somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেলেটাকে রড দিয়ে মারলেও, মেয়েটাকে আমরা মারিনি।

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাহাত্তর ঘণ্টা ধরে চলছে লড়াই। পাঁচ পাঁচটি অস্ত্রোপচার হয়ে গিয়েছে এর মধ্যে। তাতে বাদ গিয়েছে ক্ষুদ্রান্ত্রের পচন ধরা অংশ। ডাক্তাররা বলছেন, অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে আপাতত কিছুটা স্থিতিশীল। একই সঙ্গে তাঁরা বলছেন, তাঁদের দেখা সব চেয়ে ভয়াবহ ঘটনা এটা। কিন্তু তাতেও লড়াইয়ে ভাটা পড়েনি দিল্লির ২৩ বছরের প্যারামেডিক্যাল ছাত্রীটির। হুইল চেয়ারে করে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার মুখে তিনি মাকে বললেন, “মা, ম্যায় জিনা চাহতি হুঁ।” পুলিশকে বিশদে জানিয়ে গেলেন, সেই নারকীয় বাসযাত্রার কথা।
দিল্লি হাইকোর্টে আজ মেয়েটির সঙ্গীরও জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে সেই প্রক্রিয়া। তবে তিনি কী বলেছেন, তা জানা যায়নি। আপাতত সে সব খামবন্দি।
এই ঘটনার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে যে প্রবল প্রতিবাদ উঠেছে, খোদ দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে শুরু করে প্রায় সর্বত্র যে ভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন মানুষ, তার মূল সুর একটাই: এমন অপরাধ যারা করেছে, তাদের ফাঁসিতে ঝোলাও। এমন পরিস্থিতির মুখে আজ ভেঙে পড়েছে এক অভিযুক্ত। পবন গুপ্ত নামে ওই ফলবিক্রেতা বলে, “আমি মেনে নিচ্ছি, অপরাধ করেছি। আমাকে ফাঁসি দেওয়াই উচিত।” তবে হঠাৎ এই স্বীকারোক্তিতে প্রশ্ন উঠছে, এটা কি সত্যিই বোধোদয়, নাকি স্রেফ লঘু শাস্তি এবং সহানুভূতি পাওয়ার আশায় বলছে পবন?


একই আশায় অন্য পন্থা নিয়েছিল জিম ইনস্ট্রাকটর বিনয় শর্মা। তার দাবি, “ছেলেটাকে রড দিয়ে মারলেও, মেয়েটাকে আমরা মারিনি।” তবে অন্য এক সূত্রের খবর, পরে সে-ও অপরাধ স্বীকার করে নেয়। এমনকী, পবনের মতো সে-ও নিজের জন্য ফাঁসিই চেয়েছে। আজই আবার বিহারের ঔরঙ্গাবাদ থেকে আটক করা হয় পঞ্চম অভিযুক্ত অক্ষয় ঠাকুরকে। সকলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের সঙ্গে খুনের চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে। জেরা করা হচ্ছে পবন ও বিনয়কেও। টিআই প্যারেডে রাজি হওয়ায় মুকেশকে তিহাড় জেলে পাঠানো হয়েছে। তার দাদা রাম সিংহ আবার পুলিশি জেরায় জানিয়েছে, সে মদ্যপ ছিল। তাই মেয়েটি ধর্ষণে বাধা দিতে যাওয়ায় তার রাগ চড়ে যায়। তখন সে লোহার রড দিয়ে তাকে এবং তার পুরুষ বন্ধুকে প্রচণ্ড মারে। তার সঙ্গে যোগ দেয় অন্যরাও।
গোটা ঘটনায় পুলিশকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। কী ভাবে তাদের চোখ এড়িয়ে ৪০ মিনিট ধরে শহরের রাজপথে বাসের মধ্যে এমন ভয়াবহ তাণ্ডব চালাল অভিযুক্তরা, পুলিশের কাছে তা জানতে চেয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। দু’দিনের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

যানবাহনে কালো কাচ ব্যবহার করা যাবে না বলে যে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট, তা লঙ্ঘন করা হল কেন, তাই নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদালত। পুলিশ কমিশনারের কাছে জবাবদিহিও চাওয়া হয়েছে। তা ছাড়া শুধু তদন্তই নয়, এ ধরনের অপরাধ দমনে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, সে বিষয়েও পুলিশের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে আদালত। বিচারপতি মুরুগেশন বলেন, “যদি সম্ভব হয়, তা হলে ওই তরুণীকে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে সরিয়ে আনা হোক। একান্তই যদি না পারা যায়, সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাঠানো হোক ওই হাসপাতালে।” আজ দিল্লি হাইকোর্টের তরফে আরও ঘোষণা করা হয়, মহিলাদের উপর যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত যে কোনও মামলার বিচার হবে ফাস্ট ট্যাক আদালতেই।
তরুণীকে দেখতে আজ সফদরগঞ্জ হাসপাতালে গিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমার। মেয়েটির মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। পরে স্পিকারের মুখে শোনা গেল, মেয়েটির দরিদ্র পরিবার দু’বেলা ঠিকমতো খাবার জোগাড় করতেও অক্ষম। অধিকাংশ দিন নুন-রুটি খেয়েই সংসার চলে তাদের। এক টুকরো জমি ছিল। সেটা বিক্রি করেই কোনও মতে মেয়ের স্বপ্নপূরণের চেষ্টা করছিলেন বাবা। ধরা গলায় বললেন, “যেন আর কারও সঙ্গে এমন না হয়।”



আমরা কখনও চাইনা আমদের দেশে বা অন্য কোথায় এমন ঘটনা ঘটুক। জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা চোপড়া বলেছেন" কোনও মেয়ে ছোট পোশাক পরেছিল বা রাতে বেরিয়েছিল বলে ধর্ষিত হয় না। কেউ তাকে ধর্ষণ করে বলে সে ধর্ষিত হয়। এর জন্য কোনও অজুহাত লাগে না।" তাহলে কেন এমন হয়? আমাদের কাছে এর উত্তর নেই।বিস্তারিত
আরও খবর
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×