somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কলম্বাস নয়, আমেরিকার আবিষ্কারক লাইফ এরিকসন -১ম পর্ব

২২ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লাইফ এরিকসনের আমেরিকা আবিষ্কারের অভিযানের উপর করা চিত্রকর্ম

ক্রিস্টোফার কলম্বাসই প্রথম ইউরোপিয়ান যে নতুন ভূমি তথা আমেরিকা আবিষ্কার করেছিল, সর্বজনবিদিত এই তথ্য সঠিক নয়। কলম্বাস নতুন ভূমিতে ১৪৯২ সালের আগে পৌছাতে পারেনি যেখানে লাইফ এরিকসন (Leif Erikson) তারও ৫০০ বছর আগে প্রায় ১০০১ খ্রিস্টাব্দে নতুন ভূমিতে পা রাখে।

লাইফ এরিকসনই প্রথম ইউরোপিয়ান যে কিনা নতুন ভূমিতে পা রাখার মধ্য দিয়ে ভাইকিংদের (Viking) জন্য এক সম্পদে পরিপূর্ণ দেশে অভিযানের দুয়ার খুলে দেয়। কিন্তু অজানা কারনে ভাইকিংরা লাইফ এরিকসনের আবিষ্কৃত ঐ নতুন ভূমিতে স্বল্প সংখ্যক কিছু অভিযান পরিচালনা করে। এবং দূর্ভাগ্যবশত এই কারনে সম্পূর্ণ ইউরোপজুড়ে তাঁর আবিষ্কার অজানা রয়ে যায়।

লাইফের জন্ম হয় আইসল্যান্ডে (Iceland) ৯৬০ খ্রিস্টাব্দে। তাঁর পিতার নাম এরিক দ্যা রেড (Erik the Red)। ভাইকিং প্রথা অনুযায়ী লাইফ ও তাঁর পরিবারের সাথে বড় হবার সুযোগ পায়নি। যখন তাঁর বয়স মাত্র আট তখন তাঁকে পাঠানো হয় থিরকার (Thyrker) নামে একজনের কাছে। থিরকার জাতীতে ছিল জার্মান এবং এরিক দ্যা রেড, লাইফের পিতা, তাকে সেখান থেকে বন্ধী করে আইসল্যান্ড নিয়ে আসে কিন্তু তাকে দাসত্বেবের পিঞ্জরে আবদ্ধ করেনি। থিরকার লাইফকে রুনে (Rune) লিখতে এবং পড়তে শেখায়। রুনে হল ভাইকিং সময়কার লিখন পদ্ধতি। সেল্টিক এবং রুশ ভাষা, বানিজ্য কৌশল, পুরোনো সাগা (Saga), উদ্ভিদবিদ্যা এবং অস্ত্রচালনা সম্পর্কেও লাইফ জ্ঞানার্জন করেছিল থিরকারের কাছে। সাগা হল ভাইকিং বীরদের বীরত্বগাঁথা নিয়ে রচিত বর্ণনা।


প্রয়োজনীয় সব শিক্ষা অর্জন করার পর লাইফকে যখন একজন স্বাবলম্বী পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তখন তাঁর বয়স মাত্র ১২ বছর। পিতৃগৃহে প্রত্যাবর্তন করে লাইফ। ফিরে এসে লাইফ দেখতে পায় তাঁর পিতার সম্পদের ব্যপক প্রসার ঘটেছে এবং তাঁর দল আগের তুলনায় বেশ ভারী হয়েছে। একদিন বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে তাঁর পিতা এক লোককে হত্যা হত্যা করে। এই কারনে তৎকালীন বিধানসভা এরিককে আইসল্যন্ড থেকে বিতাড়িত করে।

পূর্বে নরওয়ে থেকে বিতাড়িত হবার কারনে সেখানে ফিরে যাবার সুযোগ ও তাঁর ছিলনা। বলে রাখা ভাল, এরিক ছিল মূলত একজন নরওয়েজিয়ান ভাইকিং। নিরূপায় এরিক তখন তাঁর পরিবার, কিছু সংখ্যক দাস এবং অর্থ সম্পদের বিশাল ভান্ডার নিয়ে পশ্চিমের উদ্দেশ্যে পাল তোলে। কিছুদিন পর তারা একটি ভূমিতে ঘাঁটি বাঁধে যাকে সে গ্রীনল্যান্ড (Grønnland) নাম প্রদান করে। বিশ্বাস করা হয় যে এই অভিযানেই লাইফের গভীর সমূদ্রে নাবিক হবার হাতেখড়ি হয়।


সবুজ ভূমিতে (গ্রীনল্যান্ড) চারণ

নির্বাসনকালের সমাপ্তি না ঘটা অব্দি এরিক গ্রীনল্যান্ডে বেশ ক'বছর কাটিয়ে দেয় এবং লাইফকে নতুন অভিযান সম্পর্কিত শিক্ষা প্রদান করে। তিন বছর পর এরিক আইসল্যন্ডে ফিরে আসে এবং সেখানকার লোকজনকে গ্রীনল্যান্ডে আবাস গড়ার জন্য উৎসাহিত করে। দূর্ভিক্ষের কারনে সেই সময় আইসল্যান্ডের অবস্থা বেশ খারাপ যাচ্ছিল।

লাইফের বয়স তখন ১৫-১৭ হবে। একদিন সে একটি মেরু ভল্লুক দেখতে পায় বরফের চাঁইয়ের উপর। ভল্লুকটি শিকারের ইচ্ছে থাকলেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় বরফের চাঁই এবং সমূদ্র পাড়ের মধ্যবর্তী প্রবল স্রোত। অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তখন সে উজান স্রোতে নৌকা চালনা করে যা তাঁকে মেরু ভল্লুকটির কাছে পৌছে দেয়। ভল্লুক শিকারের পর সে ঠিক একই পদ্ধতি অবলম্বন করে তীরে ফিরে আসতে সমর্থ হয় যা উপস্থিত সকলকে অভিভূত করে।

একদিন নৌকার দেখাশোনারত অবস্থায় জীর্ণ-শীর্ণ পুরোনো একটি জাহাজ তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। লাইফ দ্রুতই বুঝতে পারে যে এই জাহাজ বিয়রন হেরগেলফসনের যে কিনা বছরখানেক আগে অভিযানে বেরিয়েছিল। জাহাজ ভিড়ানোর পর লাইফ জানতে পারে যে প্রচন্ডরকম কুয়াশার কারনে দিক নির্দেশনে করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এদিকে আসে। তারা আরও জানাল এক সবুজ ভূমির কথা যা তারা শুধু দূর থেকে দেখেছে কিন্তু তীর খুঁজে না পাবার কারনে সেখানে জাহাজ ভিড়াতে ব্যর্থ হয়।

(চলবে)
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×