somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেজর রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) এর দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধে সময়কালে বাংলাদেশের মানুষের শ্রেনী বিভাজন ও ব্লগের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মুক্তিযুদ্ধে ১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। একজন সাহসী ও উদ্যেমী মানুষ হিসাবেও উনার পরিচিতি সর্বত্র। মুক্তিযুদ্ধের উপর উনার লিখিত বই - লক্ষ প্রানের বিনিময়ে" আমাদের ইতিহাস পাঠ্যে একটা উল্লেখযোগ্য সংযোজন। চমৎকার ভাষায় লিখিত প্রথম পুরুষের বর্ননায় একজন পাঠক ইতিহাসের একটা কঠিন সময়ে সহজ বিচরন করতে সক্ষম হবে মেজর রফিকের হাত ধরে।

মেজর রফিক ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সমারিক বাহিনীর বাঙালী সদস্যদের ভুমিকার উপর ভিত্তি করে চারটি সুম্পষ্ট শ্রেনীতে ভাগ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এই শ্রেনী বিভাগটা সাধারন মানুষের ক্ষেত্রেও সমান ভাবে প্রযোজ্য।

মেজর রফিকের মতে -

১) স্বাধীনতার চেতনায় অনুপ্রানিত এবং আক্রান্ত হবার আগেই পাকিস্তানীদের উপর আক্রমন করার মানসিক ও দৈহিক প্রস্তুতি ছিল - এমন নিবেদিত ব্যক্তিগন প্রথম পর্যায়ভুক্ত। তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রথম অবস্থাতেই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

২) দ্বিতীয় দলটি স্বাধীনতার চেতনায় অনুপ্রানিত ছিল। কিন্তু তাঁরা পাকিস্তানীদের প্রাথমিক আক্রমনের ব্যাপারে ততটা সজাগ ও প্রস্তুত ছিলো না। তবুও, যে মুহূর্তে এআ তাঁদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠে যে শুধুমাত্র চাকুরী নয়, তাদের জীবনও বিপন্ন - তখনই তাঁরা পাকিস্তানী শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন।

৩) আর যারা জীবনের ঝুঁকি নেওয়াতো দুরের কথা, কর্মজীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে এমন পদক্ষেপ সম্পর্কেও বিরূপ মনোভাবাপন্ন ছিল - তাদের তৃতিয় পর্যায়ভুক্ত করা যায়। তাদের কাছে স্বাধীন বাংলাদেশই কী, অবিচ্ছিন্ন পাকিস্তানই বা কী? ব্যক্তিগত কর্মজীবন ও নিজের ভবিষ্যৎই ছিল তাদের মুল বিবেচ্য বিষয়। স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধাগন ও শত্রু পাকিস্তানি - দুই পক্ষের সাথেই এরা অত্য্ন্ত সুকৌশলে সমান সম্পর্ক বজায় রাখছিলো - যাতে যে পক্ষই বিজয়ী হোক না কেন - তাদের যেন কোন অসুবিধা না হয়। এই দলভুক্তরা তখনই যুদ্ধে অবতীর্ন হয় যখন তাঁরা বুঝতে পারে তাদের জীবন হুমকীর মুখে। তাই স্বাধীনতা যুদ্ধে এই দল পরিস্তিতির চাপে পড়েই যুদ্ধে অংশগ্রহন করে, স্বেচ্ছায় নয়।

৪) চতুর্থ দলে রয়েছে অতি নগন্য সংখ্যক কিছু ব্যক্তি যারা পাকিস্তানি প্রভুদের অনুগত দাস ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা তাদের কাছে অর্থহীন।

স্বাধীনতাযুদ্ধে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে পুরো বাঙালি জনগোষ্ঠীই অংশ নিয়ে ছিল। তবে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দালালি করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে।



---

বেশ অনেকদিন পর ব্লগে লিখতে পেরে ভাল লাগছে। বিশেষ করে বিগত কয়দিনের ব্লগের আন্দোলন দেখে মনে হলো মেজর রফিকের সমাজ বিশ্লেষনটাই পোস্টের জন্যে মোক্ষম হব। কারন হলো - যুদ্ধ, প্রকৃতিক দুর্যোগের মতো বিশাল বিপদে মানুষ তাদের বাইরের আবরনটাকে ধরে রাখতে পারে না। প্রকৃত চেহারা প্রকাশিত হয়ে যায়। আর মুক্তিযুদ্ধের থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। যারা ব্লগের আন্দোলন চলাকালে চলমান ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন - তাদের জন্যে স্বরূপ চেনার একটু সুবিধা হবে বিবেচনায় মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাসকের দিকেই হাত বাড়ালাম।

যারা ফিরে এসেছেন - সবাইকে অভিনন্দন। যারা এই আন্দোলনে সরব ও নিরব সমর্থন দিয়েছেন - সবাইকে অভিবাদন।

আশা করছি - ব্লগ কর্তৃপক্ষ বিগত দিনর ঘটনাবলী বিশ্লষন কর মুল সমস্যা - মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করে যে কোন প্রচার প্রচারনা বা কোন ধর্মব্যবসায়ী রাজনৈতিক দল বা তার অংগ সংগঠনের প্রচার এবং যুদ্ধাপরাধীর পক্ষের সকল প্রপাগান্ডা ও প্রচারনা বন্ধের লক্ষ্যে একটা সুস্পষ্ট নীতিমালা চালু করবেন। নীতিমালার এই ধারাটা জরুরী - কারর এরই মাধ্যমে সুস্থ ব্লগিং এর ধারাকে নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমাহোয়ার হয়ে উঠবে সকলের মিলন মেলায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৪২
১০টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামুর ঈদ কবে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬




সবাইকে ঈদ মুরাবক!

ঈদ কেমন গেলো? পুরো রমজানের দুআা কতটুকু কাজে লেগেছে? বৃষ্টি ভেজা, বজ্রপাতে কোনো ভোগান্তি হয়েছে : প্রিয়জন সব ঠিকঠাক আছে? আহত বা নিহত হয়েছে?? ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-৩

লিখেছেন অর্ক, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪৫



সারাজীবন আমি মানবতা, সত্য, শুভ, সুস্থ, সুন্দরের চর্চা করে এসেছি। আমার উপর শতভাগ আস্থা রাখতে পারেন। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে আমি কিছু বলি না, দাবি করি না। এই যুদ্ধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইহুদীদের ষড়যন্ত এবং আমেরিকার খনিজ সমৃদ্ধ ভূমী দখলের লীলাখেলা।

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪২



র্দীঘদিন ধরে ইহুদীরা মুসলিমদের সন্ত্রাসী পরিচয় তকমা দিয়ে বিশ্ব দরবারে ঘৃন্য জাতি সত্ত্বাতে পরিনত করার অপেচেষ্টায় রত ছিলো। মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী প্রথমেই ধারনা দিতে তৈরি করা হল আল কায়দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯১

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৩৯

প্রিয় কন্যা আমার, আজ ইদের দিন!
একমাস ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সিয়াম সাধনা করেছে। রমজান মাস মূলত সংযমের মাস। ফাজ্জা কাউকে আমি দেখিনি সংযম করতে। রমজান মাসে সবাই বিলাসিতা করেছে। খাওয়া দাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি সত্যিই দেখি, নাকি যা বিশ্বাস করি কেবল সেটাই দেখি ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২৯


গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কমলা বেগম ঈদের সকালে গোরুর মাংস রান্না করতে বসেছিলেন। গতবছর কোরবানির ঈদে মানুষের বাড়ি থেকে চেয়ে আনা মাংস, মাসের পর মাস পাশের বাড়ির ফ্রিজে থাকা, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×