ট্যাক্স দেয়া আমাদের কর্তব্য। রাষ্ট্রের আয়ের বিশাল উৎস হলো আয়কর। বাংলাদেশে কর্মরত আমার বেশিরভাগ বন্ধুই জানে না তারা ট্যাক্স দেয় কিনা। উদাহরন দিতে গেলে রামায়ণ লেখা হয়ে যাবে। ট্রাফিক জ্যাম লাগলে গাড়িতে বসে চিৎকার করি রিকশাওয়ালা ডান দিকে দিয়ে চালায় কেন? আবার রিকশায় উঠলে রিকশাওয়ালাকে বলি ডানে চেপে চালাতে। মানবিক অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে কর্তৃপক্ষের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করি, আবার রিকশাওয়ালা দুই টাকা ভাড়া বেশি চাইলে ঠাস করে চড় লাগিয়ে দিতে দ্্বিধা করি না। রাস্তা বড় করার দাবি জানাই, আবার বাড়ি বানানোর সময় মিস্ত্রীদের বলি রাস্তার উপর দুই ফুট জায়গা নিয়ে যেন গেটটা বানানো হয়।
খুবই ছোট-খাট উদাহরন। একটু চিন্তা করলে এ জাতীয় হাজারখানেক উদাহরন দেয়া যাবে। শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরেও আমরা কম কুখ্যাত নই। যারা নতুন আসেন বিদেশে, তাদের লক্ষ্য থাকে রেসিডেন্সি পাওয়া। প্রথমেই পড়াশুনা বাদ দিয়ে খোঁজ করা শুরু করেন ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের কোন অফিসারকে 5 হাজার ডলার দিলে রেসিডেন্সি দিয়ে দেন। বলাইবাহুল্য দিন কয়েক ঘুরাঘুরির পর বুঝতে পারেন এসব ভাঁওতাবাজি এখানে চলবে না। তাও প্রচেষ্টা থেমে থাকে না। সিডনিতে এমন অনেক ডাক্তার আছেন বেআইনীভাবে কম খরচে চিকিৎসা দেন ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে। রোগীরাও খুশি, ক্যাশ টাকা নিয়ে গেলেই চিকিৎসা হয়ে যায় হাফ টিকিটে। রোগী-ডাক্তার দু'জনেই জানেন বিষয়টা মারাত্নক অপরাধ, কারও কিছু যায় এসে না। কথা প্রসঙ্গে এরা আবার বলেন সৎভাবে বেঁচে থাকার জন্যই দেশ ছাড়লাম। দেশে তো সৎভাবে থাকার উপায় নেই। হায়রে সততা!!
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১১:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




