোয়াড়ের সাথে নাকি খেলা যায় না। ছোটবেলায় বর্ণবৈষম্যের কথাটা হঠাৎ মনে পড়ে গিয়েছিল। তাই জীবনে দ্্বিতীয় ও শেষবারের মতো ফুটবল খেলা থেকে অবসর নিয়ে ফেলি।

আমার জীবনের একটা বড় সময় আমি ব্যয় করেছি স্কোয়াশ ও বাস্কেটবলের পিছনে। উপযুক্ত ট্রেনিং পেলে অনেকদূর যেতে পারতাম বলেই আমার ধারনা ছিল।কিন্তু একসময় বুঝতে পারলাম এইসব খেলাধূলা করে বাংলাদেশে কোন ভবিষ্যত নেই। তাই নিজের অজান্তেই ছেড়ে দিয়েছি এসব খেলা। এখন আর তেমন খেলাধুলা করা হয় না। মাঝে মাঝে মন বেশি খারাপ থাকলে গলফ খেলতে যাই, আর গলফ বলের উপর মনের ঝাল ঝাড়ি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, খানিকক্ষন পিটাপিটি করলে রাগ কমে যায়। হুমায়ূন আহমেদ তার বহুব্রীহি নাটকে রেগে গেলে গ্লাস ভাঙ্গার থিওরিটা মন্দ দেন নি। ধ্বংসাত্নক যে কোন কিছুই রাগ কমাতে সাহায্য করে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:১০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধার-দেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল কেন গুরুত্বপূর্ণ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৭



ব্যক্তিগতভাবে আমি কাউকে টাকা ধার দেওয়ার পক্ষপাতী নই। কারণ বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ধার দেওয়া টাকা সময়মতো বা সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক ক্ষেত্রেই কম থাকে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনশন আপডেট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭

আগামী শুক্রবার জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ব্যারিস্টার সুমন ভাইয়ের মুক্তির দাবীতে ১ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি করার লক্ষ্য স্থাপন করেছি। এই ১ ঘণ্টা আমি কোন খাবার বা পানীয় গ্রহণ করবো না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×