somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফরহাদ রিংকু
কিছু মানুষ পৃথিবীতে কোন প্রতিভা নিয়ে জন্মায় না , এরা অন্যের প্রতিভা দেখে অবাক হয় । আমি ঐ কিছু মানুষের মধ্যে একজন ।

স্মৃতির পাতায় নটর ডেম । ( প্রসঙ্গ : টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট )

০৩ রা জুন, ২০১৩ সকাল ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার টেস্ট পরীক্ষা অনেক খারাপ হয়েছিল । খারাপ না হয়ে কোনো উপায় ও ছিল না । যে ছেলে কলেজ লাইফে বই নিয়ে বসার সময় পেতনা , তার রেজাল্ট ভালো হবে ক্যামনে ? বই নিয়ে বসার টাইম পেতাম না , এর মানে এই না যে , আমি মহাগুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ করতাম । সারা দিন আড্ডা মারা , ঘুম আর ফেসবুক ছিল আমার একমাত্র কাজ । মেসে থাকতাম তো, তাই এগুলা করেই সময় যেত । যদিও মেসের দোষ দিয়ে লাভ নেই , কারন মেস লাইফে এমন অনেক ছেলেকে দেখছি যে দিনে ১৮ ঘণ্টা পড়ালেখা করছে । বুয়েটের জন্য কোচিং করে বুয়েট আর ঢাকা মেডিকেল ২ জায়গাতে চাঞ্চ পাইছে।
যাই হোক , টেস্ট পরিক্ষায় কৃতিত্তের সহিত আমার ১ সাবজেক্টে ফেল , তিন সাবজেক্টে ফেলের কাছাকাছি আর ২ সাবজেক্টে অনেক নাম্বার পেয়ে আমার রেজাল্ট প্রকাশিত হলো । যেই ২ সাবজেক্টে ভালো নাম্বার পাইছিলাম সেই সাবজেক্ট দুইটার নাম ছিল বাংলা আর ইংরেজি । এর প্রধান কারন ছিল এই সাবজেক্ট ২ টা না পড়েই পরীক্ষা দেয়া যেতো । তো আমার কলেজে রেজাল্ট আসতো পাস, ফেল আর উইথেল্ড হিসাবে । আমার রেজাল্ট আসলো উইথেল্ড । তার মানে ইন্টার পরীক্ষা দেয়ার জন্য আমার জন্মদাতা পিতা কে কলেজের পিতার ( ফাদার ) সাথে দেখা করতে হবে । তো সুদুর যশোর থেকে আব্বু আসলো । আমার মনে আছে আব্বু যখন আসছিল , তখন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল । আমি মোবাইল সাইলেন্ট করে ঘুমাইছিলাম । বেলা ১২ টার সময় আব্বু এসে দেখে আমি ঘুমাচ্ছি । আর আমি দেখলাম আব্বু রাগে কটমট করে আমার দিকে তাকায়ে আছে । ফোনে মাত্র ১৫ টা মিসকল , সবগুলো আব্বুর দেয়া । কি আর করা , বাপ কে সান্তনা দেয়ার জন্য সারা দিন বই নিয়ে বসে ছিলাম । তো , আব্বুর সাথে যখন ফাদার হেমন্তোর রুমে গেলাম , তখন ফাদার আব্বু কে আমার রেজাল্ট কার্ড দেখায়ে বলছিল, “ আপনার ছেলের রেজাল্ট তো ভালো না। ও কি ইন্টার পরীক্ষা দিতে পারবে ?” খেয়াল করে দেখলাম , আব্বুর মন টা খুব খারাপ । কোন কথা বলতে পারছে না। ওই আক মুহূর্তের জন্য আমি জীবনে ভালো হয়ে গেছিলাম । তখন ফাদারকে বলছিলাম ।
--“ আজ আমি আমার আব্বু কে অনেক কষ্ট করায়ে যশোর থেকে ঢাকা আনলাম। এই কাজটা আমি আরো এক দিন করতে চায় ।”
ফাদার অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কবে ?
আমার উত্তর ছিল , “এ+ এর সংবর্ধনার দিন । ”
আমার আব্বু আর ফাদার ২ জনই খুশি হয়ে সে দিন আমাকে মাফ করে দিছিলেন । ইনফফ্যাক্ট, এমন উত্তর তারা বোধ হয় আশা করেননি ।
যাই হোক, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে । আর রিংকু বিপদে পড়লেও লাইনে আসেনা । এটার যথাযথ প্রমান সবাই পাইছিল । আমি বরাবরের মতো পড়ালেখা করতাম না। তাই আব্বু কে ঢাকা আনতে পারছিলাম না । ৪।৯০ তে এসে আমার রেজাল্ট থেমে গেছিলো । কিন্তু আমি সাস্টে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তির সময় আব্বুকে সিলেট আনছিলাম । আর সত্যিকার অর্থে , সেবার আব্বুর চোখে খুশি দেখছিলাম ।
তখন , আব্বু আমার কাধে হাত রেখে বলছিল , নটরডেমিআনরা পারে । ওরা কখনো হারতে শেখে না ।
(বি.দ্র. – ওই একবার ছাড়া আমি আর কক্ষনো ভালো হয়নি ।)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=পাপের ওজন কমিয়ে ভারী করো নেকির পাল্লা, ও রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫০


বহু পাপে জীবন হয়ে গেল আধেক পার,
জেনেও না জানার ভান ছিল,
মোহ আঁকড়ে ধরে রেখেছি, ধরার সুখে যে আচ্ছন্ন!
পাপ জেনেও পাপ সমুদ্দুরে কেটেছি হরদম সাঁতার!

চোখের পাপ, হাতের পাপ, আহা ঠোঁটেরও যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই/ঝুলাই

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৯



আমরাই মারবো,লাশ করবো গুম,
আমরাই জানাবো শোক!

আমরাই বলবো , গলা ফাটা চিৎকারে-
ওরা ছিলো আমাদেরই লোক॥

আমরাই বাঁধাবো দু’তরফা দাঙ্গা,
... ...বাকিটুকু পড়ুন

সবিই জানে চিলে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯


কি খেলা খেলছি মুই
নাকে সরিষার তেলদিয়ে
তবুও চোখে ঘুম আসে না
সারা রাত ধরে খাচ্ছি খই
কি খেলা খেলছি মুই!
আনন্দটা পেট ব্যথার মতো না
যেখানে খেয়ে যায়, বাঘ পানি-
কুমিরটা ও অপেক্ষায় থাকে
জলে জলহস্তী... ...বাকিটুকু পড়ুন

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×