somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে বই ‍আমাদের পড়তে দেয়নি: নেপথ্য কথা

২২ শে মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৫:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হরেন্দ্রনাথ মণ্ডল। একজন মুক্তিযোদ্ধা। গোপালগঞ্জের এই লোকটি থাকেন ঢাকাতে। সঙ্গে তার পুত্র সমুদ্র সৈকত। সৈকত আমাদের সহযোদ্ধা বন্ধু। গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম কর্মি।
চলতি বছরে পাঠ্যবই থেকে যখন প্রগতিশীল ও ভিন্নচিন্তার কয়েকজন লেখকের লেখা বাদ দিয়ে পাঠ্যবই পরিবর্তন করা হল, তখন আমরা দেখলাম সরকার মূলত মৌলবাদী সংগঠনগুলোর দাবী অনুযায়ী কাজটি করেছে। ভোটের রাজনীতিতে ধর্মকে বর্ম বানিয়ে দেশের এই নোংরা রাজনীতি বাংলাদেশটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? এই কি ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা?
বিষয়টা ভাবিয়ে তুললো মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্রনাথ মণ্ডলকে। ব্যাপারটা সৈকতকেও নাড়া দিলো। যখন পাঠ্যবইয়ের এসব অসংগতি দূর করার জন্য ছাত্র ইউনিয়ন, উদীচীসহ প্রগতিবাদী চিন্তার আমরা আন্দোলন শুরু করি তখন সৈকতও মাঠে নামে। সৈকতের মনের ক্যানভাসে ভেসে ওঠে ওর আড়াই বছরের ভাগ্নে কিঞ্জলের মুখ। ওর ভেতরে জমতে থাকে আশঙ্কা- বর্তমান শিক্ষার্থীদের মত অসংখ্য কিঞ্জল যে এই পাঠ্যবই পড়ে শিক্ষিত হবে সাম্প্রদায়িক আর ভুলে ভরা শিক্ষায়।
এমন সময় সৈকতের বাবা মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্রনাথ মণ্ডল সৈকতকে বললেন কিছু একটা করার জন্য। তিনি জানালেন তার পরিকল্পনার কথা। কারণ আজকের শিশুটির জানা দরকার- সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বশবর্তী হয়ে তাদেরকে কী পড়তে দেয়া হল না। বাবার পরিকল্পনা আর উৎসাহে সৈকত কাজ শুরু করলো। অল্প সময়ের মধ্যেই সে বাদ পড়া লেখাগুলো নিয়ে সংকলন তৈরি করে ফেলল। সংকলনটির নাম ‘যা আমাদের পড়তে দেয়নি’। ৪০ পৃষ্ঠার এই বইটিতে ঠাঁই পেয়েছে বাদ পড়া ১৭ টি লেখা।
হতবাক হতে হয় যে, এই লেখাগুলোর একটিও বিতর্কিত নয়। অথচ সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিতে এসব খারিজ করা হয়েছে, যা আমাদের জন্য চরম লজ্জার।
বইটি প্রকাশে যারা ভূমিকা রেখেছেন তারা হলেন ইব্রাহিম খলিল সবাক, নাহিদা নিশি, শোভন মজুমদার, রাকেশ মণ্ডল। আরেকজন আছেন। যিনি পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন, আমাদের আরেক সহযোদ্ধা, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা ও গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম কর্মি ব্লগার মারুফ রসুল। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন রাজীব দত্ত।
সৈকত আরও একটি সিদ্ধান্ত নিলো। সেটি হল- এই বইটা যে কেউ বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারবে। উদীচী অফিস থেকে বইটি সংগ্রহ করা যাবে। মানুষকে মানবিকতা ও প্রগতির পথে ফেরাতে সমুদ্র সৈকতের এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে ইতিহাস মনে রাখবে। আকারে ক্ষুদ্র হলেও এই কাজটির গুরুত্ব অনেক, তা দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়। স্যালুট বন্ধু সমুদ্র সৈকতকে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৫:৫১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অমর দিশারী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;

তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×