somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমুদ্র দর্শনঃ সাউথএন্ড অন দ্য সি

০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৬ রাত ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লন্ডনে আগের সপ্তাটায় গরম ছিল গনগনে। 37 ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠেছিল তাপমাত্রা। এরকম গরমে আমি ঘরের বাইরে পা ফেলি না। ঘাম না হলেও এই গরমে শরীর একেবারে পানিশূন্য হয়ে যায়। টবের ফুল পানি না দিলে যেমন নেতিয়ে পড়ে মানুষের অবস্থাও হয় সেরকম। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আসা অতিথি বলে কথা। নিয়ে গেলাম সমুদ্র দর্শনে। লন্ডনের কাছেই সাউথএন্ড অন দ্য সি। ব্রাইটন, বোর্নমাউথ বা পুলের মত জাঁকজমক এখানে নেই। তবে গর্ব করার মত আছে অনেক কিছুই।

সৈকত তেমন আহামরি কিছু না। সমুদ্র সৈকত না বলে টেমস নদীর মোহনা বললেই বেশি ঠিক হয়। তবে এখানেও আছে বিশ্বসেরা একটি জিনিস। সে হচ্ছে এর পিয়ার। সৈকত থেকে আরো গভীর জলের সীমানায় চলে গেছে অতি লম্বা এক পিয়ার। যা 1.33 মাইল দীর্ঘ। বিশ্বে সবচে দীর্ঘ পিয়ার। পিয়ারের ওপর বসানো আছে রেললাইন। ছোট্ট বিশেষ ধরনের রেলগাড়ি চলে তাতে। রেলে চড়ে পিয়ারের শেষ মাথায় যাওয়া যায়।

সমুদ্র স্নানে যেহেতু আসিনি, রোদটাও সহ্য হচ্ছে না, সেহেতু চড়ে বসলাম রেলেই। পিয়ারের শেষ মাথায় কাজ চলছে। আরো সুন্দর করে বিনোদনের নতুন ব্যবস্থা করার জন্য। চাদর পেতে কাঠের পাটাতনে আমরা বসলাম। যদিও মাথার উপর গনগনে সূর্য তবু সমুদ্রের বাতাস ভুলিয়ে দিচ্ছিল রোদ্রের প্রচন্ডতা। পিয়ারের পাইপ দিয়ে চুঁইয়ে পড়া পানি পান করছে একজোড়া কবুতর। গরমটা বুঝা যায় এ দৃশ্য দেখলেই। দূরে নোঙর করে আছে সমুদ্রগামী জাহাজ। আর আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা। থেকে থেকে ভেসে আসছে টু্যরিস্টদের নিয়ে চক্কর দিতে থাকা স্পিডবোটের আওয়াজ। অনেক দূরে দেখা যাচ্ছে শহর আর সৈকতে রৌদ্রস্নান করতে আসা পর্যটকদের। একরকম নীরবতা, একরকম শানত্দি শানত্দি ভাব পিয়ার জুড়ে।

প্রায় ঘন্টাখানেক পিয়ারে বসে থাকলাম আমরা। তারপর আবার চড়ে বসলাম ফিরতি ট্রেনে। সমুদ্রতীরের তাজা কড মাছ দিয়ে প্লেটভরা ফিশ এ্যান্ড চিপস খেয়ে খুব মজা পেয়েছিলাম। পেটও ভরে আছে সবার। কিন্তু গরমের জন্য কিছুক্ষণ পর পর খেতে হচ্ছিল আইসক্রিম অথবা কোক জিরো।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৯


সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

এই বাংলাদেশের পলিমাটিতে ইতিহাস খুব ভয়ংকর।

এখানে কখনো কখনো নদী শুধু পানি বহন করে না- বহন করে রক্তের স্মৃতি।
গাছ শুধু ছায়া দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরআন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রের বিস্ময়কর বিদ্যুৎ আবিস্কার :-ls

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫২

চারিদিকে বিদ্যুতের জন্য ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার মধ্যে মাদ্রাসার এই ছাত্রটি কুরআন গবেষণা করে আমাদের জন্য ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। বিজ্ঞান পড়েননি, পড়েছেন কুরআন-হাদিস! সেই মাদ্রাসাছাত্রই বানালেন মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে বিদ্যুতের যন্ত্র!

অবেশেষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×