somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আধুনিক বিশ্বের ব্যক্তিই এখন প্রতিষ্ঠান

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৭:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বড় কোনো রাজনৈতিক নেতা বা সাংগঠনিকের মৃতু্যবার্ষিকীর আলোচনায় আমরা প্রায়ই একথা শুনি যে, তিনি শুধু একজন ব্যক্তি ছিলেন না ছিলেন প্রতিষ্ঠান। তারা নিশ্চয়ই নমস্য লোক। এতলোক জড়ো হয়ে যখন তাদের প্রশংসা করে তখন নিশ্চয়ই তাই হবে। কিন্তু আমার প্রায়ই মনে হয় কোনো জনসেবার ভান না করেও, শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থেকেও তো আমি একটি প্রতিষ্ঠান। আমার ধারণা আধুনিক বিশ্বের নানামুখি জটিলতায় প্রতিটি মানুষই বোধহয় এক একটি প্রতিষ্ঠান।

কেনো নিজেকে আমি প্রতিষ্ঠান বলছি সেকথায় আসি আগে। ব্যক্তির জীবন স্বাধীন, মুক্ত। সে নিজের ইচ্ছামত নিজের সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার হুমকি নেই, অহেতুক কাগজ চালাচালি, চিঠি-পত্র লেখা, ফাইল টানাটানির বিষয় নেই। অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বিড়ম্বনাই তার নেই। সোজা কথায় টং দোকান যদি প্রতিষ্ঠান না হয়, তবে ব্যক্তিও প্রতিষ্ঠান না। প্রতিষ্ঠানের একধরনের রেজিস্ট্রেশন থাকে, ফি-বছর লাইসেনস ফি দিতে হয়, সে প্রতিষ্ঠানের সেবা-গ্রাহকদের সঙ্গে নানারকম পত্রযোগাযোগ করতে হয়, গ্রাহক যাতে প্রতারিত না হয় সেজন্য রয়েছে নানা রকম সরকারী আইন-কানুন অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠান চালানোর ঝুট-ঝামেলা। তো প্রশ্ন হচ্ছে ব্যক্তি কি আইনের এসব বাড়তি তদারকি থেকে মুক্ত?

নিজের উদাহরণ দেই। ঘরবাড়ির কাজ বলতে যাই বুঝাক না কেন আমার কাছে তা প্রায় একটি অফিস/প্রতিষ্ঠান চালানোর মতই মনে হয়। ছোট একটা প্রতিষ্ঠানের যতটা ফাইল থাকা প্রয়োজন ততটাই ফাইল লাগে এখানে। নতুবা কয়েকদিন পর মাথার চুল ছিঁড়তে হবে। ফাইলগুলোর মধ্যে রয়েছে:
1. ব্যাংকের ফাইল: স্টেটমেন্ট, কোথাও কবে টাকা উঠালাম, কাকে পাঠালাম এর তালিকা। ভিসা বাড়াতে, বড় ঋণ করতে, ব্যাংক অহেতুক টাকা কাটলো কিনা পরীক্ষা করতে এগুলো খুব দরকার। যত্ন করে মাস-ওয়ারি সাজিয়ে রাখতে হয়।

2. ক্রেডিট কার্ডের ফাইল
3. টেলিফোন, ব্রডব্যান্ড কানেকশন, মোবাইল কানেকশনের ফাইল: আমার ব্রডব্যান্ড এওলের। ওদের সাথে যুক্ত টাইমসহ আরো অন্য কোম্পানি। ওয়েবসাইটে কোথাও খোঁচা দিয়ে ফেললেন তবে দেখবেন যে ব্রডব্যান্ডের বিলের সাথে বলা নেই কওয়া নে ই আরো কিছু টাকা মাসে মাসে বেরিয়ে যাচ্ছে। যেমন আমি এখন কড়ি গুণছি টাইম ম্যাগাজিনের জন্য। মোবাইলের স্টেটমেন্টগুলো আরো জরুরি ক্যাশব্যাক অফারের টাকাটা ফেরৎ পাওয়ার জন্য। নির্দিস্ট সময়ের মধ্যে শেষ বিলটা ওদের ঠিকানায় না পাঠালে টাকা ফেরৎ পাওয়া যাবে না। ফ্রি ইনসুরেনসটা কাটাতে হলেও ঠিক সময়ে চিঠি দেয়া চাই।

4. মর্টগেজের ফাইল: বাড়ির ঋণের টাকা, কিস্তি, সুদ ইত্যাদি জটিল বিষয়গুলোর কাগজপত্র যদি সযত্নে না রাখেন এবং মাসে মাসে যেসব কাগজ ব্যাংক, সলিসিটর, ল্যান্ড রেজিস্ট্রি অফিস, কাউনিসল থেকে আসে সেগুলো না রাখেন তবে আদালতে দাঁড়াতে হবে। কারণ কখন কোনটার তারিখ চলে যায় কে জানে। ঘরে এসে যাবে লাল নোটিশ।
5. কাউনিসলের সার্ভিস চার্জ, কাউনিসল ট্যাক্স, টিভির লাইসেনস, এগুলোও সময়মত দেয়ার জন্য চাই সঠিক ফাইলওয়ার্ক।
6. আয়কর তো দিতেই হবে। সুতরাং রাখতে হবে কোথায় কবে কি কাজ করেছেন, কোন মাসে কত বেতন পেয়েছেন, পি-45, ট্যাক্স কাটার কাগজপত্র ইত্যাদি। নতুবা দু'বার ট্যাক্স কেটে নেয়ার ঝক্কিতে পড়তে পারেন।
7. বিদু্যৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ এসবের রয়েছে মাসিক স্টেটমেন্ট। মাস অনুযায়ী সাজিয়ে রাখতে হবে। দাম বাড়ছে কমছে। খেয়াল রাখতে হয়। কবে বেশি টাকা কেটে নিলো লক্ষ করতে হয়।

এইসব নূ্যনতম ফাইল-ওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয় বিরাট বিড়ম্বনা যদি দেখতে পান ক্রেডিট কার্ডে বাড়তি টাকা কেটে নিয়েছে কেউ। তখন চিঠির পর চিঠি। লিখতে হবে আপনাকেই। আপনার ব্যাংকের টাকা যাতে সহজে ওদের পকেটে যেতে পারে সেজন্য একটি নতুন পদ্ধতি ওরা চালু করেছে যাকে বলে ডাইরেক্ট ডেবিট। অর্থাৎ আপনাকে মনে করে বিল দিতে হবে না, ওরা অটো নিয়ে যাবে ব্যাংক থেকে। এখন আপনি যদি ব্রডব্যান্ডের সরবরাহকারী বদলে ফেলেন, অথবা নতুন কোনো টেলিফোন কোম্পানির সাথে সংযুক্ত হন তবে পুরনো কোম্পানি কিন্তু আপনার ব্যাংক থেকে টাকা পেতে থাকবে, যদি না আপনি ঐ কোম্পানি জন্য করা ডাইরেক্ট ডেবিট ক্যানসেল না করেন।
ঠিক ঠিক তারিখ মনে রাখতে হবে। নতুবা জরিমানা দন্ড। লাইব্রেরির বই ফেরত দেয়ার কথা ধরুন। প্রতিদিনের জন্য হয়তো আধা পাউন্ড। 10 টা বই থাকলে একদিনে 5 পাউন্ড গচ্চা। ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি দিতে দেরি করেছেন? 20 পাউন্ড জরিমানা। মনে করুন যেদিন কিস্তি দেয়ার কথা ছিল সেদিনই আপনার মনে পড়েছে। তাতেও জরিমানা থেকে বাঁচা যাবে না। কারণ টাকা ট্রানসফার করতে 4 দিন লাগে। দিন গচ্চা। টাকা ফেরতের নানা বিষয় আছে সেগুলোও তারিখ মোতাবেক করতে হয়, নিয়ম মেনে।

তো ব্যক্তিকে কি এত নিয়ম মানতে হয়? এত তারিখ মনে রাখা খুবই কঠিন। আমি আমার আইএসপি'র ক্যালেন্ডারে রিমাইন্ডার অন করে রাখি। এসব ছাড়াও রয়েছে জীবিকার জন্য কাজ এবং সে সংক্রান্ত নানা প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা। সিভি বানানো এবং নানা পদ অনুযায়ী সেগুলোকে পুনর্বিন্যস্ত করে রাখা, দরখাস্ত করা এগুলোতো আছেই। সব ফিরিস্তি লিখতে গেলে একটা বই হয়ে যাবে। কেউ যদি লিখতে চান তবে বইয়ের একটা টাইটেল দিতে পারি:
Death of Individual: Birth of Organisational Human Being"

তো এখন মানুষের সাফল্য আর ব্যক্তিগত সাফল্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সাফল্যও এর সাথে জড়িত।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ

লিখেছেন সামিউল ইসলাম বাবু, ০৬ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:৩৫

আমার ভালোলাগা কিছু ছবি নিচে শেয়ার করা হলো। একটা আায়াত জানলেও তা অপরের কাছে পৌঁছে দাও(আল-হাদিস

পৃথিবীতে কেও আপন নয়। একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যতিত। তাই ভালো মন্দ সকল বিষয়েই কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার বেঁচে আছে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:০২





আপনার মা/বাবা বেঁচে থাকলে আপনি এখনো সৌভাগ্যবান -এরকম ভাবনা হয়তো ৯৮ ভাগ মানুষ ভাবে। মা/বাবা নিয়ে মানুষের ইমোশন, সংগ্রাম নিয়ে সবাই কিছু কিছু লিখতে পারবে, বা মুখে বলতে পারবে। গোর্কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×