মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য চলতি বছর থেকে আর ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক জানিয়েছেন, এখন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জিপিএর ভিত্তিতেই এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
আবেদনের জন্য দুই পরীক্ষা মিলিয়ে অন্তত ৮ জিপিএ থাকতে হবে।
আজ ১২ আগস্ট,রোববার,স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
অনেকক্ষণ থেকে একটা জিনিস ভাবছি।সিদ্ধান্ত আলোচনা করে নেয়া হয়েছে।মেডিকেল কলেজসমূহের সিনিয়র স্যার,শিক্ষা ব্যবস্থার নীতি-নির্ধারকরা নিশ্চয়ই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।কোন মানুষই কি এই সিদ্ধান্তে ভেটো দেন নি?ভাবছি আর অবাক হচ্ছি........ একটা মানুষকেও আমি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলতে শুনলাম না।অনলাইনের কল্যাণে আজকাল প্রতিক্রিয়া জানা তো কষ্টসাধ্য কোন ব্যাপার না।
এই মানুষগুলো কোন কোন পয়েণ্ট চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঠিক ধরতে পারছি না।
১.প্রথমত যেটা শুনেছি দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য।
প্রতিবছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়।কোন কোনবার ঢালাওভাবে,কখনো রেখে-ঢেকে।এর সাথে জড়িত আছেন নামী-দামী মানুষরাই।সরকারের পক্ষে এটা কি খুব কঠিন কাজ-পেছনের মানুষগুলোর মুখোশ খুলে ফেলা?দুর্নীতির হাতটা টেনে ধরা?আমার মনে হয় না।
একই ঘটনা তো এস.এস.সি.,এইচ.এস.সি. পরীক্ষার ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে।তখন কি তার সমাধান হবে সেই পরীক্ষাগুলোও বন্ধ করে দেয়া?
২.দ্বিতীয়ত,কোচিং ব্যবসা বন্ধ করার জন্য।
বুয়েট,ভার্সিটি-সব ক্ষেত্রেই তো ভর্তি কোচিং করতে হয়।তুলে দিতে হলে সব একসাথে তুলে দেয়াই মনে হয় ভাল হবে।
আর এ বছর তো এতগুলো শিক্ষার্থী এত এত টাকা দিয়ে ইতোমধ্যে ভর্তি হয়েই গেছে।এই লোকসান কে পোষাবে?তবে এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কথা-এই সিদ্ধান্তই অনেকখানি ভুল।আগামী বছরগুলোতেও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা করলে সেটা হবে ভুল সিদ্ধান্ত।
৩.শুনলাম,মেডিকেলে নাকি মানসম্মত স্টুডেন্ট ভর্তি হচ্ছে না।
কিন্তু এই নতুন নেয়া সিদ্ধান্তে কি খুব মানসম্মত স্টুডেন্ট পাওয়া আদৌ সম্ভব?এখন মেধা যাচাইয়ের একটু হলেও সুযোগ অন্তত আছে।সরকার সেটাও বন্ধ করে দিতে যাচ্ছেন।
আমাদের এক স্যার মাঝে মাঝে মজা করে বলেন-‘আমাদের খুব ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্টদের দরকার নাই মেডিকেলে।আমাদের দরকার গাধার মত স্টুডেণ্ট।যতই বোঝা চাপাবা,সে নিতে প্রস্তুত থাকবে’ ।
৪.নতুন নেয়া সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা প্রশ্নের সম্মুখীন।
আমাদের স্টুডেণ্টরা তাদের নিজেদের নাম্বার জানে না।সেক্ষেত্রে পুরা সিস্টেমটা থেকে যাচ্ছে চোখের আড়ালে।দুর্নীতির কালো থাবা এতে কমবে না,বাড়বে।
আর নাম্বারের ব্যাপার চলে আসলে তো জি.পি.এ. সিস্টেম চালু করার কোন দরকার ছিল না।
দুটো পরীক্ষাতেই গোল্ডেন জি.পি.এ. ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।সে তুলনায় মেডিকেল কলেজে সীট সংখ্যা অপ্রতুল।একই নাম্বার প্রাপ্ত দুজন যে একই মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবে তার নিশ্চয়তা কী?আর স্বচ্ছতাই বা কোথায়?
৫.পরিবর্তন ভালো যদি তা পজিটিভ হয়।
কিন্তু এ ধরণের পরিবর্তন তো,মাথাব্যাথায় মাথা কেটে ফেলার শামিল।
পুরো দেশে এত এত শিক্ষার্থী ভিন্ন ভিন্ন বোর্ডের আওতায় ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়।ঢাকা বোর্ডের প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ হয়।আবার অন্যান্য বোর্ডের খাতা উদারচিত্তে দেখা হয়।
এই ব্যাপারগুলোয় সমতা না এনে এমন সিদ্ধান্ত তো নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার নামান্তর।
৬.সবচেয়ে বেশি দুঃশিন্তা হচ্ছে তাদের নিয়ে,যারা দ্বিতীয়বার চেষ্টা করছে মেডিকেলে ভর্তির জন্য।
চিন্তা করলে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে।আর আজকালকার আবেগপ্রবণ ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ভয় হয়।এই সময়টাতে মানসিক অবস্থা বেশ নড়বড়ে থাকে।না জানি কখন আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
এগুলো কি চিন্তা করেছেন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা?মনে হয় না........
এবারের শিক্ষার্থীরাই আন্দোলন করে এইচ.এস.সি. পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তন করেছিল।সরকার ভুল একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে পরে পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিলেন।এবারেও এরা বসে থাকবে না নিশ্চয়ই।ঐ যে কথায় আছে-‘ভাবিয়া করিও কাজ,করিয়া ভাবিও না’।আমাদের সরকারকে দেখলে মনে হয় তারা কথাটার সাথে একদম অপরিচিত।তবু রুটিন পরিবর্তনে সরকারের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছিলাম।এবারও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সবাই সাধুবাদ জানাবে।কিন্তু বারবার এমন ভুল সিদ্ধান্ত নেয়াটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?
তবু চাইব,দেরিতে হলেও সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

