somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাদুর ছোঁয়া

১৯ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি ভাবি,ভাবতেই থাকি-একজন মানুষ একটা কলম দিয়ে কীভাবে আরেকজনের মানুষের সত্ত্বায়,পরিবারে,পুরো জীবনটাতে আসন গেড়ে বসে যায়!শুধু আর একজন মাত্র মানুষ না,শত-শত হাজার-হাজার মানুষ।পাঠক মানুষ।পৃথিবী তাঁকে বিদায় দিলেও এসব পাঠক মানুষ তাঁকে বিদায় দিতে পারে না।তারা চায় না কিংবা তাদের সেই ক্ষমতাই নেই।
চায়ের কাপে রাজনীতি যেমন একটা ঝড় তোলা টপিক,তেমনি হুমায়ুন আহমেদ ছিলেন আরেকটা টপিক।এমন কোন বন্ধু-মহল হয়তো নেই যাদের চায়ের কাপের আড্ডায় অন্তত একদিন হুমায়ূন ছিলেন না।জেনে তর্ক,না জেনে তর্ক,মেনে কিংবা না মেনে তর্ক,ব্যক্তি কিংবা লেখক সত্ত্বা বিশ্লেষণ,উপন্যাসের চরিত্র বিশ্লেষণ-আসর ভেঙ্গে না ওঠা পর্যন্ত চলতেই থাকতো।
আমি নিজের কথা চিন্তা করলেই অবাক হয়ে যাই।
ছোটবেলা দেখতাম হুমায়ূন আহমেদ ছিল বড়দের জন্য।আমাদের জন্য তিন গোয়েন্দাই ভালো।এখন ওগুলো পড়া যাবে না।পড়লে ইঁচড়ে পাকা হবার সম্ভাবনা প্রবল।অনেক গালাগালি থাকে,আজেবাজে কথা নাকি থাকে তার বইয়ে।যা হোক,ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলাম।একসময় হাতের কাছে একটা বই পেয়ে পড়েও ফেললাম।ভালো লাগলো না তেমন।হয়তো তখনো বয়সটা আমার গ্রীন সিগন্যাল দেখেনি।নয়তো আগে থেকে আরোপিত নেতিবাচক মতামতের প্রভাব ছিল।পরবর্তিতে আরো পড়লাম।ধীরে ধীরে ভালো লাগতে থাকলো।
খুব ভালো লাগতো মিসির আলী।কিশোর পাশার সাথে কোথাও কী সূক্ষ মিল ছিল!জানি না,ভালো লাগতো।হিমু পছন্দ করতাম না।কেমন উদ্ভট সব কাজ কারবার করে!পাগলের মত লাগে।অথচ হিমুর,মানুষকে ভড়কে দেবার এই স্বভাবটা আমরা সবাই কম-বেশি লালন করি।অনেক পরে বুঝেছি।হিমুর প্রতি ভালোলাগাটাও এসেছে অনেক পরে।এতোই ভাললাগা যে,মাঝে মাঝেই নিয়ম ভেঙ্গে হিমু হতে ইচ্ছে করে।অথবা ইচ্ছে করে নিয়ম ভাঙ্গার পর নিজেকে হিমু ভাবতে ভাল লাগে।
শুভ্রর সাথে পরিচয় আরো পরে।এত শুদ্ধ মানুষ হয়!কীভাবে হয়!কেন হয়!আমার যদি কখনো শুভ্রর মত কারো সাথে বাস্তবে দেখা হতো!প্রতিটা মেয়েই বোধহয় নিজের পাশে একজন শুভ্রকে দেখতে চায়।হোক না সে কিছুটা বাস্তবতা বিবর্জিত মানুষ!
কদিন আগে কক্সবাজার ঘুরে আসলাম বন্ধুরা মিলে।একঝাঁক বন্ধু।পাখির মত মুক্ত।ট্রেনে করে রাতের বেলা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা।মনে হচ্ছিল ‘দারুচিনি দ্বীপ’ এ যাচ্ছি বুঝি।কক্সবাজারে সাগরতীরে খোলা আকাশের নীচে বসে চাঁদের আলোয় রূপালী ঢেউ গোনা-এই দৃশ্যটা যে চমৎকার,অসম্ভব সুন্দর-সেও কী এই বই পড়েই জানা নয়!অনুভূতিগুলোর পরিপূর্ণতা প্রাপ্তির পেছনেও যে এই লেখকের অবদান ভুলতে পারব না।
সেই কোন ছোট্টবেলায় ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটক দেখাতো বিটিভিতে।মনে আছে মোনা আপা,বকুল,বাকের ভাই,মতি,’লাল দোপাট্টা’ গান,চায়ের দোকান।মনে আছে বাড়ির উঠানে মোনা আপা,বকুলরা মিলে বৃষ্টিতে ভিজতো।আমরাও ভাই-বোনরা কত বৃষ্টিবেলায় বারান্দায় কিংবা ছাদে দৌঁড়ে গেছি,বৃষ্টিতে ভিজেছি একসাথে।কোথাও অবচেতন মনে এই দৃশ্য হয়তো চিরস্থায়ী ছবি এঁকেছিল।
‘শ্রাবণ মেঘের দিনে’ ছবিতে ডাক্তার মেয়েটা (অভিনেত্রী মুক্তি) গ্রামে গিয়ে প্রথম কোন বাচ্চা ডেলিভারী করালো।এরপর তার যে সীমাহীন আনন্দ,মাঠে ঘুরে ঘুরে আকাশে মুঠো মুঠো আনন্দ উড়ানো-দৃশ্যটা চোখে ভাসে আমার।আমার প্রথমবারের মত স্বেচ্ছায় ডাক্তার হবার ইচ্ছে জেগেছিল।
আমার এতটাই জুড়ে ছিল তাঁর সৃষ্টি,তাঁর লেখা।‘বহুব্রীহি’ পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল,বইটা যেন তাড়াতাড়ি শেষ না হয়ে যায়।খোকার মত বড় ভাই না থাকা আমার আফসোস ছিল।এমনি কত শত ঘটনা-সব বলে শেষ করা সম্ভব না।মানুষটা এত কাছে এসেছিলেন শুধুমাত্র কলম দিয়ে,যাদুকরী লেখনী দিয়ে।ভাবলে কেবল অবাক হতে হয়!অবাক বিস্ময়টাকে বাড়িয়ে দিয়ে তিনি এই লেখাতেই বেঁচে থাকবেন আরো অনেক যুগ।বৃষ্টিতে,জোৎস্নাতে,মধ্যবিত্ত সংসারের বন্ধনে,ভালবাসাতে.............
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাইভেট জব

লিখেছেন রোদ্র রশিদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১০



গত পনেরো দিন ধরে নতুন ম্যাডাম ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। ট্রায়াল ক্লাস। ম্যাডামকে এখনো কলেজে পারমানেন্ট করা হয়নি। উনি খুব একটা খারাপ পড়ান না।

আজকের ক্লাস শেষে ম্যাডামের মন খুব খারাপ।
খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ যখন মানুষটা চলে যায়

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩




স্ত্রী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মানুষের মাথায় কী কী চিন্তা আসে আমি জানি না। কেউ হয়তো প্রথমে রাগ করে। কেউ ভেঙে পড়ে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

×