somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রমজান মাস এবং ছোটবেলার শিক্ষা....

২৬ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলা থেকে জেনেছি রমজান মাস পবিত্র মাস।আত্বশুদ্ধির মাস।নির্দিষ্ট বয়স থেকে রোযা রাখা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয কাজ।ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে রোযা অন্যতম।এগুলো ছোটবেলা শিখেছি।বইয়ে পড়েছি,স্কুলে ধর্ম শিক্ষক বলেছেন।আম্মু বলেছেন,আব্বু বলেছেন।বাসায় যে হুজুরের কাছে পড়তাম,উনিও বলেছেন।
ঠিক কোন ক্লাশ থেকে রোযা রাখতে শুরু করেছি মনে নাই।তবে ফরয রোযা কখনো বাদ দেই নি,এটা জানি-সে যতো কষ্টই হোক না কেন।আম্মু বরাবর উৎসাহ দিয়ে গেছেন।পরীক্ষা সামনে,রোযা রাখার দরকার নাই মা,পড়তে পারবি না-এমনটা বলেন নাই কখনো।অথচ আমার ক্লাশমেট বন্ধুটিকেই দেখেছি,পরীক্ষা আসলে কী অবলীলায় ফরয রোযা বাদ দিয়ে দিচ্ছে!বন্ধু হিসেবে কিছু বলা কর্তব্য মনে করলাম।বুঝাতে গেলাম।বললো-‘আব্বু বলেছে,রোযা রাখার দরকার নাই।পড়াশোনার ক্ষতি হবে।আল্লাহর কাছে আব্বু আমার রোযার হিসাব দিবে’।আর কিছু বলার খুঁজে পেলাম না।আমার আব্বু-আম্মু আমাকে যতটা ভালোবাসে,ওর আব্বু-আম্মু কী ওকে তার চেয়েও বেশি ভালবাসে?আল্লাহ কি এরকম কোন ব্যবস্থা রেখেছেন-একজনের হিসাব আরেকজন দিতে পারবে?আমার ছোট্ট মনে অনেক প্রশ্ন খেলে যায়.....
রোযায় সব ভাল গুণগুলির চর্চা করতে হয়।পরবর্তী মাসগুলো যেন এই চর্চা অব্যাহত থাকে,সেই চেষ্টাও করতে হয়।টুকটাক মিথ্যে বলার অভ্যাস থাকলে বাদ দিয়ে দিতে হবে।সত্য বলতে হবে।এই মাসে কোন মিথ্যে বলা যাবে না।চুরি করে ভাই-বোনের ভাগের চকলেট থেকে দুটো বেশি খেয়ে ফেলা যাবে না।গালি তো কাউকে দেয়াই যাবে না,একটু রাগ দেখানোও যাবে না।কারণ আরেকজনও তো রোযাদার!আর কেউ আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করলে বলতে হবে-আমি রোযাদার।শিক্ষাগুলো কী ভুল ছিল!আজ মাঝে মাঝে ভাবি আর অবাক হই!
আশেপাশে রোযাদার মানুষের সংখ্যা কমে গেছে অনেক।রাস্তা-ঘাটে খাবার দোকানগুলি কয়েক বছর আগেও আড়াল করে খোলা রাখা হতো।চক্ষুলজ্জ্বার একটা ব্যাপার আছে তো!চক্ষুলজ্জ্বার ব্যাপার ছিল।এখন আর নাই।রাস্তায় বেরুলে বোঝার উপায় থাকে না-এটা রমযান মাস।দেখে মনে হয়-রমযান মাস শপিং এর মাস।সারা বছরের সব শপিং এই মাসেই শেষ করতে হবে।তা সে যেভাবেই হোক!শপিং করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে গেলে আমি রোযা রাখবো কেমনে বলো!মরে যাব নাকি!চিন্তা-ভাবনাগুলো আজকাল এমনই।ফরযের কথা মনে করিয়ে দিলে শুনতে হয়-সবার আগের ফরয কাজ নামায।সেটারই খবর নাই,রোযা রেখে কী হবে!আমি মনে মনে বলি,সেটার খবর রাখতে কে নিষেধ করেছে শুনি!
রমযান আমাদের সংযম শেখায়।যে গরীব শিশুটা দুবেলা পেট পুরে খেতে পায় না,তার কষ্ট অনুভব করতে শেখায়।অবশ্য যদি অনুভূতির দরজা আমরা খোলা রাখি তবে।নয়তো ভোর সকালে একবার পেটপূজো আর ইফতারে একবার ভুরিভোজই হবে।এর বেশি কিছু হবে না।উল্টো অপচয় হবার আশংকা আছে।কিছুদিন আগ পর্যন্ত ইফতার বাইরে করার রীতি গড়ে উঠেছিল।পুরান ঢাকায় একদিন ইফতার না করলে তো লাইফটাই বৃথা!এখন সাথে যোগ হয়েছে সেহরি!রাজ্জাকে সেহরি না করলে ইজ্জত থাকে কেমনে!সমস্যা এখানে না,সমস্যা অপচয়ে!সমস্যা শো-অফ এর প্রবণতায়!সমস্যা হোটেলের বাইরের অভুক্ত শিশুদের নিয়ে!রমযান মাস কী এমন শিক্ষা দেয়!কোনকালে দিয়েছিল?
সংযম তো আমরা করি না।প্লেট ভরা খাবার নিয়ে,ইফতারের পর নড়তে-চড়তে কষ্ট হয়।এভাবে তো সংযম হয় না।আজ ওমুক,কাল তমুকের বাসায় দাওয়াত।দাওয়াত মানেই এলাহী কারবার!এমন তো কথা ছিল না।দাওয়াত এ পারস্পরিক সম্পর্ক,সৌহার্দ্য,ভ্রাতৃত্ব বাড়ে।সবই ঠিক আছে।কিন্তু আয়োজনটা একটু কম করলে কি মান-সম্মান খুব কমে যাবে?সংযম করার কথা,বিলাসিতা তো না!
আমরা গরিবের ব্যথায় সমব্যাথী ঠিকই।কিন্তু কজন এগিয়ে যাই তাদের জন্য?তাদের কোন একজনের একদিনের ব্যাথা লাঘব করার তৌফিক তো সৃষ্টিকর্তা অনেককেই দিয়েছেন।কজন করতে পেরেছি?আমাদের খাই-খাই স্বভাব এই দুনিয়ার জীবনকেই খেয়ে ফেলছে।আমরা টের পাচ্ছি না।ঘুণপোকার মত খাচ্ছে।বাইরের কাউকে এই পরিবেশে এনে ছেড়ে দিলে সে কিন্তু ঠিকই টের পেতো পরিবর্তনগুলো।কিন্তু আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
সহমর্মিতার নামে আমরা যাকাত দেই।লোক দেখানো সেই যাকাতে পদদলিত হয় মানুষ।মরে যায় টুপ করে।টিভিতে সংবাদপাঠিকা খবর পড়েন,পত্রিকায় সংবাদ হয়-ব্যস,শেষ।এমন হবার কথা ছিল না।আমরা অনেক নিষ্ঠুর হয়ে গেছি।চোখের জল শুকিয়ে গেছে অনেক আগেই।মৃত্যু এখন আমাদের আর নাড়া দেয় না।আমরা জীবনের গান গাই।জীবনের গান আমাদের গাইতে হবে।বাঁচতে হলে গাইতে হবে।কিন্তু মৃত্যুকে অস্বীকার করে নয়,ভুলে গিয়ে নয়।
রাস্তায় বেরুলে অনেক কিছুই দেখা যায়।একটু চোখ কান খোলা রাখতে হয় কেবল।সেদিন দেখলাম তিন পথশিশু একটা আম নিয়ে কাড়াকাড়ি করে খাচ্ছে।বড়লোকের বাচ্চাদের মত হাসি-খেলা কাড়াকাড়ি নয়,আদতেই কাড়াকাড়ি।ক্ষুধার্তের কাড়াকাড়ি।ভাবছিলাম কী করা যায়!পকেট তখন গড়ের মাঠ।একটু পরেই দেখি রাস্তার ওপার থেকে আম কিনে এনে একজন তরূণ ওদের তিনজনের হাতে তিনটা আম তুলে দিল।দিয়েই ভীড়ের মাঝে হারিয়ে গেল।একেই বুঝি বলে সহমর্মিতা।
সে যদি পেছন ফিরে তাকাতো,তবে দেখতে পেতো নিষ্পাপ মুখের অবাক হওয়া হাসি।এই হাসিটুকু দিয়েই কি জীবনের গান রচিত হতে পারে না!পারে তো.... নিশ্চয়ই পারে।নয়তো আমাদের মানুষ পরিচয়টাই যে মিথ্যে হয়ে যায়।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাইভেট জব

লিখেছেন রোদ্র রশিদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১০



গত পনেরো দিন ধরে নতুন ম্যাডাম ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। ট্রায়াল ক্লাস। ম্যাডামকে এখনো কলেজে পারমানেন্ট করা হয়নি। উনি খুব একটা খারাপ পড়ান না।

আজকের ক্লাস শেষে ম্যাডামের মন খুব খারাপ।
খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ যখন মানুষটা চলে যায়

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩




স্ত্রী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মানুষের মাথায় কী কী চিন্তা আসে আমি জানি না। কেউ হয়তো প্রথমে রাগ করে। কেউ ভেঙে পড়ে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

×