কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেনো চূড়ানত্দ দিনে বিচারকদের পক্ষপাতমূলক বক্তব্যের পরও এত বিপুল সংখ্যক মানুষ নোলকের পক্ষে ভোট দিলেন। যা প্রায় রাজীবের দ্বিগুণ। সমাজবিজ্ঞানীরা এর ওপর একটা গবেষণা করতেই পারেন। কারণ আমার বিবেচনায় এখানে আমি বাংলাদেশের মানুষের ভিন্নরকম এক প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। অথবা বলা যায় আচরণের পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। ভোটের সময় বা রাজনৈতিক প্রতিনিধি নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের জনগণ এমন আচরণ করেন না। তারা রাজার ছেলেকে রাজা বানানোর জন্য ভোট দেন। সুশ্রী মহিলাকে ভোট দিতে পছন্দ করেন। গ্রামের সৎ স্কুল শিক্ষককে ভোট না দিয়ে কালোবাজারি নব্য ধনীকে ভোট দেন এই আশায় যে তাদেরও নগদভাগ্য খুলবে। সম্ভবত: এই চিন্তাধারা থেকে দেশের মানুষ খানিকটা সরে এসেছেন। অন্তত: নোলকের বিজয় আমার কাছে সে ইঙ্গিতই করে।
আমার এই ধারণাটি সত্য কিনা তার প্রমাণ হয়তো আগামী সংসদ নির্বাচনে পাওয়া যাবে। তবে যদি যথেষ্ট সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের প্রার্থী নির্বাচনে ভোটের জন্য দাঁড়ান। সমাজবিজ্ঞানীরা সংসদ নির্বাচনে যদি আগে থেকেই লক্ষ্য রেখে এই বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন তবে হয়তো বাংলাদেশের জন্য এক আশাময় দিনের আগাম সংবাদ শোনাতে পারবেন। অর্ধেকেরও বেশি দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী বাংলাদেশের অধিবাসীরা হয়তো ধীরে ধীরে নিজেদের সত্যিকার প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে শুরম্ন করবেন। দেশটি তাহলে শহর কেন্দ্রিক লোভী শেকড় বিচ্ছিন্ন নেতাদের খপ্পর থেকে রক্ষা পাবে। দেশের মানুষ পাবে তাদের সত্যিকার হিতৈষিদের। আর কেউ কি এমন ইঙ্গিত অনুভব করতে পারছেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

