somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

 হলে ঢুকে ছাত্রী পেটালেন শিক্ষিকা

১০ ই জুলাই, ২০১১ দুপুর ২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলে অবৈধভাবে প্রবেশ করে এক ছাত্রীকে পিটিয়েছেন এক শিক্ষিকা। গত বৃহস্পতিবার রাতে হলে অবস্থান করে ওই প্রভাষক ছাত্রীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাপসী রাবেয়া হলের ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী ও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের শিক্ষিকা আলেয়া ফেরদৌসী ওরফে রত্না হলের ১৩৪ নম্বর কক্ষে যান। ওই কক্ষে ছাত্রলীগের উত্তরবঙ্গ পক্ষের জ্যেষ্ঠ ও প্রভাবশালী কর্মী নাজমুন নাহার ওরফে মুন থাকেন। সেখানে শিক্ষিকা রত্নার নেতৃত্বে মুন, চৈতি ও লিজা নৈশভোজের আয়োজন করেন। ভোজে প্রতিপক্ষ ময়মনসিংহ পক্ষের ছাত্রলীগের কর্মী নিলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী ওরফে মুন্নিকে দাওয়াত করা হয়। উত্তরবঙ্গ পক্ষ করা না-করা নিয়ে মুন্নির সঙ্গে রাত ১২টার দিকে মুন, চৈতি ও লিজার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক রত্নাসহ অন্য ছাত্রীরা মুন্নিকে মারধর করেন।
রাত দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রক্টর ও হাউস টিউটর হলে গেলে ছাত্রী ও নেতা-কর্মীরা তাঁদের কাছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন। গত শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে হল প্রাধ্যক্ষের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা তাপসী রাবেয়া হলে যান। তাঁরা সেখানে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য শোনেন।
মারধরের শিকার মুন্নি অভিযোগ করেন, ‘আমাকে দাওয়াত দিয়ে ওই কক্ষে নিয়ে রত্না ম্যাম ও মুনসহ ওই পক্ষের ছাত্রলীগের কর্মীরা উত্তরবঙ্গ পক্ষে যোগ দিতে চাপ দেন। একপর্যায়ে মুন আমাকে বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যে আমার মোবাইল ফোন নিয়ে তাঁদের কিছু ব্যক্তিগত ও অশালীন কথা রেকর্ড করেন। পরে সেগুলো আমাকে শুনিয়ে রত্না ম্যাম বলেন, “তোর এত বড় সাহস! তুই আমার ব্যক্তিগত কথা রেকর্ড করেছিস। তুই বল, উত্তরবঙ্গ পক্ষ করবি কি না? না করলে এই রেকর্ডের কথা বলে তোকে হলছাড়া করব।”’ মুন্নি আরও অভিযোগ করেন, ‘আমি তাঁদের কথায় রাজি না হওয়ায় তাঁরা আমার চুলের মুঠি ধরে চড়, থাপড় ও লাথি মারেন।’
ছাত্রলীগের অভিযুক্ত কর্মী মুন বলেন, ‘মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মুন্নি আমাদের ব্যক্তিগত কথাবার্তা তার মোবাইলে রেকর্ড করে আমাদের মানহানি করতে চেয়েছিল। এ জন্য রত্না ম্যাম তাকে সতর্ক করে দিয়েছেন এবং রেকর্ডটি নষ্ট করে ফেলেছেন।’ তাপসী রাবেয়া হলের সাধারণ ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুন তাঁর ইচ্ছামতো ডাইনিং-ক্যান্টিন পরিচালনা করে আসছেন। হলের খাবারের মান ভালো না হওয়ায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা ডাইনিংয়ে খেতে রাজি না হলে মুন শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ দেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুন ও শিক্ষিকা রত্নার এ আচরণে শাস্তি দাবি করেন।
শিক্ষিকা রত্না বলেন, ‘মুন্নিকে শাসন করেছি এবং সতর্ক করেছি। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ ছাত্রী হলে আপনার রাত্রিযাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের লঙ্ঘন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, বেআইনি।’ তবে ওই রাতে তিনি বাসায় চলে যান বলে দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন। রত্না ম্যাডাম ও মুন ছাত্রলীগের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’
তাপসী রাবেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ আয়শা সিদ্দিকা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই শিক্ষিকার হলে অবস্থান করা বেআইনি হয়েছে। তাঁকে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন।’ ছাত্রলীগের কর্মী মুনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ওর আচরণ শিষ্টাচারবহির্ভূত। সব জেনেও কিছু বলতে পারছি না। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে!’
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধঃপতন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৪৪



কারিনা কায়সার এখন জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা তরুণ মেয়ে। বয়স ত্রিশের আশেপাশে। একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। আরেকটা বড় পরিচয় হলো তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের কিংবদন্তি খেলোয়াড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শততম পোস্টে আমিই একমাত্র ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৩৫

আমার শততম পোস্টে আজ আমিই একমাত্র ব্লগার। জানালা দিয়ে পশ্চিমের স্বচ্ছ আকাশে শুকতারা দেখছি।
নিউইয়র্ক সময় অনুযায়ী এখানে রাত ১০.৪৬ মিনিট, তারিখ ১১ই মে ২০২৬
তাপমাত্রা +৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস
বাংলাদেশ তারিখ ১২ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৪৬ঃ দ্যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং

লিখেছেন কিরকুট, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:০৬

১৯৪৬ সালের আগস্ট। ব্রিটিশ ভারত তখন স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। কিন্তু স্বাধীনতার স্বপ্নের ভেতরেই জমতে শুরু করেছে বিভাজনের কালো মেঘ। ধর্ম, রাজনীতি ও ক্ষমতার হিসাব এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের দিকে এগোচ্ছিল। সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া, সতেজ, অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×