
অরুনিমা অরুনিমা, ছাড়ো ছাড়ো ', সামনের উপস্থিতিকে চমকে দিয়ে বলে উঠে পাখিটা।
আর তা শুনেই হেহে করে বিকট শব্দে হেসে উঠে প্রিয়ন্ত আর নীলা। ' দেখছো কিভাবে ডাকে কাকাতুয়াটা?,' নীলার গলায় মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে। ' ওটা ককেটিয়েল, কাকাতুয়া নয়' শুধরে দেয় প্রিয়ন্ত। 'কাকাতুয়ার একটা জাত বটে তবে।'
ঠোঁট জোড়া ফুঁপিয়ে বলে উঠে নীলা, ওই একই কথা। অতশত বোঝ গিয়ে তুমি। আমার বুঝে আর কাজ নেই।
- উপহারটা তাহলে আসলেই পছন্দ হয়েছে? চোখ ভরা আগ্রহের নীলার দিকে তাকায় প্রিয়ন্ত।
- খুব! নীলার গলায় আহ্লাদ ঠিকরে পড়ে।
চকাস করে নীলার গালটায় একটা চুমো খায় প্রিয়ন্ত। জবাবে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ার বদলে নীলা যেন আরো মিইয়ে নিজেকে খোলসে গুটিয়ে নিয়ে বলে, 'আজ না প্রিয়।'
বরং হেসে ফেলে প্রিয়ন্ত। যেন কিছুই হয়নি এমন স্বাভাবিক গলায় বলে উঠে সে, এদের সময় দিতে হয় কিন্তু। বাইরের দেশে ট্রেইন দেওয়া হয় রীতিমত। এরপর খাঁচাটা ব্যালকনির একপাশে একটা কাঠের টুলের উপর রাখতে রাখতে জিজ্ঞেস করে, কি রেঁধেছো আজ?
প্রায় দুসপ্তাহ হলো ককাটিয়েলটা নীলাদের ফ্ল্যাটে এসেছে। প্রিয়ন্ত মাঝে মাঝে এমন অদ্ভুত উপহার দিয়ে চমকে দিতে পছন্দ করে নীলাকে। গেলবার নীলার একটা পোট্রেট করে নিয়ে এসেছিল প্রিয়ন্ত। দেখে কানের উপর আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে নীলা জিজ্ঞেস করেছিলো এত ভালোবাসো কেন?
ভালোবাসি বলেই বেঁচে আছি এখনো! হেঁয়ালি করে উত্তর দিয়েছিলো প্রিয়ন্ত।
- এই বেঁচে থাকাটা কি স্বার্থক? কেন যেন কেঁপে উঠেছিলো নীলা স্বর।
- এ কথা যে হঠাৎ?
উত্তরে প্রিয়ন্তের শার্টের বোতামে চুলগুলো নিজের বাঁধা খোলায় খেলায় মগ্ন হয়ে যায় নীলা। এরপর আবছা করে বলে উঠে, ও কিছু না।
'এক গ্লাস পানি দাও শুধু'। টাইয়ের নটটা ঠিক করতে করতে কিচেনের দিকে চেঁচিয়ে উঠে প্রিয়ন্ত। চার দেওয়ালের ওপাশের কিচেনে টুংটাং শব্দ শব্দ ছাপিয়ে নীলার দীর্ঘশ্বাসের সাথে কথাগুলো ভেসে আসে, ' আরেকটু পর গেলে হয় না?'
' ওরে বাবা! যমদূত ভর করুক আমার উপর তাই না? একটা জরুরী মিটিংও আছে আজ।
ফাহাদের চোখ দুটো এখনো ঢাকা। ডায়নিং স্পেস থেকে হেঁটে আর চোখ দুটো অনিচ্ছা স্বত্তেও বুজে ব্যালকনিতে আসতে হয় তার। পেছন থেকে হাত জোড়া সরে যায়। পিটপিট চোখে চারপাশে তাকায় ফাহাদ।
ব্যালকনির একপাশে খাঁচায় রাখা ককেটিয়েলটা দিনের এতসময় পর মানুষের মনোযোগ পেয়ে, ছটফট করতে করতে বলে উঠে, 'অরুনিমা অরুনিমা ছাড়ো ছাড়ো।'
-বাহ কাকাতুয়াটা দারুন তো! বলে উঠে ফাহাদ।
-ওটা কাকাতুয়া নয়, ককেটিয়েল, কাকাতুয়ার একটা দূরসম্পর্কের জাত। ফিক করে হেসে ফেলে নীলা।' তুমি যে এই এক মাস ছিলে না, এই ব্যালকনিটা ছিলো আমার সময় কাটানোর একমাত্র জায়গা, জানো?
-আগামী মাসে প্যারিস যাচ্ছি আবার। এবার আর একা যাচ্ছি না। সরে এসে স্ত্রীর কাঁধে হাতটা রাখে ফাহাদ।
' ছাড়ো প্রিয় আজ না.... ' ককেটিয়েলটা চেঁচিয়ে উঠে। আচমকা হেসে ফেলে ফাহাদ আর নীলা।
আমার আসল নিক - আমি সাজিদ। পাস ভুলে গেছি। মডু থেকে একবার ঠিক করে নিসিলাম। এরপর আবারও ভুলে গেছি। ভয়ে ভয়ে মডু ভাইকে আজকে আবার নক দিলাম। যদি কোন কাজ হয় আর কি !
মডুর ওখানকার লাজিজ কাবাবটা চাখতেই হবে ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



