somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২২)

২৫ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সূরাঃ ২২ হাজ্জ, ৭৮ নং আয়াতের অনুবাদ
৭৮। আর জিহাদ কর আল্লাহর পথে যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে (জিহাদের জন্য) মনোনীত করেছেন।তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কঠোরতা আরোপ করেননি। এটা তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের মিল্লাত বা জাতি।তিনি পূর্বে তোমাদের ‘মুসলিম’ নাম করণ করেছেন। আর এতে (এ কোরআনেও তোমাদের ‘মুসলিম’ নাম করণ করা হয়েছে) যেন রাসুল তোমাদের জন্য সাক্ষ্যি হন এবং তোমরা স্বাক্ষী হও মানব জাতির জন্য। অতএব তোমরা সালাত বা নামাজ কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহর সাথে যুক্ত থাক। তিনি তোমাদের মাওলা (অভিভাবক)। কত উত্তম মাওলা (অভিভাবক) এবং কত উত্তম সাহায্যকারী তিনি।

* মুসলিম হযরত ইব্রাহীমের (আ.) মিল্লাত। আল্লাহ তাদের মাওলা ও সাহায্যকারী।রাসূল (সা.) হলেন হযরত ইব্রাহীমের (আ.) আহলে বাইত। তাঁর ওহী বাহক আহলে বাইত তাঁর চাচা। কারণ ওহী বাহক হতে পুরুষ ও চল্লিশ বছর লাগে। এ দু’টি গুন রাসূলের (সা.) চাচা হযরত আব্বাসের (রা.) ছিল। তাঁর পুত্র হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হযরত ইয়াহইয়ার (রা.) মত শৈশবে জ্ঞান প্রাপ্ত ছিলেন। সাহাবায়ে কেরামের (রা.) মধ্যে তিনি ছিলেন মোফাসসিরে কোরআন। মুসলিমদের মাওলা মহান আল্লাহর সাহায়্যে হযরত আব্বুল্লাহ ইবনে আব্বাসের (রা.) আহলে বাইত আব্বাসীয় খলিফা ও তাঁদের হানাফী অনুসারী তুর্কী সুলতানেরা প্রায় বারশ বছর মুসলিম বিশ্বের শাসক ছিলেন। তুর্কী বখতিয়ার খেলজি মাত্র বার বছর বয়সে বাংলা জয় করেছেন। তারপর এখন আমরা হানাফী মুসলিম শাসনে আছি। ভারতের অমুসলিম শাসন দেখে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারছি আমরা কত উত্তম শাসনে আছি। অমুসলিম ইসরায়েল গাজার যে দশা করেছে ভারতের অমুসলিম শাসক শুবেন্দু আমাদেরকে সে অবস্থা করার হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু জিহাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন বজায় রাখতে আমরা প্রস্তুত আছি। আমাদের দেশী সৈন্যরা আবার গেরিলা যুদ্ধে বিশ্ব বিখ্যাত। এখন পর্যন্ত মহান আল্লাহ আমাদের উত্তম মাওলা (অভিভাবক) এবং উত্তম সাহায্যকারী।আমাদের দেশ থেকে তাবলীগ জামায়াত সারা বিশ্বে মানুষদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দিতে সফর করছে।

সূরাঃ ২২ হাজ্জ্ব, ৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩। মানুষের মধ্যে কতক অজ্ঞানতাবশত আল্লাহ সম্বন্ধে বিতন্ডা করে এবং অনুসরন করে বিদ্রোহী শয়তানের।

* মানুষের মধ্যে কতক অজ্ঞানতাবশত আল্লাহ সম্বন্ধে বিতন্ডা করে এবং অনুসরন করে বিদ্রোহী শয়তানের। তাদের একদল হযরত আলীর (রা.) মাওলা হওয়া নিয়ে ভীষণ উত্তেজিত। অথচ হযরত আলী (রা.) একজন মাওলা। তিনি একমাত্র মাওলা নন। তাঁর থেকে বড় মাওলা রাসূল (সা.) এবং তাঁর থেকেও বড় মাওলা মহান আল্লাহ। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ছোট মাওলাকে না মানলেও বড় দুই মাওলাকে মানতেন। তথাপি অসভ্য শিয়াগুষ্ঠি রাসূলের (সা.) সাহায্যকারী সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সম্পর্কে অশোভন কথা বলে। এমনকি যাঁরা রাসূলকে (রা.) খুশী রাখতেন সেই উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) ও হযরত হাফসাকে (রা.) অসম্মান করে। তারা রাসূলের (রা.) তিন শ্বশুর, হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.) ও হযরত আবু সুফিয়ানকে (রা.) অসম্মান করে। অথচ তাঁরা ছিলেন রাসূলের (সা.) পিতৃতুল্য। মালের জিহাদের সবচেয়ে বড় সাহাবী রাসূলের (সা.) দুই কন্যার জামাতা হযরত ওসমানকেও (রা.) অসভ্য শিয়াগুষ্ঠি সম্মান করে না। রাসূলের (সা.) শালা হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) তারা সীমাহীন অপদস্ত করে। বিশেষ কারণ না থাকলে রাসূলের (সা.) সাহায্যকারীগণকে আল্লাহ হেদায়াত প্রদান করেন এবং তাঁরা ক্ষমাপ্রাপ্ত। তথাপি সাহাবা (রা.) বিষয়ে বিতন্ডা করে শিয়ারা বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরন করে। মাওলা আল্লাহ শিয়া পক্ষে না গিয়ে হযরত ইব্রাহীম (রা.) ও রাসূলের (সা.) আহলে বাইত আব্বাসীয় ও তাদের অনুসারী হানাফীদের রহমত ও বরকতে মুড়িয়ে দিলেন। তাদের পক্ষে প্রায় বারশত বছর মুসলিম বিশ্বের শাসক ছিলেন বিরানব্বই খলিফা ও সুলতান।আর শিয়াদের প্রিয় মাওলা আলী (রা.) ছাড়া তাদের পক্ষে আর কোন মুসলিম বিশ্ব শাসক নাই। আব্বাসীয় ও তাদের অনুসারী হানাফী ছাড়া মুসলিমদের অন্য কোন পক্ষে কান মুসলিম বিশ্ব শাসক নাই। হযরত আলীকেও (রা.) তাঁর শাসনের একাংশ হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) ছেড়ে দিতে হয়েছে। শিয়াদের অপ্রিয় এ সাহাবী বিশ বছর মুসলিম বিশ্ব শাসক ছিলেন। সাহাবায়ে কেরামের (রা.) আর কেউ এত লম্বা সময় মুসলিম বিশ্বের শাসক ছিলেন না। দোষ-গুন সবার থাকে। গুন বাদ দিয়ে দোষ নিয়ে শিয়াদের মত এত্তবাড়াবাড়ি বিশ্বে আর কোন পক্ষ করে না। এ বিষয়ে শিয়ারা অমুসলিমদের থেকেও বেশী ঘৃণিত।এমন আরেকটি দল আছে সালফী (আহলে হাদিস)। তারা অমুসলিম থেকেও মুসলিমদের পিছনে বেশী পড়ে থাকে। সেজন্য আল্লাহর পছন্দ হানাফী। তাদের পাকিস্তানের কাছে আছে পরমাণু অস্র এবং মানুষের মধ্যে এক তৃতয়িাংশ হওয়ার দৌড়ে হানাফী এগিয়ে। এ কোটা পূরণ হলে হানাফীদের বিশ্বজয় কার্যক্রম শুরু হবে। অতীতে আল্লাহ তাদেরকে দু’হাত ভরে দান করেছেন, ভবিষ্যতেও তিনি তাদেরকে দু’হাত ভরে দান করবেন -ইনশাআল্লাহ। তাদের বিরোধীরা বিদ্রোহী শয়তানের অনুসারী হয়ে জাহান্নামের যাত্রী হচ্ছে।

সূরাঃ ২২ হাজ্জ্ব, ৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
৮। মানুষের মধ্যে কে্উ কেউ আল্লাহ সম্বন্ধে বিতন্ডা করে; তাদের না আছে জ্ঞান, না আছে পথ নির্দেশ, না আছে কোন দীপ্তিমান কিতাব।

* দীপ্তিমান কিতাব কোরআন হানাফী পক্ষে। এটি অহানাফী পক্ষে নয়। কোরআন পাঠ করে আমি বুঝলাম এর প্রতিটি সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ আছে এবং এ তালিকা খেকে কোন সূরা বাদ নাই। এ বিষয়ে আমি কয়েক রাউন্ড পোষ্ট দিয়েছি। কোন পক্ষকে আমি আমার বিরোধীতা করতে দেখিনি। তারা কিভাবে আমার বিরোধীতা করবে? দীপ্তিমান কিতাব কোরআন তো তাদের পক্ষে নাই। কোরআন দিয়ে হানাফী পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনে আমি হাদিসের সাহায্যও নিচ্ছিনা। কোরআনের সাথে মানুষের জ্ঞাত ঘটনা মিলালেই হানাফী পক্ষে অকাট্য প্রমাণ চলে আসে। আল্লাহর বিধান হলো অভিন্ন ফিকাহ। কোরআন ও হাদিস হলো অভিন্ন ফিকাহের উৎস। তবে অভিন্ন ফিকাহের পরিবর্তে কোরআন মানসুখ ও হাদিস বাতিল হয়। এটুকু বুঝলে আর অভিন্ন ফিকাহ বুঝতে কোন সমস্যা হয় না। রাসূল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের নামে পাইকারী মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে মোনাফেক অভিন্ন ফিকাহ নষ্ট করলে ইমাম আবু হানিফা এটি মেরামত করেন এবং আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদ এটি পরিশোধন করে বিশুদ্ধ করেন। পরবর্তী মুসলিম বিশ্ব আমিরগণ এর অনুসারী হয়। অহানাফী পক্ষে কোন মুসলিম বিশ্ব আমির নাই। সংগত কারণে হানাফীদেরকে সঠিক না মেনে কোন উপায় নাই। কারণ দীপ্তিমান কিতাব কোরআন হানাফী পক্ষে।

সূরাঃ ২২ হাজ্জ্ব, ১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৬। এভাবেই আমি সুস্পষ্ট নিদর্শনরূপে উহা অবতীর্ণ করেছি। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন।

* সুস্পষ্ট নিদর্শনের মাধ্যমে আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন।সুস্পষ্ট নিদর্শনের মাধ্যমে হানাফী মাযহাবের সঠিকতা প্রমাণীত। মুসলিমদের পথভ্রষ্ট ৭২ দলের পক্ষে সুস্পষ্ট নিদর্শন নাই। এরা ছোট ছোট বিষয় নিয়ে তর্ক জুড়ে দিয়ে শয়তানের মত মুসলিমদের সময় নষ্ট করে। যে সময় কিছু সংখ্যক দুষ্ট অমুসলিম পক্ষ মুসলিম বিনাশে তৎপর হয় সে সময় হানাফী বিরোধীরা ছোট ছোট বিষয় নিয়ে তর্কে লিপ্ত থাকে। ইসলামে তর্ক হবে দলের শুদ্ধতা নিয়ে। মাসয়ালার শুদ্ধতা নিয়ে তর্ক হবে না। কারণ যে দল শুদ্ধ সে দলের মাসয়ালা সমূহ অবশ্যই শুদ্ধ। সুতরাং তর্কের বিষয় দল, মাসয়ালা তর্কের কোন বিষয় নয়। যে দল সঠিক সে দলের আকিদাও সঠিক। সুতরাং সঠিক দলের আকিদা ও মাসয়ালা নিয়ে প্রশ্ন তোলা শয়তানের কাজ ছাড়া কিছুই নয়।

সূরাঃ ২২ হাজ্জ্ব, ২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৪। তাদেরকে পবিত্র বাক্যের অনুগামী করা হয়েছিল এবং তারা পরিচালিত হয়েছিল পরম প্রশংসাভাজন আল্লাহর পথে।

* হানাফীরা পবিত্র বাক্য বলে। তারা শিয়া, সালাফী (আহলে হাদিস) ও ইবাদীদের (খারেজী) মত পিশাচী কথা বলে না। শিয়ারা হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) মোনাফেক বলে, ইবাদীরা হযরত আলীকে (রা.) কাফের বলে। সালাফীরা হযরত ওসমানকে (রা.) বিদাতী বলে। অথচ তাঁরা রাসূলের (সা.) সাহায়্যকারী হিসাবে ক্ষমাপ্রাপ্ত। তাঁদের হেদায়া্ত প্রাপ্ত না হওয়া কোরআনের বার্তা অনুযায়ী কিছুতেই সম্ভব নয়। পবিত্র কোরআন অনুযায়ী সেজন্য শিয়া, ইবাদী ও সালাফীদের বাক্য অপবিত্র। হানাফীদের বাক্য পবিত্র হওয়ার কারণ তারা রাসূলের (সা.) সকল সাহয্যকারী সহচরকে সম্মান করে কথা বলে।

সূরাঃ ২২ হাজ্জ্ব, ৩৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৮। আল্লাহ রক্ষা করেন মু’মিনদিগকে, তিনি কোন বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।

* রাসূলের (সা.) সহায্যকারী সহচরগণের সঠিকতা বিষয়ে মুমিনের ঈমান রয়েছে। তাঁদের ত্রুটি আল্লাহ ক্ষমা করায় তাঁদেরকে দোষারোফ করা কুফুরী। আল্লাহ যাঁদেরকে ক্ষমা করেন তাঁদের দোষারোফ করার কেউ কে? আল্লাহ যাঁদেরকে ক্ষমা করেন তাঁদের দোষারোফ করা আল্লাহ বিশ্বাসের বিশ্বাস ঘাতকতা। এরা আল্লাহর নেয়ামতের অকৃতজ্ঞ লোক। কারণ রাসূলের (সা.) সহায্যকারী সহচরগণের অবদান আছে ইসলাম প্রতিষ্ঠায়। তারা যে ইসলাম মানার দাবীদার সেই ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যাঁদের অবদান আছে অসভ্য লোকেরা কিভাবে তাঁদের অসম্মান করে? রাসূলের (সা.) ছাত্রদের থেকে তারা কিভাবে ইসলাম বেশী বুঝে? কে তাদের শিক্ষক? মূলত তাদের শিক্ষক হলো শয়তান। সেই শয়তানই তাদের মুখদিয়ে রাসূলের (সা.) সহচরগণের বিপক্ষে খবিশি ও পিচাশী কথা বের করে। কিন্তু হানাফীরা রাসূলের (সা.) সহচরগণের দোষের আলোচনা সতর্কতার সাথে এড়িয়ে চলে। কারণ তাঁদের দোষ মুসলিমদের আলোচ্য বিষয় নয়। মুসলিমদের আলোচ্য বিষয় হলো তাঁদের গুণ। সেইটার আলোচনার মাধ্যমে তারা ইসলামে উদ্বোদ্ধ হয় ও অন্যকে উদ্বোদ্ধ করে।আর সেই কারণেই একা হানাফী দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এবং অন্য বাহাত্তর দল মিলে এক তৃতয়িাংশ মুসলিম। দুই তৃতয়িাংশ হানাফী মুসলিম আবার বিশ্ব জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ হলে হানাপীদের বিশ্ব বিজয় কার্যক্রম শুরু হবে। আর হানাফী বিশ্ব মোড়ল হতে পারলে সব মানুষই শান্তিতে থাকতে পারবে- ইনশাআল্রাহ।

সূরাঃ ২২ হাজ্জ্ব, ৪১ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪১। আমরা তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত দিবে এবং সৎ কাজের আদেশ দিবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে। সব কাজের পরিণাম আল্লাহর বিবেচনায়।

* হানাফীরা যখন বিশ্ব মোড়ল ছিল তখন তারা আয়াতে উল্লেখিত কাজগুলো করেছে। আবার তারা বিশ্ব মোড়ল হলে উক্ত কাজগুলো তারা আবার করবে। বিশ্ব মোড়ল বৃটিশের প্রতি মানুষ সন্তুষ্ট ছিল না। বিশ্ব মোড়ল আমেরিকার প্রতিও মানুষ অনেক বিরক্ত। সুতরাং সামনে হানাপীদের বিশ্ব মোড়ল হওয়া দরকার।

সূরাঃ ২২ হাজ্জ্ব, ৪৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৬। তারা কি দেশ ভ্রমণ করেনি? তাহলে তারা জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিশক্তিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারত।বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে বক্ষস্থিত হৃদয়।

* হানাফী তাবলীগ জামায়াতের মত বিশ্ব ভ্রমণকারী আর কোন পক্ষ নাই। ভারতে এর কেন্দ্র না হয়ে বাংলাদেশে এর কেন্দ্র হওয়া বেশী দরকারী। যারা এটা বুঝেনা তাদের বক্ষস্থিত হৃদয় অন্ধ। বিশ্ব ইজতেমা হবে বাংলাদেশে আর এর পরিচালক থাকবে ভারতে এটি একটি অদ্ভুত নিয়ম। সুতরাং তাবলীগ জামায়াতকে কিছুটা সংস্কার করে এটাকে আরো শক্তিশালী করা হানাফী ও ইসলামের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

সূরাঃ ২২ হাজ্জ্ব, ৪৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৯। বল, হে মানুষ! আমি তো তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী।

* সতর্ককারীর কথা সুস্পষ্ট হওয়া আবশ্যক। প্রচারিত হাদিসের শুদ্ধতায় সন্দেহের অবকাশ থাকায় হানাফীরা কোরআন মেনে এর সহায়ক হিসাবে হাদিস মানে। হাদিসে কোরআনের বিপরীত কিছু দেখাগেলে তারা সেই হাদিস পরিত্যাগ করে। তাতে কারা সে হাদিসকে সহিহ বলে হানাফীরা এর পরোয়া করে না। অনেক সময় দেখা যায় অনেকে সহিহ হাদিসের সহিহ অপব্যখ্যা দ্বারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। সেজন্য হাদিস বিষয়ে হানাফীরা যথেষ্ট পরিমাণ সাবধানতা অবলম্বন করে। কারণ হাদিসের নামে কোন মিথ্যা প্রচারকের প্রচারণা মানা কোন বুদ্ধিমাণের কাজ নয়।

সূরাঃ ২২ হাজ্জ্ব, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছি ‘ইবাদত পদ্ধতি’-যা তারা অনুসরন করে। সুতরাং তারা যেন তোমার সাথে বিতর্ক না করে এ ব্যাপারে। তুমি তাদেরকে তোমার প্রতি পালকের দিকে আহবান কর, তুমি তো সরল পথেই প্রতিষ্ঠিত।

* আমাদের নির্ধারিত ‘ইবাদত পদ্ধতি’ হলো রাসূলের (সা.) পর আমির ও রাসূলের (সা.) ওয়ারিশ ওলামার অনুসরন হবে। এ বিষয়ে কঠোর থাকলে মিথ্যা হাদিস দ্বারা কেউ আর আমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। অনেক গুলো হাদিস ও ফিকাহের কিতাব ছাড়া হয়েছে যা কোন মুসলিম বিশ্ব আমির অনুমোদীত নয়। রাসূলের (সা.) পর আমিরের অনুসরনের বাধ্যবাধকতা থাকায় আমিরের অনুমোদন বিহীন হাদিস ও ফিকাহের কিতাব বিনাশর্তে মানা যায় না। এ ক্ষেত্রে শর্ত হলো আমির অনুমোদীত ফিকাহের সাথে এসব হাদিস ও ফিকাহের যতটুকু মিল পাওয়া যাবে ততটুকু মানা যাবে। আমির অনুমোদীত অভিন্ন ফিকাহ হলো হানাপী মাযহাব। সুতরাং এর গরমিল কোন হাদিস ও ফিকাহ মান্যতার যোগ্য নয়।

সূরাঃ ২২ হাজ্জ্ব, ৭০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৭০। তুমি কি জাননা যে আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহ তা’ জানেন? এসব এক কিতাবে আছে। এটা আল্লাহর নিকট সহজ।

* কারা হানাফী আর কারা অহানাফী আল্লাহ তা’ জানেন। জেনে শুনেই আল্লাহ হানাফীদেরকে রহমত ও বরকতে মুড়িয়ে রেখেছেন। আর সাহাবায়ে কেরামকে লানতকারী শিয়াদেরকে আল্লাহ লানতে রেখেছেন। অন্যরা আছে টেনেটুনে। হানাফীরা একদা বিশ্ব মোড়ল ছিল। এখনো তারা ভালোভাবেই টিকে আছে। আবারো নিজেদেরকে গুছিয়ে নিতে পারলে হয়ত তারাই আবার বিশ্ব মোড়ল হবে। এখনকার বিশ্বমোড়ল আমেরিকা ন্যায় সঙ্গত আচরণ করছে না। ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমেরিকাকে ন্যায় সঙ্গত আচরণ করতে দেখা যায় না। তারা ইসরাইলের বেশী পক্ষপাতিত্ব করে।হানাফী বিশ্ব মোড়ল হলে ফিলিস্তিনীরা সুবিচার পাবে- ইনশাআল্লাহ। আমি হানাফীদেরকে কম কথা ও বেশী কাজ করার অনুরোধ জানাই। হানাফী বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও তুরস্ক মিলে বিশ্বের জন্য ভালো কিছু করতে পারে। অমুসলিমদের শান্তির কথা বিবেচনায় থাকবে না, এটাও কিন্তু ভালো কথা নয়। ইসলাম হলো সবার জন্য শান্তি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেঝ দা

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

লেখালেখি ভীষন বিরক্তিকর লাগে এখন। গাইতে গাইতে গায়েনের মত আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। লেখালেখি নি কোন আশাবাদ বা প্যাশন আমার কস্মিনকালে ছিল না- এটা আমার নেহায়েত শখের বিষয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি এবং এনসিপির মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনাটি সত্যি; বিএনপি ও এনসিপির সম্পর্কের ভেতরে এখন স্পষ্ট টানাপোড়েন দৃশ্যমান। রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই বাড়ছে পারস্পরিক অস্বস্তি ও বাকযুদ্ধ। এনসিপির সাম্প্রতিক আচরণ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বুদ্ধিমান হোন, সঠিক কাজটি করুন!!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৫ শে মে, ২০২৬ সকাল ১০:০৮



দক্ষিন স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চল।

এপ্রিলের ১৫ তারিখে এক সপ্তাহের জন্য এসেছি; গ্রানাডা, কর্ডোবা আর মালাগার রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছি। লোকাল কুইজিনের স্বাদ নিচ্ছি। বিশ্বখ্যাত স্থানগুলো ঘুরে দেখছি............পুরাই চিল মুডে। এলাকাগুলোকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরবানি: তাকওয়া না লৌকিকতা?— একটি ব্যক্তিগত অনুভুতি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

শুরুতেই একটি বিষয় স্পষ্ট করে নেওয়া ভালো, আমি কোনো ইসলামিক স্কলার নই। ধর্মতত্ত্ব বা শরিয়তের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা দেওয়ার মতো গভীর জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য কোনোটিই আমার নেই। আমি এ সমাজের একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু মাকেই মনে পড়ে

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ২৫ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২০

মা মারা গেলো,
সেদিন থেকে আর কেউ খবর নেয়নি।
বাবা বিয়ে করলেন,
বাবাও আর খবর রাখলেন না।
আমার একটাই বোন,
সেও কোনোদিন খোঁজ নেয়নি।
রাস্তায় থেকেছি,
কেউ খবর রাখেনি।
না খেয়ে থেকেছি,
তবুও কেউ খোঁজ নেয়নি।
রাতে ঘুমানোর জায়গা ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×