খেলাধুলা আমার খুব পছন্দের বিষয়। জীবনে অনেক রকমের খেলাই খেলেছি। ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস, স্কোয়াশ, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল.........আর এদেশে এসে রাগবি, গলফ.......মাঝে মাঝে মনে হয় খেলার রাজ্যে আর কিছু মনে হয় বাকি নেই। জনপ্রিয় খেলাধূলা আমাকে বরাবরই বিকর্ষণ করেছে। এর মূলে রয়েছে সম্ভবত আমার প্রতি আমার বন্ধুদের বর্ণবাদীমূলক আচরন। আমার স্বাসহ্য ছোটবেলা থেকে মাশাল্লাহ ভালো হওয়ায় খেলার মাঠে কিছু অযাচিত সুবিধা লাভ করতাম। ফুটবলে আমি পায়ের অগ্রভাগ দিয়ে সারাজীবন লাথি মেরে গেছি। এজন্য আমার নিক নেম ছিল "আগারু"। অনেকবার পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের নখ উপড়ে ফেলেছি আমি বলে লাথি দিতে গিয়ে। কিন্তু আমার সাথে খেলা সবাই স্বীকার করবে আমার শটের গতি ও এ্যাকুরেসির কথা। একবার খেলার সময় আমাদের জনৈক বড় ভাইয়ের মুখে আমার তীব্রগতির শট আঘাত করে। কপাল খারাপ থাকায় বেচারা ছিল চারচোখা। ফলাফল: চশমা ভেঙ্গে একাকার, তবে কপাল ভালো থাকায় উনার চোখের কিছু হয় নি।এই ঘটনার পর আমার "আগা শট"কে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয় ও আমাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। শর্ত হলো খেলতে চাইলে আমাকে গোলকিপিং করতে হবে। এই রকম ন্যাদা পোলাপানের কাজ আমার পক্ষে করা সম্ভব না দেখে আমি ফুটবল খেলা ছেড়ে দেই সেদিন।
অনেক বছর পর ইউনিভার্সিটির মাঠে একদিন দেখি পোলাপান বৃষ্টির মাঝে ফুটবল খেলছে। নেমে পড়ি খেলতে। ভালোই লাগত। মাস কয়েক পর আমার নখ দিয়ে শট করাটা পোলাপানের চোখে পড়ে গেল। ব্যাস, আর পায় কে? অন্যকে খোঁচা মারার অভ্যাস তো বাঙ্গালীর জন্মগত রোগ। একজন তো ঘোষনা দিয়ে বসল, এই রকম খেলোয়াড়ের সাথে নাকি খেলা যায় না। ছোটবেলায় বর্ণবৈষম্যের কথাটা হঠাৎ মনে পড়ে গিয়েছিল। তাই জীবনে দ্্বিতীয় ও শেষবারের মতো ফুটবল খেলা থেকে অবসর নিয়ে ফেলি।
আমার জীবনের একটা বড় সময় আমি ব্যয় করেছি স্কোয়াশ ও বাস্কেটবলের পিছনে। উপযুক্ত ট্রেনিং পেলে অনেকদূর যেতে পারতাম বলেই আমার ধারনা ছিল।কিন্তু একসময় বুঝতে পারলাম এইসব খেলাধূলা করে বাংলাদেশে কোন ভবিষ্যত নেই। তাই নিজের অজান্তেই ছেড়ে দিয়েছি এসব খেলা। এখন আর তেমন খেলাধুলা করা হয় না। মাঝে মাঝে মন বেশি খারাপ থাকলে গলফ খেলতে যাই, আর গলফ বলের উপর মনের ঝাল ঝাড়ি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, খানিকক্ষন পিটাপিটি করলে রাগ কমে যায়। হুমায়ূন আহমেদ তার বহুব্রীহি নাটকে রেগে গেলে গ্লাস ভাঙ্গার থিওরিটা মন্দ দেন নি। ধ্বংসাত্নক যে কোন কিছুই রাগ কমাতে সাহায্য করে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:১০