somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ধর্মবেলা-৩ (আমার দেখা তাবলিগ)

১৭ ই মে, ২০০৭ ভোর ৫:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখায় সাময়িক বিরতির জন্য দুঃখিত। পেটের ধান্ধায় মাঝে মাঝে ছেদ পড়ে যায়। কিছু করার থাকে না।
"হুজুরের পাল্লায় পড়ে তবলিগে গিয়েছি"- এ কথা যদি ঘুনাক্ষরে আমার অভিভাবকগণ জানতে পারতেন, তাহলে অভিযুক্ত হুজুর আসমান-জমিন কোথাও পলায়ন করতে পারবেন না। আমার পিতা-মাতা তাকে বেহেশত-দোযখ অবধি বন্দুক হাতে তাড়া করে হুজুরের মাথার টুপি গুলি করে উড়িয়ে দিতেন। উল্লেখ্য আমার জনৈক ঘনিষ্ঠ বন্ধু হঠাৎ মৌলভী হয়ে যাওয়ায় আমার অভিভাবকগণ তার সাথে মেলামেশা করার ব্যাপারে কিছু নিয়ম-নীতিমালা পেশ করেছিলেন। তবে তা ধোপে টিকে নি।

যাই হোক বাসায় জানালাম হোস্টেলে থাকব আর হোস্টেলের ছেলেপিলেকে জানালাম তবলিগে যাব। তাদের আরও বলে দিলাম আমার তবলিগ ডিউরেশন হবে একদিন। যদি পালাতে না পারি আর ২ দিন পরও আমার খোঁজ-খবর না মিলে তবে আমাকে যেন যেকোন মূল্যে তবলিগ নামক হাজতখানা থেকে উদ্ধার করে আনা হয়। এর পিছনে একটা মূল্যবান কারণ ছিল। আমার টার্গেট ছিল একরাত থাকা, কিন্তু হুজুরকে যতবার বলি হুজুর ততবার বলেন তিনরাত না থাকলে নাকি হয় না। আমাকে উনি খালি বলেন "আসেন ভাই আমরা তিনদিনের নিয়্যাত করি"। আর আমিও নিষ্ঠার সাথে বলি "না ভাই, আপাতত ১দিন করি, বাকি ২ দিন বেঁচে থাকলে করা যাবে"।

নির্ধারিত দিনে বাদ মাগরিব রওনা হবার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত বাদ এশা রওনা হতে হলো। এখানে প্রথম মূল্যবান শিক্ষা পেলাম, তা হলো তাবলিগেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আছে। মজার ব্যাপার হলো মসজিদ থেকে রওনা দেয়ার পর সবাই দেখি এক লাইনে হাঁটে। আমি যত পাশে পাশে হাঁটার চেষ্টা করি, সবাই তত জোরে জোরে হেঁটে আমাকে পিছনে ফেলে দেয়। বাসে উঠার পর দেখি বাসের কন্ডাকটররাও মধুর ব্যবহার করা শুরু করল। ভাড়া নিয়ে কচলা-কচলি করল না। এরকম অনেক মজার অভিজ্ঞতা নিয়ে যখন গন্তব্যে পৌঁছালাম, তখন দেখি মসজিদে আমাদের বাকি "সাথী"রা (এই টার্মটা তাবলিগীরা ব্যবহার করেন, কোন এক অজানা কারনে আমার খুব মজা লাগে) ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ২/১ জন উঠে আমাদের খানাপিনার ব্যবস্হা করলেন। একটা জিনিস স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, তাবলিগীদের রান্নার হাতটা চমৎকার। একথা শুধু আমি নই, যতজন ইরেগুলার মানুষ তাবলীগ করেছেন, তারা সবাই একবাক্যে ব্যাপারটা স্বীকার করেছেন।

পরদিন কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামায পড়লাম। নামাযের পর গাস্তে যাওয়া হয়। জনৈক মুসল্লি এসে বললেন যে তার গুনধর ছেলে নামায-কালাম কম করে, তাকে যেন আমরা একটু সবক দেই। এই "সবক দেয়া"র তাবলীগি টার্ম হলো "গাস্তে যাওয়া"। ফজরের নামাযের পর ভদ্রলোকের বাসায় আমরা রওনা হলাম। আমার সাথী আমার আরেক সহপাঠী। এই ব্যাটার কোডনেম ছিল "ডিস্কো হুজুর"। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় ডিস্কো তাবলিগে নাম লিখালেও ওর অনেক সমস্যা ছিল। আমি নিজে হলের নেটওয়ার্কে শেয়ার দেয়া নগ্ন ও স্বল্পবসনা হলিউড সেলিব্রিটিদের ছবি ও মুভিক্লিপ দেখা অবস্হায় ব্যাটাকে হাতেনাতে ধরেছিলাম। যাই হোক আমি ও ডিস্কো গিয়ে ভদ্রলোকের উঠতিবয়সী ছেলেটাকে বেশ কিছুক্ষন মগজ ধোলাই দিলাম। আমরা না বলে ডিস্কো বলা সমুচিত হবে কারন আমি মোটামুটি দর্শকের ভূমিকা পালনা করে হাই তুলছিলাম। আর ডিস্কোর থিওরিটিক্যাল প্যাঁচাল আমার ঘুমের টনিক হিসাবে ভালোই কাজ করছিল।

"সবক দেয়া" শেষে মসজিদে এসে দেখলাম সবাই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি বেলা ১০টায় ঘুমানোর হেতু বুঝতে পারলাম না। তারা আমাকে জানালো যোহরের নামাযের পরে নাকি খুব ব্যস্ত শিডিউল, তাই এখন বিশ্রাম করাটাই শ্রেয়। দেখলাম ১০ মিনিটের মধ্যে মসজিদে আমি ছাড়া একটা প্রাণীও জেগে নেই। আস্তে করে ব্যাগ গুছিয়ে ঐ মুহুর্তে ভেগে আসার সিদ্ধান্ত নিই।

(পরের পর্ব---জীবন চিল্লা)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০০৭ ভোর ৫:৩৫
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চামড়া ও চামড়াশিল্পের কেন আজ এই ভয়াবহ পরিস্থিতি?#২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ১১:২৯


আগের পর্বের জন্য: Click This Link
হাজারীবাগ
১৯৪০ এর দশকে এক ব্যবসায়ী আর.পি. শাহা কর্তৃক নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশের প্রথম ট্যানারি স্থাপন করা হয়েছিল। ট্যানারিটি পরে(১৯৪৫ সালে দিকে- মতান্তর আছে, কোথাও বলা হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খুকু ও মুনীরের পরকীয়ার বলি শারমীন রীমাঃ হায়রে পরকীয়া !!

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩১


পরকীয়া একটি নিষিদ্ধ সম্পর্কের নাম। মানবসমাজে কত ধরণের প্রেমই তো আছে! তবে যত ধরণের প্রেমই থাকুক না কেন ‘পরকীয়া’ প্রেমকে সবাই একটু ভিন্ন চোখে দেখে। নিষিদ্ধ জিনিষের প্রতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেয়েটি চলল প্রবাসের পথে - আগমনী বার্তা (সামু পাগলার নতুন সিরিজ :) )

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪০



এই পোস্টটি মূলত নতুন সিরিজ আসার আগমনী বার্তা। আবার একদিক দিয়ে দেখলে আমার জীবনে প্রবাসের আগমনী বার্তাও বটে।
আমি সাধারণত কোন সিরিজ শুরু করলে শেষ করতে পারিনা। সেজন্যেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈরুত – হিরোশিমার মিনি ভার্সন

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৭



বৈরুতকে একসময় প্রাচ্যের প্যারিস বলা হত । ৪০এর দশকে আমাদের এই অঞ্চলের ছেলেরা বৈরুতের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেত । ওখানে চিকিৎসা এবং হাসপাতাল ব্যাবস্থা খুব উন্নত ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্ঘুম রাত

লিখেছেন মিরোরডডল , ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১০:৫২





আবারও আসলাম কিছু প্রিয় গান নিয়ে ।
সাধারণত মেল ভোকালে বেশী গান শোনা হয় কিন্তু আজ কিছু ফিমেল ভোকালে গান শেয়ার করছি ।

আমি কেমনে কাটাই এ রাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×