চিকেনস নেক বা মুরগীর গলা সবসময়ই দুর্বল, ভারতের দুর্ভাগ্য যে উত্তর-পূর্ব সাতটি রাজ্য (সেভেন সিসটার) যেই শিলিগুরি করিডোরের মাধ্যমে ভারতীয় মূল ভুখন্ডের সাথে যুক্ত তার অবস্থা চিকেন্স নেক এর মত।

বলিউডি সিনেমার স্বপ্নের দেশে বসবাসকারি ভারতীয়রা গলাবাজি আর কুটনামির জোরে দুর্বল প্রতিবেশিগুলির উপর ফাপর নিলেও, ভিতরে ভিতরে তাদের অবস্থা যে নড়বড়ে সম্প্রতি দুটি ঘটনার মাধ্যমে তা বেশ ভাল ভাবে ফুটে উঠেছে। প্রথম ঘটনাটি ছিল পাকিস্তানের উপর চালানো সো কলড সারজক্যাল স্ট্রাইক, প্রথমে যুদ্ধের হুমকি দিলেও পরে তাদের বোধদয় হয় যে সত্যিকারের যুদ্ধে বীরত্ব ফলানোর মত অবস্থায় তারা নেই। বিষয়টা সম্প্রতি আরো পরিষ্কার হল সিকিম নিয়ে চিনের সাথে দড়িটানা খেলার গোমর ফাঁক হওয়ার মাধ্যমে।
ডাকো লা ভ্যালিতে চিনের নিয়ন্ত্রিত ভুমিতে চিনকে রাস্তা বানাতে বাধা দেওয়ার ফলাফল যে এত ভয়াবহ হবে জানলে ইন্ডিয়া কখনই এই কাজ করত না।
প্রথমে লাফালাফি করলেও এখন তারা নিজেই নিজেদের মিডিয়াগুলিকে আরো সতর্ক হওয়ার জন্য উপদেশ দেয়া আরম্ভ করেছে।
Sikkim standoff: Media must advocate futility of war, not play agent provocateur
এক্সপার্টদের মতে চিকেন্স নেক ভারতের জন্য যেভাবে গুরুত্বপূর্ন ঠিক একই কারনে অত্যন্ত দুর্বল একটা যায়গা। উত্তর-পূর্ব সাতটি রাজ্য কয়েকটি রেললাইন, হাইওয়ে এবং পাওয়ার লাইনের মাধ্যমে মূল ভারতীয় ভুখন্ডের সাথে যুক্ত তার সবকয়টিই এই শিলিগুরি করিডোরের কাছাকাছি কয়েকটি নদী অতিক্রম করেছে। চাইনজ মিলিটারির ব্রিজগুলি ধ্বংস করার জন্য এমনকি বিমান বাহিনীও পাঠানোর দরকার নাই, ডিএফ-১৫ এবং ডিএফ-২১ সিরিজের কয়েকটি মিজাইল দিয়েই নিঁখুত ভাবে চিনারা এই কাজটা করতে পারে। ফলাফল সেভেন সিসটার মূল ভারতীয় ভুখন্ড থেকে লম্বা সময়ের জন্য আলাদা হয়ে যাওয়া, যুদ্ধ কালীন পরিস্থতিতে যা খুবই ভয়াবহ।
ভারত যদি বাংলাদেশের ভুখন্ড ব্যবহার করতে চায়, সেইটাও খুব একটা ফলপ্রসু হবে না। কারণ, স্পাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চিন সেটা সবসময় জানতে পারবে, এবং বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের কিছু ব্রিজ উড়িয়ে দিলে সেইটাও বন্ধ হয়ে যাবে।
ল্যান্ড রুট না থাকলে ভারত চেষ্টা করবে আকাশ পথে রি-ইনফোর্সমেন্ট পাঠাতে। এখানে সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাড়াবে চাইনিজ বিমান বাহিনীর ফিফথ জেনারেশন স্টেলথ জংগি বিমান। ফলাফল হবে অত অল্প সময়ে "দেখতে পাওয়া যায় না" এমন শত্রুর হাতে বিশাল পরিমান ক্ষয়ক্ষতি। সেই সাথে ভারতের মাওবাদি সহ বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদি গোষ্ঠি চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়ে ভারতের চোখের পানি নাকের পানি একত্র করে ছাড়বে।
অতি পুরাতন সোভিয়েত যুগের বিমান বাহিনী দিয়ে হিমালয় পর্বতমালা অতিক্রম করে চিনের উপর হামলা করতে গেলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। সবচেয়ে বড় যেই ধরাটা ভারত খাবে তা হল, জংগি বিমানের পাইলট স্বল্পতা। প্রতি ১ টা বিমানের বিপরীতে ভারতের পাইট সংখ্যা ০.৮, মানে ১ এর চেয়ে কম (পাকিস্তান, চিন, যুক্তরাষ্ট্রের পাইলট সংখ্যা বিমান প্রতি ২ এর উপরে)। বিমান মরলে তা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব কিন্তু পাইলট মরলে দ্রুত পাইলট ট্রেইন আপ করা সম্ভব না।
ভারত মহা সাগর দিয়ে চিনের ট্রেড রুট বন্ধ করার যেই পরিকল্পনা ভারতের আছে, ঐ অন্চলে চাইনিজ সাবমেরিনের কারনে যেইটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। এছাড়াও পাকিস্তানের ভিতর দিনে ইকোনোমিক করিডোর হয়ে চিনের বিকল্প ট্রেড রুট বন্ধ করতে হলে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ লাগাতে হবে, যেইটা ভারত কখনই চাইবে না।
এই সুযোগে আমেরিকা ভারতকে সাহায্য করার নামে কিছু ব্যাবসা করে নিবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ৯:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



