somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্ণবাদ ও আমাদের চিন্তা-চেতনা

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অন্যদেশীদের কথায় কথায় বর্ণবাদী বলে কটুক্তি করতে বাঙালীর জুড়ি মেলা ভার। এদেশে দেখি কোথাও পান থেকে চুন খসলেই বাংলাদেশীরা মন্তব্য করেন "দেখলেন কেমন রেসিসট এরা?" আমি মাঝে মাঝে খুবই বিরক্ত হই। বিশেষ করে নিজে একটা বিব্রতকর পরিসিহতি সৃষ্টি করে সেটার জন্য অন্যকে কটুক্তি করা আমি সহ্য করতে পারি না।

সুপারমার্কেটে সবাই কাউনটারের সামনে লাইন ধরে অপেক্ষা করছে চেক আউটের জন্য। দেখা যাবে এক বাংলাদেশী এসে লাইন ভেঙ্গে দেশি কায়দায় আগে-ভাগে চেক আউট করার ধান্ধা করছেন বা অযথা দর কষাকষি করা সেলস ম্যানের সাথে। বলে রাখা ভালো যে এখানে দরাদরি করার তেমন কোন অপশন নেই। তারপরেও জোর করে এ জিনিসটা করা। বেশিরভাগ সময় মানুষজন কিছু বলে না। হয়তো আড়চোখে জিনিসটা দেখেও না দেখার ভাণ করবে। কিন্তু সবাই একরকম না। মাঝে মাঝে কিছু মানুষ এধরনের ব্যবহারে বিরক্ত হন এবং সেটা প্রকাশ করেন। তখন বাংলাদেশিদের চোখে তারা হয়ে যান রেসিস্ট বা বর্ণবাদী।তবে ব্যতিক্রম নেই তা বলব না। কিছু মানুষ যে কালো চামড়ার আদমীকে সহ্য করতে পারেন না সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

জাতি হিসাবে আমরা কি কোন অংশে কম বর্ণবাদী? আমাদের চামড়া যত সাদাই হোক না কেন, যারা বিদেশি বর্ণবাদী তাদের কাছে আমরা "ব্লাডি ব্ল্যাক" বা "ব্লাডি ইনডিয়ান" হিসাবেই পরিচিত। এবার আসা যাক নিজেদের বর্ণবাদমূলক ব্যবহারবিধিতে। বিয়ের বাজারে ফসর্া মেয়ের ডিমান্ড কি রকম তা আমরা সবাই জানি। পাত্রীর গায়ের রং সাদা না হলে পাত্র তো বটেই, পাত্রের মা-বাবা-ভাই-বোন সবাই বেঁকে বসেন। এরকম ঘটনাও দেখেছি, প্রেমঘটিত বিয়ে, পাত্রের উচ্চশিক্ষিত মায়ের মন খারাপ। কি ব্যাপার? ছেলের বউয়ের রঙটা নাকি কালো। সত্যি সেলুকাস! কি বিচিত্র জাতি আমরা। একটা মেয়ে কি কোরবানির গরু না দোকানে সাজিয়ে রাখা পণ্য? আজকাল অবশ্য পাত্রীদের মত পাত্রের রঙ ও উচ্চতা দেখা হয়।

সমপ্রতি আমার এক ক্লাসমেটের বিয়ে হয়েছে। সে ছবি পাঠিয়েছে নবপরিণীতা স্ত্রীর সাথে। খুবই সুন্দর ছবি। এর মাঝে আমার এক বন্ধু মন্তব্য করে বসলেন "আর মেয়ে পেল না? এই টাকে বিয়ে করল শেষ-মেষ?" মন্তব্যকারী আমার এই বন্ধু তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত, বিদেশ থেকে উচ্চডিগ্রী ধারী ও বিদেশের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত একজন মানুষ। একথা শোনার পর দেখি উপসিহত সবাই মেয়েটিকে ও আমার বন্ধুটিকে নিয়ে কটুক্তি করা শুরু করেছে। ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। দুই-একজন থাকলে প্রতিবাদ করা যায়। কিন্তু একদল মানুষ একত্রে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছালে সেখানে প্রতিবাদ করে লাভ হয় না, বরং নিজের আরও ছোট হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। আমার পরিচিত যারা বিয়ে করবেন, তাদের বেশিরভাগের বক্তব্য, যাকে বিয়ে করব তার চামড়া সাদা হতে হবে। ধিক!! এরকম উচ্চশিক্ষিতদের। এরা আবার দেশ ও জাতির উন্নয়নের বুলি আউড়ান। মনে যারা এরকম বর্ণবাদমূলক চিন্তাভাবনা পোষণ করেন, তাদের হাজার একাডেমিক ডিগ্রী থাকলেও তারা আমার কাছে শিক্ষিত নন। কারন বেসিক যে শিক্ষাটা পরিবার, গড়ে উঠার পরিবেশ থেকে মানুষ লাভ করে, সেই মৌলিক শিক্ষার পরীক্ষাতে তো তারা শূন্য পাওয়ারও অযোগ্য। এরকম উচ্চ শিক্ষিত অশিক্ষিতদের আমি ঘৃণা জানাই হৃদয়ের অন্তঃসহল থেকে।

পুনশ্চ: দুঃখের সাথে বলছি আরও কিছু বর্ণবাদী বৈশিষ্ট্য রয়েছে আমাদের। যেমন- অনেকেই কুমিল্লা, চাঁদপুর, বরিশাল অঞ্চলে ছেলে-মেয়ে বিয়ে দিতে চান না। এসব এলাকার মানুষ নাকি ভালো হয় না। এভাবে মানুষকে মূল্যায়ন করা কি বর্ণবাদের অন্য রূপ নয়?

(আমার মনের গভীরে থাকা একান্ত কিছু ব্যক্তিগত কথা এখানে লিখেছি। কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে বা কারও অনুভূতিকে আঘাত দিয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রাথর্ী। তবে আমি মনে করি জীবনে মৌলিক শিক্ষার বিকল্প নেই। সামাজিক মূল্যবোধের উন্নয়ন তখনই হবে, যখন আমাদের নতুন প্রজন্মকে আমরা সঠিক মৌলিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারব। স্কলারশিপ বা বিপুল অর্থের বিনিময়ে অর্জিত উচ্চতর ডিগ্রী কখনই আমাদের একটি গর্বিত জাতির মালিক হতে সাহায্য করবে না। এটাই আমার বিশ্বাস।)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অদৃশ্য অসুখের দৃশ্যমান সংকট: দ্বৈত বাস্তবতার প্রভাব

লিখেছেন বাঙালী ঋষি, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আধুনিক সভ্যতা একটি মৌলিক বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—যা পরিমাপযোগ্য, সেটাই বাস্তব। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি এই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে। আমরা জানি কীভাবে শরীরের অসুখ নির্ণয় করতে হয়, কীভাবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×