somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রবি ঠাকুর নিয়ে অহেতুক বিতর্কঃ একটি প্রস্তাব

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৫:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত দুইদিন যাবত ব্লগে দেখছি একদল রবি ঠাকুরকে নিয়ে বিতর্ক করছে। বিষয় রবি ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা করেছেন কি না।

একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে - বিতর্কের উপস্থাপক কিন্তু বিতর্কের উপস্থাপন এভাবে করেনি। তার সুরটা ছিল এই রকম:

১) রবি ঠাকুর যে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা করেছিলেন সেইটা নিশ্চিত।
২) ড. আনোয়ার হোসেন রবি ঠাকুরে সাহিত্য থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে একটা মহা অন্যায় করেছেন - কারন উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে সেই বিশ্ববিদ্যালয় স্হাপনের বিরোধিতাকারীর সাহিত্য থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অপমান করেছেন।
৩) ড. আনোয়ার হোসেন একজন স্বল্প স্মরনশক্তির মানুষ (মাছের মতো) হিসাবে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে যোগ্য কিনা?


কিন্তু ব্লগে দেখলাম একটা পয়েন্টের উপর দারুন একটা পোস্ট দিয়েছেন সুশান্ত। কিন্তু সেটা কি তাদের জন্যে যথেষ্ঠ?

উত্তর হবে - না।

কারন, যারা বিতর্ক সৃস্টি করছে তাদের উদ্দেশ্য ব্লগে এসে জ্ঞানার্জনের জন্যে যে এই কর্মটা করে না - সেইটা হলফ করে বলা যায়।

তাহলে তাদের এই বিতর্ক সৃস্টির কারন কি?

যদি পাঠকদের মনে থাকে - মোনায়েম খান নামে এক গভর্নর ছিলো পূর্ব পাকিস্থানে। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডেকে বলেছিলো - হিন্দু একটা লোকের গান কেন আমরা শুনবো - আপনারা রবীন্দ্র সংগীত লিখতে পারেন না।

সেই সুবাদে কায়কোবাদ হয়ে যান মহা কবি। আর রেডিও - সরকারী অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ হয় রবি ঠাকুরের গান। বিস্তারিত জানার জন্যে ছায়ানটের জন্মের ইতিহাসটির দিকে একটু চোখ বুলানো যেতে পারে।

মোদ্দা কথা হলো - মোনায়েম খানকে মারা গেলেও তার প্রেতাত্না এখনও কারো কারো উপরে ভর করে আছে।

তারপর আছে ড. আনোয়ার হোসেন - যিনি প্রগতিশীল হিসাবে পরিচিত। রবি ঠাকুরে সাথে যদি এক ঢিলে তাকে ফেলে দেওয়া যায় - ক্ষতি কি?

তারপর আসবে রবি ঠাকুর যেহেতু বঙ্গভঙ্গ চান নি - সুতরাং তার গান কেন জাতিয় সংগীত হলো...ইত্যাদি।

কিন্তু বাঙালীর কাছে রবি ঠাকুরে ব্যক্তি জীবনের চেয়ে তার সাহিত্য কর্মের মূল্য অনেক বেশী। রবি ঠাকুরের কাছে আমাদের ঋণ - উনি বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যের দরবারে স্থান করে দিয়েছেন - সমৃদ্ধ করেছে বিপুল ভাবে।

একজন বাঙালী হিসাবে এই ধরনের বিতর্কে অংশ গ্রহন করে সময় নষ্ট না করে কয়টা রবীন্দ্র সংগীত শুনাকে শ্রেয়তর কর্ম মনে করি। কারন ব্যক্তি রবি ঠাকুরে চেয়ে তার সাহিত্যকর্মই আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ন।

অনেকেই হয়তো একমত হবেন এই বলে যে কর্মের চেয়ে ব্যক্তি বড়। ঠিকাছে। আপনার এই মত থাকতেই পারে।

যারা ব্যক্তি রবি ঠাকুরকে নিয়ে তর্ক করে তাকে বাংলাদেশ বিরোধী বানাতে চান - তারা আবার ঘটনাচক্রে গোলাম আজমের অনুসারীই বেশী। তাদের কাছে একটা বিতর্কের প্রস্তাব দিতে চাই:

"শুনা যায় (কোন ভাল হাতে সূত্র নেই) গোলাম আজমের এক ছেলে তার চাচীকে ভাগিয়ে নিয়ে গেছে। যে তার নিজের ছেলেকে সুশিক্ষা দিতে ব্যর্থ - তার অনুসরন করে কি ধরনের আদর্শিক হবে সমর্থকগন।"

আসুন বিতর্ক শুরু করি।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৫:৪৯
১৫টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×