নাস্তিকরা যখন কোরআন-হাদিস দিয়ে প্রমাণ করে দিচ্ছে কোরআনের আয়াত সাংঘর্ষিক, ইসলাম স্রেফ একটা কুসংস্কার, ইসলাম শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ তখন মাদ্রাসায় শিক্ষিত আলেমরা কোথায় থাকেন? আপনারা সারাজীবন ধর্মীয়গ্রন্থ নিয়ে পড়ে থাকেন । কোরআন আপনাদের মুখস্ত-ঠোঁটস্থ । ফেকাহ-শরীয়াহ আপানাদের কাছে কিছুই না । নাস্তিকরা যখন ইসলাম নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করে ব্লগ লিখছে, বই লিখছে তখন কোথায় থাকে আপনাদের জ্ঞানের অহংকার? কোথায় থাকে আপনাদের এতোদিনের শিক্ষা? আপনারা থাকতে কেনো স্কুল-কলেজ-ভার্সিটির কিশোর-তরুণ ছাত্রদেরকে সেই বাঘা বাঘা নাস্তিকদের যুক্তি খন্ডন করতে যেতে হয়? অথচ আপনারাই না ধর্মের ধারক বাহক হিসেবে দাবি করেন ! আপনারাই না মসজিদের খুতবায় মুসল্লীদের সামনে বয়ান মারেন, ফতোয়া দেন !
ধর্মের ধারক-বাহক হয়েছেন ধর্মব্যবসা করার জন্য? কিন্তু এটাও তো কোরআন দ্বারা নিষিদ্ধ । নাকি শুধু মসজিদ-মাদ্রাসা আবাদ করার জন্য? অথচ পৃথিবী আজ অশান্তি-অন্যায়-অবিচারে ভরপুর । মানবতা আজ কর্পোরেটের কাছে পরাজিত । ইসলাম আজ উপহাসিত, ঠাট্টা-বিদ্রুপ করার উৎকৃষ্ট ধর্ম । আপনারা ইসলামের জন্য কীবোর্ড ধরতে শিখেন নি, বৃটিশদের দেয়া মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত হয়ে শিখেছেন মাসলা-মাসায়েল, হাদিস-কোরআন দিয়ে সাধারণ মানুষদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধাতে, অনৈক্য সৃষ্টি করতে, মিলাদ পড়াতে, ওয়াজ-মাহফিল করে পকেট ভরতে, সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতে, ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি করতে । শিখেছেন এক আলেম হয়ে আরেক আলেমের ভুল ধরতে, কিভাবে ধর্ম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা যায় ।
আর যখন সরব উঠে নাস্তিকরা আল্লাহকে নিয়ে, মুহাম্মদ সাঃ কে নিয়ে, ইসলামকে নিয়ে কটাক্ষ করে কার্টুন তৈরি করেছে,অশ্লীল ও ব্যঙ্গ সাহিত্য রচনা করেছে তখন আপনাদের চেতনায় আঘাত লাগে, ঈমানে আঘাত লাগে ! তখন আপনাদের মধ্যে তৈরি হয় ঈমানী জযবা, শাহাদাতের তামান্না । চাকু-রামদা নিয়ে উদ্যত হোন নাস্তিক হত্যার জন্য । নিজেরা তো সেটুকুনও পারেন না । নাস্তিকহত্যার কাজটা আপনাদের শিষ্যদের দ্বারাই করিয়ে থাকেন অথবা অথবা নাস্তিকহত্যায় উজ্জীবিত তরুণরাই সেটা করে । কারণ, এ পর্যন্ত যতোগুলো নাস্তিক হত্যা হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে এসেছে যে তারা সবাই ছিলো তরুণ ।
হে স্বার্থবাজ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক আলেম সমাজ ! নিজেকে কখনো প্রশ্ন করেছেন, আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর জন্য জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা উচিত।” (সূরা হাজ্জ্ব-৭৮) সে হিসেবে কীবোর্ডের জবাব কীবোর্ড দিয়ে দেয়ার কথা । মসির জবাব মসি দিয়ে দেয়ার কথা, অসি দিয়ে নয় । কারণ, অসির জবাব অসি দিয়েই । তাছাড়া, আপনাদের তো ইসলামের অনেক জ্ঞান । জ্ঞানের লড়াইটা তো জ্ঞান দিয়ে হওয়ার কথা ছিলো । তাহলে সেটা না করে কেনো তরুণ মুসলিমদের উৎসাহ দিচ্ছেন নাস্তিকহত্যার? আলী রাঃ এর অসি-মসি দুটোই সমান চলতো । সেটাতো আপনাদের জানা আছে । আলী রাঃ কখনো অসির জবাব মসি দিয়ে দিয়েছেন আর মসির জবাব অসি দিয়ে??? কখনো নিজেকে প্রশ্ন করেছেন- একজন মানুষ নাস্তিক হয় কখন? ইসলামবিদ্বেষী হয় কখন? যখন সে তার উত্তর পায় না । যখন সে দেখে ধর্ম দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা হচ্ছেনা । ধর্মের ধারক-বাহকেরা ধর্ম দিয়ে ধর্মব্যবসা করছে । একজনের নাস্তিক হওয়ার পেছনে আপনাদের দায়ভারের প্রশ্ন যদি আল্লাহ তুলেন তখন কী জবাব দিবেন? কোনো উত্তর আছে আপনাদের???
যুগটা তথ্য-প্রযুক্তির । তাই জিহাদটা কীবোর্ড দিয়েই করতে হবে । মসজিদ-মাদ্রাসা-খানকা থেকে বেরিয়ে অনলাইনজগতে, অফলাইন জগতে আসুন । সাধারণ মানুষ দেখতে চায়, আপনাদের কত ইসলামের জ্ঞান আছে? ইসলামের জন্য আপনারা আপনাদের সাধ্য অনুযায়ী কতটুকুন করতে পারেন? ইসলামের জন্য আপনাদের ঈমানী জযবা কেমন? আসহাবরা ইসলামের জন্য স্বদেশ ত্যাগ করে আজীবনের জন্য বিদেশে বিদেশে কাটিয়ে দিয়েছেন, আর আপনারা এতোটুকুন পারবেন না? এ প্রশ্ন আজ অতি গুরুত্বপূর্ণ । কারণ দেশে একের পর এক নাস্তিক হত্যা বিবেকবান মানুষদের কড়া নেড়েছে । তাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে । জাতি এই ঘোর ক্রান্তি লগ্নে আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে । কারণ ধর্মের কর্তৃত্ব এতোদিন আপনাদের করায়াত্ত্বেই ছিলো, এখনও আছে । তাই আজকের এই ফেতনার অবসান আপনাদেরকেই দিতে হবে । এক আলেম শ্রেণি অন্য আলেম শ্রেণিকে দোষারোপ করে পার পাওয়া যাবেনা । নীরবতার কারণে সব আলেমই আজ দোষী ।
[প্রশ্ন করার আমি কে? আমি একজন সাধারণ মুসলিম ]
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১১:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


