somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাগে্রহাটের খান জাহান আলি

০৬ ই জুলাই, ২০২৩ রাত ৮:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঠাকুর দিঘী বা খাঞ্জেলি দিঘী

খান জাহান আলি সম্পর্কে যতই জানছি, ততই আশ্চর্য হচ্ছি। ভদ্রলোকের মানসিক শক্তি ও কর্মস্পৃহা কোন লেভেলের, তা আজ একটু থেকে কিছু হইলেই ফেবুতে পোস্ট দিয়ে সুইসাইড করা পোলাপান বুঝবে না।

ভদ্রলোক দিল্লী থেকে এই অঞ্চলে এমনি এমনি আসেন নাই। তাঁর মাজারের সাইনবোর্ড থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তৈমুর লং এর আক্রমণে তিনি পদচ্যুত হয়ে দিল্লী থেকে এখানে এসাইলাম নিয়ে আসেন কিংবা হিজরত করেন। তবে এ নিয়ে মত বিরোধ রয়েছে, তিনি গৌড় থেকে এসেছেন এবং তৈমুর লিং এর সাথে সময়ের পার্থক্য অনেক। জানি না, এমন গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানের সাইনবোর্ডে ভুল তথ্য কেন লেখা থাকবে?? যাহোক, খাল জাহান আলি এ অঞ্চলে এসেছেন এ কথা সত্য। এখানে এসে তিনি চুপ করে বসে থাকেন নি। জায়গাটা ছিলো সুন্দরবনের অংশ। তিনি জংগল সাফ করার নামে সুন্দরবন কেটেকুটে মনুষ্য বসতি স্থাপন করেন। মানুষের বসবাসের জন্য প্রধান উপকরণ হচ্ছে পানি। আর এখানকার পানি হচ্ছে লবণাক্ত। তিনি বিশাল বিশাল দিঘী খনন করেন, ঠাকুর দিঘী আর ঘোড়া দিঘী। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, দিঘীর পানি সুপেয়! লোকে বলে, এ দিঘি নাকি এক রাতেই কাটা হয়ে গেছে! এর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই৷ তবে সে সময় মাটি কাটার আধুনিক যন্ত্র, ক্রেন কিছুই ছিলো না। তবুও এমন দিঘী কিভাবে কেটে ফেলেছিলেন, তা বিস্ময়কর তো বটেই। এক রাতের মিথ হিসেবে বলা যায়, বন থাকায় লোকজন এদিকে হয়তো টের পায় নি দিঘী কাটা হচ্ছে, পরে এক সময় এসে হঠাৎ দিঘী দেখে অবাক হয়ে যায়! এগুলো অবশ্য আমার মনগড়া ব্যাখ্যা! আসলে কী হয়েছে, টাইম মেশিন আবিস্কারের আগে বলা যাচ্ছে না।
খান জাহানের পোষা কুমির কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড়। ধারণা করি, সুন্দরবন এলাকারই কোন কুমির দিঘীতে চলে এসেছিলো। প্রতিকূল পরিবেশে তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছিলো। কিন্তু খান জাহান আলি মানুষের জন্য কাজ করলেও প্রাণবিকতাও ছিলো। হয়তো তিনি কুমির দুটিকে খাবার দিয়ে পোষ মানিয়ে ফেলেছিলেন! এখনো কুমির দুটির বংশধরদের অনেকেই দেখতে পায়।


কালাপাহাড় আর ধলাপাহাড়, দুইটা কুমিরের লোকাল রেপ্লিকা সংগ্রহ করতে পেরে আমি উৎফুল্ল। বিশ্বজয়ের আনন্দ হচ্ছে। :-B


ইসলাম প্রচারের জন্য খান জাহান আলি এ অঞ্চলে বেশ কিছু মসজিদ স্থাপন করেন, যা আজ ৭০০ বছর পরেও তাদের সৌন্দর্য নিয়ে মাথা উঁচু করে রয়েছে৷ তাঁর রুচি ও সৌন্দর্যবোধের পরিচয় শুধু মসজিদেই নয়, অনেক বাগানও তিনি তৈরি করেন, তাতেও পাওয়া যায় । বাগান বা বাগ বাগিচা থেকে এ অঞ্চলের নাম বাগেরহাট হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। প্রচুর মসজিদের জন্য মসজিদের শহর হিসেবেও বাগেরহাটের ঐতিহ্য রয়েছে৷


ছোট্ট ছিমছাম সুইট একটা মসজিদ। বাংলাদেশের কোন টাকার নোটেই এ মসজিদের ছবি নেই।

একটা বন কেটে মনুষ্য বসতি স্থাপন, সেই বসতিকে শহরে পরিনত করা কম কথা নয়। শুধু তাই নয়, শহরটিকে আলাদাভাবে মসজিদের শহর হিসেবেও বিখ্যাত করে তুলেছিলেন। ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন বলেই ইসলাম প্রচার করতে মনোনিবেশ করেছিলেন। দিল্লির মতো আধুনিক স্থান থেকে তিনি এসেছিলেন বলেই এগুলো সম্ভব হয়েছিলো।


খান জাহান আলির মাজারে পেলাম। এই মৃৎশিল্পগুলো আমার চোখে একটু অন্য রকম মনে হলো, রঙে, আকৃতিতে আর বিষয়ে। সাধারণত মেলায় আমরা যেমন মৃৎশিল্প দেখি, এগুলো ঠিক তেমন নয়। মাত্র দুটো রঙের প্রাধান্য এমন যে, সবগুলো জিনিস মিলে এটাই একটা আলাদা শিল্প হয়ে উঠেছে! দেখুন, পাখিগুলোর ধরন ধারণ কেমন একটু আলাদা। এখানেই নাম মাত্র মূল্যে পেলাম কালাপাহাড় আর ধলাপাহাড় কুমির দুটোকে।
মাজার প্রাঙ্গনে এসব মৃৎশিল্প দেখে খুব ভালো লাগলো।


লোকে বলে, এ মাজার গরম জায়গা! এটা অবশ্য আমরাও টের পেয়েছি। গাড়ির এসি থেকে যেই মাজারে এলাম, অতিরিক্ত গরম লাগছিলো। অথচ কিছুক্ষণ আগেই পাশের এলাকায় বৃষ্টি হলো। মেঘ জমে থাকায় আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়াতে আর আমরাও দীর্ঘ সময় এসিতে ছিলাম, হয়তো সেজন্যই আমাদের এত অস্বস্তি হচ্ছিলো। এমন কি এই আমিও, যে কিনা কুমিরের মতো সারাক্ষণ রোদ পোহাই, আমারও গরমে অস্বস্তি হচ্ছিলো। মাজারটা আসলেই গরম জায়গা কিনা, তা বোঝার জন্য শীতকালেও একবার যাওয়া দরকার বলে মনে হচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০২৩ রাত ৮:১১
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:১৭



পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষঃ
পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরবাসী ঈদ

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:২৩

আমার বাচ্চারা সকাল থেকেই আনন্দে আত্মহারা। আজ "ঈদ!" ঈদের আনন্দের চাইতে বড় আনন্দ হচ্ছে ওদেরকে স্কুলে যেতে হচ্ছে না। সপ্তাহের মাঝে ঈদ হলে এই একটা সুবিধা ওরা পায়, বাড়তি ছুটি!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের হামলায় ইসরায়েল কি ধ্বংস হয়ে গেছে আসলেই?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ২:৪৯


ইসরায়েলে ইরানের মিসাইল হামলার একটি ভিডিও দেখতে পাচ্ছেন অনলাইনে। যাতে দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার মিসাইল ইসরায়েলের আকাশে উড়ছে আর সাইরেন বেজেই চলেছে! ভিডিওটি দেখে আপনি ভাবতে পারেন, হাজার কোটি ডলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাদিসের সনদের মান নির্ধারণ করা শয়তানী কাজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ ভোর ৬:৪০



সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০১। মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফিক। মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ মোনাফেকী রোগে আক্রান্ত। তুমি তাদের সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়ানটের ‘বটমূল’ নামকরণ নিয়ে মৌলবাদীদের ব্যঙ্গোক্তি

লিখেছেন মিশু মিলন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১:৩৩



পহেলা বৈশাখ পালনের বিরোধীতাকারী কূপমণ্ডুক মৌলবাদীগোষ্ঠী তাদের ফেইসবুক পেইজগুলোতে এই ফটোকার্ডটি পোস্ট করে ব্যঙ্গোক্তি, হাসাহাসি করছে। কেন করছে? এতদিনে তারা উদঘাটন করতে পেরেছে রমনার যে বৃক্ষতলায় ছায়ানটের বর্ষবরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×