বেশ কিছুদিন ধরে পত্রিকা টা খুলেই বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টদের আত্নহত্যার খবর দেখতে পাই।
অনেকে এদের কে ছোট লোক,সার্থপর,কাপুরুষ ডাকে।বন্ধু-বান্ধব,ফেমিলী,আত্নীয়-স্বজনদের এভাবে ফেলে চলে যাবার জন্য।
কিন্তু একবার ও কি ভেবে দেখেছি তারা কেন আত্নহত্যা করছে? আত্নহত্যা কেউ মনের সুখে করে না। প্রচন্ড ডিপ্রেসনের ফলেই করে।
'পরাশুনার চাপ,পারিবারিক কলহ,প্রেমে ব্যর্থতা,টাকার অভাব,রেজাল্ট খারাপ এসবের ফলেই ডিপ্রেসনের সৃস্টি হয়।’
কোন ছেলে/মেয়ে রেজাল্ট খারাপ করলে পরিবার তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।এমন কথা বলে যেন তার জন্য পরিবারের সম্মান নষ্ট হয়েছে। লজ্জায় সে তার বন্ধুদের সাথে কথা বলে না। সারাদিন রুমে একাই বসে থাকে। তখন একটু তার পাশে দারিয়ে ছিলেন কি? নাকি উত্টো উপহাস করেছিলেন? জদি না দারিয়ে থাকেন, তবে কি আর করবে বেচারা, নিজের পাশে কাউকে না পেয়ে স্বার্থপরের মত নিজেই চলে গেছে।
কোনও ছেলে প্রেমে ছ্যাকা খেলে, তাকে নিয়ে পরিচিত মহলে উপহাস সৃস্ট্য হয়।মেয়ে হলে তো কথাই নেই।নিজের ভালবাসা হারানো আর বন্ধুদের উপহাস তাকে একা করে দিয়েছে।তখন কি তাকে একটু সঙ্গ দিয়েছিলেন?
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করা ছাত্রগুলো কোন রাজপরিবারের সদস্য নয়।এদের ৮৫% মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ঘরের সন্তান।কারো নূন আনতে পান্তা ফুরায়।সে পরিবারের ছেলেমেয়েগুলো চাইলেও সবকিছু পায় না।মাঝে মাঝে টাকা চাইলে উল্টো থ্রেট খেতে হয়। সে যখন টাকার জন্য চলতে পারছিল না।পরিচিত মহলে 'কিপ্টা মামা' উপাধি পেয়েছিল।তখনো কি পাশে দারিয়ে ছিলেন? নাকি উল্টো আপনিও উপহাস করেছিলেন?
ক্লাসের শেষের কোণে বসে থাকা গাধা ছেলেটাকে যখন সবাই গৃর্ণা করত,তখন কি একটু ভালবাসা দিয়েছিলেন? যদি না দিয়ে থাকেন তবে কি করবে সে? ফটিক, হৈমন্তির মত তিলে তিলে নিজেকে শেষ না করে একেবারেই শেষ করে দিয়েছে।
মা-বাবা,বন্ধু-বান্ধব সবার উদ্দেশ্যে বলছি কাউকে উপহাস করে একা করে দিবেন নাহ।একটু আদর-সোহাগ দিয়ে আগলে রাখুন।হয়ত বেচে যেতে পারে কোন অকালে ঝরা প্রান।
আর তোমাদের বলছি (আত্মহত্যাকারিদের), নিজেকে একটু শক্ত কর।পৃথিবিটা মাঝে মাঝে পর হতেই পারে।তাই বলে কি ভেঙ্গে গেলে চলবে? নিজেকে প্রমান করার চেষ্টা কর। নিজেকে প্রমান করতে পারলে দেখবে পৃথিবিটা অনেক মধুর।কি করবে বল,সবাই স্বার্থপর! পৃথিবিটা কেন এমন হবে নাহ?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০১৫ দুপুর ১২:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




