somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কী সব সোনালী দিন ছিল... আহা !

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনটা তখনই সুন্দর ছিল যখন সপ্তাহে একদিন বাংলা সিনামা দেখার জন্য ঘর ভর্তি মানুষ সাদা কালো টিভির সামনে বসে থাকতাম। সিনেমা শুরু হবার অনেক আগে আবহাওয়ার খবর দেখা, বৌদ্ধদের ত্রিপিটক পাঠ শোনা; সবই সিনেমা দেখার অংশ ছিল। সিনেমা চলাকালীন সময় বিজ্ঞাপন এলে আমরা আঙুল দিয়ে নামতার মত করে বিজ্ঞাপণ গুনতাম। ত্রিশটা বিজ্ঞাপণ দেখানোর পরই সিনেমা শুরু হয় এই ব্যাপারটা ততদিনে আমরা আবিষ্কার করে ফেলেছি।
যেদিন ভুল করে দুপুরে ঘুমিয়ে যেতাম, খুব মন খারাপ হত। দুপূরে ঘুমানোর মানেই হল বিকেলের খেলার টাইম মিস করে ফেলা। আমরা সারাদিন বিকেল সময়টার জন্য অপেক্ষা করতাম, শীতের সময় মাগরীবের আযান বিকেল সাড়ে ৫ টায় দিয়ে দিলে কান্না কান্না মুখ করে ঘরে ফিরতাম।
ঘরে ফেরা মানেই পাটিগণিতের বই নিয়ে বসা। চৌবাচ্চার অংকটা জীবনটাকে প্রায়শই অতিষ্ট করে ফেলত। অংক মেলাতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় পেন্সিলের উল্টো দিকের রাবারের অংশ কামড়ে খেয়ে ফেলতাম। রোজ সন্ধায় পড়ার সময়টাতে একবার লোডশেডিং হত। সাথে সাথেই যে যেখানে থাকুক না কেন একসাথে একটা বিকট চিৎকার করে রাস্তায় জড়ো হতাম। শুধু একটা সময় লোডশেডিং হলে আমাদের কষ্ট হত যখন আলিফ লায়লা দেখাত। সেই সময় কিছু শৌখিন বড়লোক ছিল যাদের বাসায় ব্যাটারি ওয়ালা টিভি থাকত। অর্থাৎ কারেন্ট চলে যাবার পরেও টিভি চলবে। আমরা দল বেধে সেই বাসায় হানা দিতাম।
জীবনটা তখনই সুন্দর ছিল যখন মনমালিন্য হলে আমরা কাইন আঙুলে আড়ি নিতাম, দু দিন কথা বলতাম না। তারপর আবার আনুষ্ঠানিক ভাবে দুই আঙুলে ‘ ভাব’ নিতাম; এখন থেকে আবার কথা বলা যাবে। সেই সময় সব মেয়েরা একটা পুতুল কিনত, যেটার সুইচ অন করলেই শাহরুখ খানের ‘ ছাইয়া ছাইয়া’ গানটা বাজত আর ছেলেদের সব থেকে দামী খেলনা ছিল রবোকোপ, যেটা চালু করতে আটটা পেন্সিল ব্যাটারি লাগত।
জীবনটা তখনই সুন্দর ছিল যখন ক্লাস রুমে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে ভাবতাম, এখন যদি ফ্যানটা খুলে পড়ে তাহলে সেটা কার মাথায় পড়বে ? অনেক পরে জেনেছি, এই জিনিস শুধু আমি না, প্রায় সবাই একই জিনিস ভাবত !
আমাদের সময় একটা নিয়ম প্রচলিত ছিল, যার ব্যাট সে সব সময় আগে ব্যাটিং করবে। আমাদের টস মানেই হল আগে ব্যাটিং, টসে জেতার পর কাউকে কোনদিন ফিল্ডিং নিতে দেখিনি। রোজ বিকেলে কটকটি ওয়ালা আসত। মজার ব্যাপার হল কটকটি কিনতে কোন টাকা পয়সার দরকার হত না। পুরনো কাগজ, প্লাস্টিকের কিছু একটা দিলেই কটকটি পাওয়া যেত। আমরা এক টাকা দিয়ে নারকেল আইসক্রিম খেতাম; কত মার খেয়েছিলাম এই কিশমিশ মেশানো নারকেল আইসক্রিমের জন্য, ঠিক যেন চোখের সামনে ভাসে !
আমাদের সময় সব চাইতে সুন্দর জুতা ছিল লাইট ওয়ালা কেডস জুতা। হাঁটলেই জুতা থেকে লাইট জ্বলত। অন্ধকারে সেটা পায়ে দিয়ে বের হলে দুনিয়া শুদ্ধ মানুষ তাকিয়ে তাকিয়ে ভিম্রি খেত। পড়ার বইএর ভেতরে থাকত চাচা চৌধুরী। চাচা চৌধুরীর বুদ্ধি ছিল কম্পিউটারের থেকেও প্রখর।
সব চাইতে বড় অপারেশন ছিল চটপটি খেয়ে টাকা না দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ! স্ট্যাম্প জমাতাম, রানী এলিজাবেথ ছিল সব চেয়ে দামী স্ট্যাম্প, পাঁচ টাকা। ঈদেরএক সপ্তাহ আগে ঈদকার্ড বিক্রি করতাম। সেই সময় সব চাইতে দামী জরি ওয়ালা ঈদকার্ড যেটা ছিল সেটা খুললে ভেতর থেকে অবিশ্বাস্য ভাবে মিউজিক বাজত! সেই দিন গুলোতে আমরা পেন্সিলের শার্পনার হারিয়ে কাঁদতাম ! আমাদের দুঃখ গুলো তখন আমাদের মতই শিশু ছিল।
আমাদের কোন প্রেমিকা না থাকলেও একটা কেউ ছিল। যার সামনে দাড়ালে আমাদের বুক ধুপ ধুপ করে উঠত। দরজা বন্ধ করে ড্রয়িং খাতায় তাকে আঁকতাম। কপালের টিপ মাঝখান বরাবর না বসলে রাবার দিয়ে মুছে আবার আঁকতাম। সেদিন আর পড়ায় মন বসত না ! কী সব সোনালী দিন ছিল... আহা
Courtesy: Zunayed Evan
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×