
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৩। তোমরা একত্রে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর! আর বিচ্ছিন্ন হবে না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর।যখন তোমরা শত্রু ছিলে তখন তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি সঞ্চার করেছেন, ফলে তাঁর দয়ায় তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে।তোমরাতো অগ্নি কুন্ডের প্রান্তে ছিলে, আল্লাহ উহা হতে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃতকরেন যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার।
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৩। ঐসব রাসূলদের আমরা তাদের কোন জনের উপর কোন জনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কোন জনের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন।আর কোন জনকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে প্রকাশ্য মুজেযা দান করেছি। আর তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি।আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নবিগণের পরবর্তী লোকেরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা পরস্পর ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছিল।তাতে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন।
সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে।তাদের লক্ষণ তাদের মুখমন্ডলে সিজদার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে: তওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের বর্ণনা এরূপই। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা থেকে নির্গত হয় নতুন পাতা, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীদের জন্য আনন্দ দায়ক। এভাবে মুমিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা আল্লাহ কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।
* ঐক্যবদ্ধ না হয়ে মতভেদে লিপ্ত হওয়া মহাশাস্তির কারণ। মতভেদের কারণে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) মতভেদে লিপ্ত হয়ে হাজারে হাজারে নিহত হয়েছেন। এসব যুদ্ধে যেসব সাহাবা (রা.) অংশগ্রহণ করেছেন তাঁরা ক্ষমা প্রাপ্ত হলেও এসব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা সাহাবা ছাড়া অন্যান্যরা কাফের হয়ে গেছে।
সূরাঃ ৫৫ রাহমান, ১ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। আর রাহমান (পরম মেহেরবান)।
২। তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন।
৩। তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।
৪। তিনিই তাকে শিখিয়েছেন বাইয়ান (ভাব প্রকাশ করতে)।
সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
সূরাঃ ৮ আনফাল, ৩৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৯। আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে কিতাল (যুদ্ধ) করতে থাকবে যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দ্বীন সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।অতঃপর যদি তারা বিরত হয় তবে তারা যা করে আল্লাহতো এর দর্শক।
* আল্লাহ রাসূলকে (সা.) কোরআন ও বাইয়ান শিক্ষা দেওয়া শুরু করেছেন তাঁর চল্লিশ বছর বয়সে। তারপূর্বে তিনি পশুপালন ও ব্যবসায় হিকমাতের শিক্ষাপ্রাপ্ত ছিলেন। হিকমাত শিক্ষার পর তের বছর কোরআন ও বাইয়ান শিখে তিনি মাদানী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হন। ব্যবসায় হিকমাত শিখার পর এবং চল্লিশ বছরের পর হযরত আবু বকর (রা.) রাসূলের (সা.) নিকট থেকে কোরআন ও বাইয়ান শিখেন বিশ বছর। রাসূলের (সা.) পর তিনি কিতাল (যুদ্ধ) এর মাধ্যমে ফিতনা দূরীভূত করে মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়।সামরিক হিকমাত ও ব্যবসায় হিকমাত লাভের পর এবং চল্লিশ বছরের পর হযরত ওমর (রা.) ও হযরত ওসমান (রা.) ন্যূনতম দশ বছর রাসূলের (সা.)নিকট থেকে কোরআন ও বাইয়ান শিখেন। তাঁরাও মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। যারা হযরত ওসমানকে (রা.) হত্যা করেছে তারা হিকমাত শিক্ষার পর উপযুক্ত শিক্ষকের কাছে দশ বছর কোরআন ও বাইয়ান শিখেনি। তারা মুসলিম জাতির অনৈক্যের কারণ হয়েছে।আর হযরত ওসমান (রা.) কিতাল (যুদ্ধ) এর মাধ্যমে ফিতনা দূরিভূত না করায় যে ফিতনায় তিনি শহীদ হন সে ফিতনা পরে মহাফিতনায় পরিণত হয়।হযরত আলী (রা.), হযরত মুয়াবিয়া (রা.) হযরত আয়েশা (রা.) চল্লিশ বছরের পর রাসূলের (সা.) নিকট থেকে কোরআন ও বাইয়ান শিখেননি। কারণ তাঁদের চল্লিশ বছর হওয়ার আগেই রাসূলের (সা.) ইন্তেকাল হয়েছে।তাঁরা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে মুসলিম ঐক্য নষ্ট করেছেন। তাঁরা চল্লিশ বছরের পর উপযুক্ত শিক্ষকের কাছে ন্যূনতম দশ বছর কোরআন ও বাইয়ান শিখলে হয়ত তারাও মুসলিম ঐক্য বজায় রাখতে সক্ষম হতেন। তাঁদের মতভেদে প্রথমে খেলাফত বিভক্ত হয়ে পরে খেলাফত বিলুপ্ত হয়।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬৯। তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমাত দান করেন। আর যাকে হিকমাত দান করা হয় এর ফলে সে নিশ্চয়ই প্রচুর কল্যাণ লাভ করে।মূলত জ্ঞানী ব্যক্তিরা ছাড়া কেউই বুঝতে পারে না।
সূরাঃ ৯ তাওবা, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। সদকা বা যাকাত ফকির, মিসকিন, এর কর্মচারী, মোয়াল্লেফাতে কুলুব (অন্তর আকৃষ্ট),দাসমুক্তি, ঋণ পরিশোধ, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ সুবিজ্ঞ।
* ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে সফল মহানবি (সা.) পশুপালন, ব্যবসায়, সামরিক ও চিকিৎসা হিকমাত সমৃদ্ধ ছিলেন এবং তিনি উপযুক্ত শিক্ষকের নিকট থেকে কোরআন ও বাইয়ান তের বছর শিখার পর মদীনা সনদের মাধ্যমে মাদানী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হন এবং শেষতক তিনি ঐক্য বজায় রাখতেও সক্ষম হন। আমাদের মতভেদে আকন্ঠ নিমজ্জিত আলেমগণের মধ্যে হিকমাতের শিক্ষা প্রায় অনুপস্থিত।ডা. সফিকের মাঝে হিকমাত থাকলেও তিনি উপযুক্ত শিক্ষকের নিকট থেকে কোরআন ও বাইয়ান শিখেননি।মোয়াল্লেফাতে কুলুব (অন্তর আকৃষ্ট)বিষয়ে তাঁর অদক্ষতার কারণে তিনি সমমনাদের ঐক্যবদ্ধ করতে বা ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হননি। আমি ডা. সফিককে কিতাব ও হিকমাত শিক্ষার একটি কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করছি। আমি এ কেন্দ্রের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করতে চাই। এখানে মোয়াল্লেফাতে কুলুবের মাধ্যমে ইসলামী নেতাগণকে জড়ো করতে হবে। তাঁদের সবাইকে আইসিটি হিকমাত শিখানো হবে এবং বাইয়ান শিক্ষার পদ্ধতি বলে দেওয়া হবে। তাঁরা আইসিটি হিকমাতের সহায়তায় কোরআনের বাইয়ান শিখে নিবেন। এ বাইয়ানের শিক্ষণ যারা ঐক্যবদ্ধ হতে চায় তাদের সবার জন্য জরুরী। নীচে বাইয়ানের নমুনা দেওয়া হলো-
# ইসলামের চতুর্থ মূলনীতি বাইয়ানের মুয়াল্লিম আল্লাহ নিজেই
সূরাঃ ৫৫ রাহমান, ১ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। আর রাহমান (পরম মেহেরবান)।
২। তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন।
৩। তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।
৪। তিনিই তাকে শিখিয়েছেন বাইয়ান (ভাব প্রকাশ করতে)।
* কোরআন ও বাইয়ানের মুয়াল্লিম আল্লাহ নিজেই। বাইয়ানের উৎস কোরআন। কোরআন ও বাইয়ান এর মুয়াল্লিম একজন।বাইয়ান কেমন?
সূরাঃ ৮ আনফাল, ৩৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৯। আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে কিতাল (যুদ্ধ) করতে থাকবে যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দ্বীন সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।অতঃপর যদি তারা বিরত হয় তবে তারা যা করে আল্লাহতো এর দর্শক।
সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৪৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৪। নিশ্চয়ই আমরা তাওরাত অবতীর্ণ করেছিলাম; তাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো। নবিগণ, যারা আল্লাহর অনুগত ছিল তারা ইয়াহুদীদিগকে তদনুসারে বিধান দিত, আরো বিধান দিত রব্বানীগণ, এবং বিদ্বানগণ। কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের রক্ষক করা হয়েছিল। আর তারা ছিল উহার সাক্ষী।সুতরাং মানুষকে ভয় করবে না। আমাকেই ভয় কর। আর আমার আয়াতসমূহ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করবে না। আল্লাহ যা নাজিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা হুকুম প্রদান করে না তারাই কাফির।
* সূরাঃ ৮ আনফাল, ৩৯ নং আয়াত অনুযায়ী ফিতনা দূরীভূত না হতে কিতাল (যুদ্ধ) এর বিরতি করায় সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৪৪ নং আয়াত অনুযায়ী খারেজী সম্প্রদায় (ইবাদী) হযরত আলীকে (রা.) কাফের ফতোয়া দিয়ে হত্যা করে। এটি বাইয়ানের পরিপন্থী। ফতোয়া দিতে আপনাকে আল্লাহর শিখানো কোরআনে না থেমে বাইয়ান পর্যন্ত যেতে হবে কারণ বাইয়ানও কোরআনের মতই আল্লাহর শিখানো।বাইয়ানের নীতি ভঙ্গের কারণে খারেজীদের হযরত আলী (রা.) সংক্রান্ত ফতোয়া সঠিক ছিল না।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২০১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২০১। আর তাদের মধ্যে কিছু লোক বলে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে ইহকালে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালে কল্যাণ দান করুন। আর আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করুন।
সূরাঃ ৪৯ হুজরাত, ১০ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০। মু’মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই; সুতরাং তোমরা ভাইদের মাঝে ইসলাহ (শান্তি স্থাপন) কর, আর আল্লাহকে ভয় কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও।
সূরাঃ ১১০ নাসর, ১ ও ২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে।
২। আর তুমি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করতে দেখবে।
সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়।
* ফিতনা দূরীভূত করতে আল্লাহ কিতাল (যুদ্ধ) এর আদেশ দিলেও তাঁর ইচ্ছা হাসানা (কল্যাণ)। অথচ কিতাল (যুদ্ধ) হলো ধ্বংস যা আল্লাহর ইচ্ছার পরিপন্থী। সেজন্য ইসলাহ (শান্তি স্থাপন)এর প্রস্তাব পেলে ফিতনা এর ক্ষেত্রেও কিতাল (যুদ্ধ)থামানো সংগত। রাসূল (সা.) হুদায় বিয়ার ইসলাহ (শান্তি স্থাপন) করেছেন কাফেরদের সাথে।ফলে মক্কা বিজয় হয়ে মানুষ দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করেছে। হযরত আলী (রা.)ইসলাহ (শান্তি স্থাপন)এর জন্য যাদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ থামিয়েছেন তাঁরা মুসলিম ছিল।তাঁদের নেতা হযরত মুয়াবিয়া (রা.) পরবর্তীতে কন্সটান্টিনোপোল (ইস্তাম্বুল)জয় করেন। যা পরে চারশত বছর মুসলিম বিশ্বের রাজধানী ছিল। সুতরাং হযরত আলীর (রা.) হাসানা (কল্যাণ)ছিল। সুতরাং তাঁকে কাফের ফতোয়া দিয়ে হত্যা করা হাসানা (কল্যাণ)এর কুফুরী ছিল।
সূরাঃ ২, বাকারা। ১০৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৬। আমরা কোন আয়াত মানসুখ বা রহিত করলে অথবা ভুলে যেতে দিলে তা’হতে উত্তম বা তার সমতুল্য কোন আয়াত আমরা প্রদান করে থাকি।তুমি কি জান না যে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।
সূরা: ৪৫ জাছিয়া, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। এগুলি আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। সুতরাং আল্লাহর এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে?
সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।
সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।
* কোরআন + বাইয়ান = অভিন্ন ফিকাহ। এর পরিবর্তে আয়াত মানসুখ ও হাদিস বাতিল। অভিন্ন ফিকাহ পরিপন্থী আয়াতে সাব্যস্ত খারেজী ফতোয়া মানসুখ ছিল।মানসুখ ফতোয়া দিয়ে অভিন্ন ফিকাহ অস্বীকার করে খারেজী (ইবাদী) সম্প্রদায় কাফের হয়ে গেছে।
সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
সূরাঃ ৯ তাওবা, ১১৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৯। হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সাদেকীনদের (সত্যবাদী) সাথে থাক।
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।
সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।
* মেরাজের ঘটনায় সত্যবাদী খেতাব পেয়েছেন হযরত আবু বকর (রা.)। সূরাঃ ৯ তাওবা, ১১৯ নং আয়াত অনুযায়ী রাসূলের (সা.) ইন্তেকালের পর তাঁর শিক্ষাথী উম্মীগণ তাঁকে প্রথম খলিফা হিসাবে নির্বাচিত করে। তাঁদের এ কাজ অভিন্ন ফিকাহ অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। সুতরাং এর পরিবর্তে আয়াত মানসুখ ও হাদিস বাতিল হবে। তথাপি শিয়া সম্প্রদায় হযরত আবু বকরের (রা.) খেলাফত অস্বীকার করে কাফের হয়ে গেছে। উম্মীগণের শুদ্ধতার সাক্ষী তো আল্লাহ নিজেই হলেন শিয়াগণ তাঁদের সাথে কিভাবে মতভেদে লিপ্ত হয়? তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামে দগ্ধ করবেন।
সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
৩। আর তাদের আখারিনের (অন্যান্য) জন্যও যারা এখনো তাদের সহিত মিলিত হয়নি। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৪। ওটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি ওটা দান করেন। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।
সূরাঃ ৪২ শূরা, ৩৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৮।যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়। সালাত কায়েম করে। নিজেদের মধ্যে শুরার (পরামর্শের) মাধ্যমে নিজেদের কাজ সম্পাদন করে। আর আমরা তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা’ হতে ব্যয় করে।
* শিয়া ও খারেজী চক্করে ইসলামের যখন নাজেহাল অবস্থা তখন আল্লাহ আখারিনের শুরাকে কোরআন ও বাইয়ানের মাধ্যমে অভিন্ন ফিকাহ শিক্ষা দেন।আখারিনের শুরা সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ৩ নং আয়াত অনুযায়ী উম্মীযুগ সমাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে গঠিত হয়। অন্য ফিকাহ সমূহ উম্মীযুগ সমাপ্ত হওয়ার আগে বা বেশী পরে উপস্থাপিত হওয়ায় সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ৩ নং আয়াত অনুযায়ী এগুলো অভিন্ন ফিকাহ নয়, বরং বিভিন্ন ফিকাহ হিসাবে বাতিল।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬৯। তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমাত দান করেন। আর যাকে হিকমাত দান করা হয় এর ফলে সে নিশ্চয়ই প্রচুর কল্যাণ লাভ করে।মূলত জ্ঞানী ব্যক্তিরা ছাড়া কেউই বুঝতে পারে না।
সূরাঃ ৯৬ আলাক, ১ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। পড় তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন
২।সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ হতে
৩। পড় তোমার রব মহামহিমাম্বিত
৪। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন।
সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের সুন্নতের? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহর সুন্নতে কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।
* রাসূলকে (সা.) ব্যবসায় হিকমাত শিক্ষা দেওয়ার পর অলিখিত অভিন্ন ফিকাহ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ইমাম আবু হানিফাকে (র.)ব্যবসায় হিকমাত শিক্ষা দেওয়ার পর লিখিত অভিন্ন ফিকাহ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।সূরাঃ ৯৬ আলাক, ১ নং থেকে ৪ নং আয়াত অনুযায়ী কোরআনের মতই এটি পাঠ করার ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ রয়েছে। কোরআন ও বাইয়ানের মাধ্যমে আল্লাহর শিখানো লিখিত অভিন্ন ফিকাহকে মিথ্যাবাদীরা রায় আখ্যা দিয়েছে। মূলত এটি ছিল কোরআন ও বাইয়ানের রায়। এটি নিয়ে তামাসা করে সেই লোকেরা কাফের হয়ে গেছে। কোরআন ও বাইয়ানের মাধ্যমে আল্লাহর শিখানো লিখিত অভিন্ন ফিকাহকে কেউ কেউ কিয়াছ বলে থাকে। কিন্তু তাদের এ আখ্যা সঠিক নয়। বরং এটি কোরআনের বাইয়ান আল্লাহর সুন্নাত অভিন্ন ফিকাহ। এতে কোন পরিবর্তন ও ব্যতিক্রম নাই। এটি অস্বীকারকারী হিজবুশ শাইতান।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



