somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে ডাক্তারী কেন পড়ানো হয়; এরা কি আসলেই রোগ নির্ণয় করতে পারে ?

১৬ ই জুন, ২০১৫ দুপুর ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় ১৭ কোটির কাছাকাছি জনসংখ্যা নিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে দৌড়ে চলেছে বাংলাদেশ নামের জীবন্ত নরক। বর্তমানে বাংলাদেশ মানুষের নুন্যতম মৌলিক অধিকার নেই। মানুষ তাদের যা যা দরকার তা নিজেরাই কোন না কোন ভাবে ব্যবস্থা করে নিচ্ছে। মানুষ অমর নয় তার রোগ ব্যধি হবেই বা স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়বেই। ধনী থেকে গরীব সবাই এই এক জায়গায় ধরা। বর্তমানে বাংলাদেশে ৮৯ টি মেডিকেল কলেজ আছে যার মধ্যে ২৯ টি সরকারি বাকি ৫৪ টি বেসরকারি। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১০০০০ ছেলে- মেয়ে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয় আর ৫ বছর পর ডাক্তার হয়ে বের হয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় এরা কি মানসন্মত ডাক্তার হয়ে বের হয় না ৩০০/৫০০/৮০০ টাকা ভিজিটে গলির দোকান/ ফার্মেসী/ কর্পোরেট হাসপাতালে বসার জন্য বের হয়। বিল্ডিং দেবে গেলে বা কাত হয়ে গেলে বোঝা যায় ইঞ্জিনিয়ার খারাপ কিন্তু ডাক্তার খারাপ তা বুঝতে বুঝতে তো রোগীর জীবন প্রায় চলে যেতে বসে। বাংলাদেশের প্রতিটা শহরে দেখা যায় ডাক্তার এর নামের নিচে কম করে হলেও ৫-৭ টা ডিগ্রি আছেই। যারা এত পড়াশোনা করে এসেছে তারা কেন রোগ নির্ণয় করতে ব্যার্থ হবে?

ঘটনা
“আমার বাবা গত মার্চ থেকে জ্বরে(১০০-১০১ ডিগ্রি ফারেনাইট)ও কাশিতে কষ্ট পাচ্ছিলেন তার শ্বাসকষ্ট ও উচ্চ রক্তচাপ আছে। মাগুরাতে এক ডাক্তার কে দেখানোর পর তিনি টাইফায়েড মনে করে ৭ দিন সেপ্ট্রোন ইঞ্জেকশন দেন তাতে কাজ না হলে ঢাকা মেডিকেলের রেস্পেটরি বিভাগে ভর্তি করি (১৩ দিন ভর্তি ছিলেন)। সব ধরনের পরীক্ষা নিরিক্ষার পর বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলেন নিউমোনিয়া হয়েছে এবং তার চিকিতসা প্রদান করেন ( অনেক ধরনের দামি ইঞ্জেকশন) কিন্তু জ্বর ও কাশি কমলো না। এর পরে বলল বাবার নাকি যক্ষা হয়েছে কিন্তু কোন পরীক্ষায় এটা ধরা পড়েনি। এরপর ডাক্তাররা জ্বরের ও কাশির কারন উদ্ঘাটন করতে ব্যর্থ হয়ে টিবির ট্রায়াল ডোজ দেন...। কিছুদিন সেই ওষুধ খবার পর আবারো আগের মত জ্বর আসতে শুরু করেছে সাথে কাশি। ডাক্তারকে জানানোর পর তিনি বলেছেন আবার জ্বর আসা তো খারাপ! অবশ্য মাগুরার ডাক্তার বলেছেন ভারতে নিয়ে যান এখানে ট্রিটমেন্ট ভালো।

নতুন পাশ করা ডাক্তারদের কথা না হয় বাদ দিলাম কিন্তু যারা ডাক্তারি করতে করতে চুল বাল পাকিয়ে ফেলেছেন তাদের আসলে যোগ্যতাটা কোথায়? যোগ্যতাটা আসলে পাতা ভরে প্রেসক্রিপশন লেখা আর এক কুড়ি পরীক্ষা করতে দেওয়া। কিন্তু পরীক্ষার রিপোর্ট থেকে সমস্যা খুজে বের করার যোগ্যতা এদের আছে কিনা সেটা এখন দেখার বিষয়। একের পর এক কথা বলে রোগী ও তার আত্মীয়দের বিভ্রান্ত করা ছাড়া এদের কোন যোগ্যতা আসলেই নেই। আমাদের দেশের ডাক্তাররা কেবল সাধারন রোগের ট্রিটমেন্ট ছাড়া কিছু পারে না।
প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ ভারতে, থাইল্যান্ড, সিংগাপুর না হয় আমেরিকা চলে যাচ্ছে কেবল সুচিকিতসার জন্য কম বেশী সব রোগীর পেছনের দিকে তাকালে দেখা যাবে বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন চিকিতসা করিয়ে ফলাফল শুন্য তাই বিদেশ যাচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন আসা কি স্বাভাবিক নয়? জনগনের করের পয়সায় সরকারি ভাবে এক জন ছাত্রকে ডাক্তার হিসাবে গড়ে তুলতে কত টাকা খরচ হয় তার হিসাব আছে? আর বেসরকারিতে তো গাধা পর্যন্ত পিটিয়ে ডাক্তার বানিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

কত মানূষ যে ডাক্তার নামের এই হতচ্ছাড়াদের ভুল চিকিতসায় মারা যাচ্ছে বা রোগে ভুগছে তার ইয়াত্তা নেই। আমাদের মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তার বের হয় না, বের হয় স্বাপিচ ও ড্যাবের ভোটার ও সামরথক। এটা বাইওরে কল্পনা করা যায় না যে ডাক্তাররা সেবা ও গবেষনা বাদ দিয়ে রাজনীতি করে বেড়াচ্ছে। রাজনীতি করে দল করে বা নকল করে বা জোর খাটিয়ে পাশ করে আসছে এরা। তাহলে এরা কিভাবে বুঝবে রোগী কি রোগে ভুগছে? এরা যেটুকু পারে তা হল ওষুধ কোম্পানির লোকদের জন্য যারা ডাক্তারদের কোন রোগের কোন ওষুধ তা এসে বলে দিয়ে যায় প্রতিদিন।
কালে ভদ্রে দুই এক জন ভাল ডাক্তার হয় তাও নিজের যোগ্যতায় কিন্তু এদের সংখ্যা খুব নগন্য।

রোগে ভুগছে সমগ্র ডাক্তার সমাজ আর শিকার হচ্ছে জনগন














সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০১৫ দুপুর ১:১৩
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাওরাত ও যুক্তি দিয়ে কথা বলুন - ইহুদীরা আত্মসমর্পন করবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০০

গানঃ 'My Name Is Palestine' - Garth Hewitt
লিংকঃ Click This Link



জ্ঞানী মানুষ যুক্তি পছন্দ করেন। জ্ঞানী মানুষ অজ্ঞানতার বেড়াজাল থেকে নিজেকে বের করে যুক্তির মাপকাঠিতে নিজের জীবনকে সাজায় বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাময়িক পোস্ট: বিদায়ের আগে

লিখেছেন অর্ক, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৭



আমি নিজের লেখা ও অনুবাদ করা কিছু বই বের করতে চাই। এক্ষেত্রে কেউ কোনওভাবে সহযোগিতা করতে পারলে জানাবেন। গতকাল একজন নিয়মিত ব্লগারের মন্তব্যে ব্লগ বন্ধ হবার জোর সম্ভাবনার কথা জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×