হোমারের সময় থেকে প্রতিটি ইউরোপিয় প্রাচ্যদেশ সম্পর্কে যা-ই বলতে পেরেছে, তা নির্ঘাত বর্ণবাদী, সাম্রাজ্যবাদী এবং এর গোড়ায় ছিল তাদের জাতগর্ব। এডওয়ার্ড সাইদ
এক.
সন্ত্রাসবাদী যুদ্ধের গন্ধম কে কাকে খাইয়েছিল, বুশ সাহেব লাদেনকে নাকি লাদেন জর্জ বুশকে তা আজ ভাবার বিষয়। যে-ই আগে খাক, সে একা খায়নি। আজ বিশ্বের বেশিরভাগ রাষ্ট্রই সন্ত্রাসবাদ নামক জুজুর ভয়ে জেরবার। সন্ত্রাসবাদের গন্ধম এখন বিশ্বের জনসাধারণকেও গেলানো হয়েছে, শান্তির বেহেশত তাই আর থাকে কী করে? তাই আমরা পতিত হয়েছে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অনন্ত যুদ্ধের ময়দানে। সেই ময়দানের পাকিস্তান অংশের খবরই আজকের বিষয়।
পরিণতি ভেবে কাজ করা নাকি ভাল। তাই চেষ্টা করবো শেষটা দিয়ে শুরুটাকে বুঝে নিতে। নইলে ‘আগে যদি জানতাম’ বলার হাহুতাশ আমাদেরও পেয়ে বসতে পারে। সেই শেষটা অনেকটা এরকম:
দণি এশিয়ায় পাকিস্তান বলে কোনো রাষ্ট্র নাই। আছে পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান, পশতুনিস্তান ইত্যাদি দেশ। আর তার চারপাশে থাকছে সেই ভারত ও সেই চীন_ আরো শক্তিশালী অবস্থায়। পাকিস্তান-ভাঙ্গা প্রদেশগুলোর কোনো কোনোটি থাকবে তাদের কব্জায়। অন্য প্রতিবেশি ইরান ও রাশিয়ার প্রভাবও বাড়বে। আর গুতাগুতি করে মাতব্বরি বজায় রাখার কলকব্জা নিয়ে সবকিছুর মধ্যে বসে থাকবে পরাক্রমশালী মার্কিন-ব্রিটেন। থাকবে বিশাল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। সেই নতুন দৃশ্যের কোথাও তালেবান আর লাদেনদের নামনিশানা থাকবে না। যে ভূরাজনৈতিক পাশাখেলায় তারা ঘুঁটি হয়েছিল, সেই খেলা ফুরালে তাদের আর দরকার কী? পাশাপাশি আল কায়েদা-তালেবান বানানোয় সিআইএ-র জোগালি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-ও থাকবে না, থাকবে না কোনো সাক্ষী।
এই যদি হয় ঘটনা। তাহলে সোয়াতের পাঁচ হাজার আর বুনেরের পাঁচশ তালেবানরা কী করে বিশ্বপ্রভুদের এত অস্থির করে ফেলে? কীভাবে তারা হাজার হাজার মাইল দূরের আমেরিকার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে? বলা হয়, পাকিস্তানের পারমানবিক বোমা যদি তালেবানদের হাতে পড়ে? এই অলীক ভাবনায় স্বয়ং ওবামা যে ভীত নন, তা তিনি সম্প্রতি সাংবাদিকদের সামনে ঘোষণা করেছেন। পারমানবিক বোমা আমেরিকার হাতেই নিরাপদ নয়। হিরোশিমা-নাগাসাকির কথা বাদ দিলেও ১৯৪৫ এর পর পেন্টাগন তার হেফাজতে থাকা ১১ টি পারমানবিক বোমা হারিয়ে ফেলেছে? সেগুলো কি বিপজ্জনক নয়? ফকির লালন বলেন, ‘চোখের আড়ে পাহাড় লুকায় দ্যাখ না।’ আমাদের চোখের পাতার পালকগুলি অনেক সময় আবডাল হয়ে পাহাড়কেও দৃষ্টির আড়াল করতে পারে। আজকের বিশ্বের মূল সমস্যা সামরিকায়ন, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা, জলবায়ু বিপর্যয়ে পৃথিবীর বিপন্নতা, অসহনীয় দারিদ্র্য ইত্যাদি। আজ তালেবানরা জেনে বা না জেনে এসব বুনিয়াদি সমস্যা আড়াল করবার মোম আবডাল হিসেবে ভালই কাজে লাগছে। তারা হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য এশিয়া দখলের উসিলা।
দুই.
এবার শেষের আগের গল্পর। ৯ এপ্রিল আমাদের ভালমানুষ প্রেসিডেন্ট ওবামা ইরাক ও আফগানিস্তানে নয়া যুদ্ধখরচা বাবদ মার্কিন কংগ্রেসের কাছে ৮৩.৪ বিলিয়ন ডলারের তহবিল চেয়েছেন (এপি)। এর থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে (খেয়াল করবেন, পাকিস্তানের নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের জন্য একদম নয় কিন্তু!) জরুরি সাহায্য হিসেবে দেয়া হবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। মার্কিন কংগ্রেসের কাছে পেশ করা সিআরএস প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরাক-আফগান দখলে এর আগেই খরচ হয়েছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার। ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে দেখি বলছে, এর মানে ১০-এর পরে আঠারোটা শূন্য, তাও আবার ডলারে। টাকায় ধরলে ৭০০০০০০০০০০০০০ কোটি কোটি টাকা। আগামী বছর নাগাদ এই খরচ দাঁড়াবে ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। এটা কেবল আমেরিকার খরচ। ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা, স্পেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো ধনী দেশগুলোর খরচ ধরলে....মন বলে, ইস! এই টাকা দিয়ে দুনিয়ার সকল মানুষকে বেহেশতি সুখ দেওয়া যেত!!!
এত খরচ কি সাদ্দাম-লাদেন-বায়তুল্লাহ মেহসুদ দমনের জন্য? নাকি বিশ্বে মার্কিন দাপট বজায় রেখে দুনিয়ার বাজার, সম্পদ, কাঁচামাল আর মানুষের শরীর-মন বিশ্বের কর্পোরেট পুঁজির থাবার তলে এনে দেওয়ার জন্য? নাকি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র-শিল্পকে চাঙা রাখার জন্য? যাঁর যেমন বুঝ তিনি তেমন বুঝে নেবেন।
আমেরিকার কোনো স্বরাষ্ট্রনীতি নাই। সেটা যুদ্ধপ্রবণ পররাষ্ট্রনীতিরই উল্টা পিঠ মাত্র। যখন বাইরে কমিউনিস্ট রাশিয়া শত্র“, তখন দেশের ভেতরে যার চলন বাঁকা সেই কমিউনিস্ট! অতএব করো নির্মূল। বাইরের শত্র“ যখন মুসলমান, তখন দেশের ভেতরেও তারাই শয়তান (এক্সিস অব দি এভিল)!
একটি দেশে যখন যুদ্ধকে মহিমা দেওয়া হয় সামরিক শক্তির পূজা চলে, তখন অর্থনীতি যুদ্ধের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। যুদ্ধ তখন অর্থনীতিরই প্রসারিত বাহু, অর্থনীতি তখন যুদ্ধেরই কার্যকারণ। এরকম দশায় যার তার সবখানেই অনবরত দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি করতে হয়। কৃত্রিমভাবে শত্র“ বানিয়ে দেখাতে হয়। জনগণের মন-মগজে চাষ করাতে হয় যুদ্ধের সমর্থন। জনগণও তখন আসল সমস্যা থেকে বেভুল হয়ে মিছা-দেশপ্রেমে মাতোয়ারা হয়।
ইতিহাস সাক্ষী, আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্টই যুদ্ধ বিনা ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। পরদেশ দখলের যুদ্ধের পাশাপাশি চলেছে স্বাধীনতা সংগ্রাম দমনের যুদ্ধ। যুদ্ধ ছাড়া মার্কিন রাষ্ট্র ও অর্থনীতি অচল। তাই মার্কিন রাষ্ট্র, তার মিডিয়া ও তার প্রচারকরা দরকার মতো সাদ্দাম বা লাদেন, কমিউনিস্ট বিপ্লবী বা মুসলিম সন্ত্রাসী, কিংবা প্রয়োজন হলে ভিনগ্রহের কাল্পনিক অধিবাসীদের ভিলেন বানাবেই। সমস্যাটা আমেরিকার বাইরের কারো মধ্যে নয়, তার নিজস্ব। হয়তো এ দেখেই সুকুমার রায় ছড়া কেটে খোঁচা দিয়েছিলেন,
‘ধেড়েটার বুদ্ধি দ্যাখো/চড় মেরে সে নিজের গালে/কে মেরেছে দেখবে বলে/চড়েছে গিয়ে টিনের চালে।’
টিনের চাল কথাটা রূপক, এর আজকের মানে হবে, ‘কে মেরেছে দেখবে বলে/ মারছে মানুষ বিশ্ব জুড়ে’
তিন.
তাহলে কি তালেবান মিথ্যা? লাদেন ও আল কায়েদা মিথ্যা? তা কেন হবে? তালেবানদের কীর্তি সবাই দেখেছে। অমুসলিম তো দূরের কথা বেশিরভাগ মুসলিমরা মানে যে, তালেবানরা আফগানিস্তান বা বিশ্ব কারো জন্য শুভ ছিল না। আর লাদেন ও আল কায়েদা? এ বিষয়ে আমরাও জর্জ বুশ ও সিআইয়ের মতোই অন্ধকারে। তাদের মতো আমাদের চোখও এদের খুঁজে বেড়াচ্ছে। আমরাও চোখ রাখছি যে, আসলে ঘটনা কী? তবে এরই মধ্যে ব্রিটেনের সাবেক প্রতিরা মন্ত্রী রবিন কুক (তিনি ইরাক আক্রমণের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেন) সাংবাদিকদের সামনে বলে ফেলেছিলেন যে, আল কায়েদা-টায়দা এগুলো সিআইএ-র একটা ফাইলের নাম। এদিকে বেনজীর ভুট্টোও বিখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের কাছে সাক্ষাতকারে ঘোষণা করেছিলেন, লাদেন মারা গেছেন। এটা বলার কিছুদিনের মাথাতেই রবিন কুক রহস্যময়ভাবে এবং বেনজীর ভুট্টো আততায়ীর হাতে মারা যান।
আমরা পাকিস্তান প্রসঙ্গে ফিরে আসি। মার্কিনী সুরে পশ্চিমা গণমাধ্যম যতই বলুক তালেবানরাই হলো পাকিস্তানের প্রধান সমস্যা, তাদের দাপটে পাকিস্তান রাষ্ট্র এই গেল গেল বলে, তা সত্য নয়। যে সোয়াত বা বুনেরে তাদের বাড়বৃদ্ধি, সেটাও দড়ি ঢিলা দিয়ে সাময়িকভাবে বাড়তে দেওয়ার ফল। দুটি উদাহরণ দেওয়া যাক। সোয়াতে হামলা শুরুর কিছু আগে লাল মসজিদ জিম্মি ট্র্যাজেডির হোতা তালেবানদের নেতা মাওলানা আব্দুল আজিজকে পাকিস্তান সরকার মুক্তি দেয়। একইসময় জারদারি নিজের গরজে সোয়াতের তালেবানদের সঙ্গে শরিয়া কায়েমে চুক্তি করে পাকিস্তান তালেবান হয়ে গেল এমন প্রচারণায় ইন্ধন যোগান। অথচ সংসদ ছিল, ছিল এ বিষয়ে সোয়াতের জনগণের মতামত নেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
পাকিস্তানি তালেবানরা সংখ্যায় খুবই অল্প, এরা প্রায় না খাওয়া অতি দরিদ্র উপজাতি সম্প্রদায়। লাদেনের মতোই ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার গোড়ার প্রথম বিদ্রোহী ওয়াহাবি নেতা সৈয়দ আহমদ বেরেলভী ও তাঁর সঙ্গিরা পাঞ্জাবে পরাস্ত হয়ে এখানে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই মারা যান। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য টিকে থাকে। আজ যেভাবে যে পন্থায় এরা পাকিস্তানের মতায় যেতে চাইছে সেটাও ব্যর্থ হবে এদের সংখ্যাল্পতা ও পদ্ধতির দুর্বলতার জন্য। তার থেকে বড় কথা পাকিস্তানের বৃহত্তম দুই প্রদেশ পাঞ্জাব ও সিন্ধুতে তালেবানদের কোনো উপস্থিতি নেই। সেই সম্ভাবনাও কম। এই প্রদেশ দুটির জনগণ মোটাদাগে আধুনিকমনস্ক। সীমান্ত গান্ধি আব্দুল গাফফার খানের প্রগতিশীল বেলুচিস্তানের বেলাতেও একই কথা। তাহলে তালেবানরা কীসের হুমকি যার জন্য দুনিয়া মাতোয়ারা হবে, পাকিস্তানে মার্কিন আক্রমণ ঘটতেই হবে? দুনিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম সাড়ে পাঁচ লাখ সদস্যের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তাহলে কাজ কী?
পাকিস্তানের প্রধান সমস্যা সেখানকার সেনাতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রের জোটবদ্ধতা এবং এদের সম্মিলিত দুর্নীতি। জন্মের পর থেকেই একদিকে সেনাশাসন অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে সামন্তবাদের জুলুম ও রক্ষণশীলতা পাকিস্তানের অস্তিত্বকে কুরে কুরে খাচ্ছে। স্থানীয় জমিদার ভূস্বামী শ্রেণী থেকেই কিন্তু পাকিস্তানের জেনারেলরা ও এলিটমহলের পয়দা হয়েছে। এদের অপশাসন-শোষণে পাকিস্তানের নব্বইভাগ মানুষ এতই বিপর্যস্ত যে, একদিকে বেলুচিস্তান স্বাধীনতার দাবি তুলেছে, অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ দারিদ্র্য, অব্যবস্থাপনা, বেকারত্ব, জিনিষপত্রের অগ্নিমূল্য, সরকারি নির্যাতন ইত্যাদি কারণে বারুদের মতো তেতে আছে। তালেবান জুজুর উৎপাত শুরু না হলে এতদিনে এরাই রাস্তায় নেমে সেনা-সামন্ত জোট ও জারদারি সরকারের গদি গরম করে ফেলতো। এ কারণেই জারদারিরা সমস্যাটি বাড়তে দিয়েছেন, যাতে মূল সমস্যা জানাবার সুযোগ মানুষ না পায়।
সেনাবাহিনীরও সুবিধা এই যে, সন্ত্রাসদমনের মার্কিন ঠিকাদারির বরাতে তাদের পকেটে নতুন করে ৪০০ মিলিয়ন ডলার আসছে। এই সুযোগে ভারতও আফগান সীমান্তে উন্নয়ন কাজের নাম করে, কনস্যুলেট বসিয়ে বেলুচিস্তানের দুর্বল স্বাধীনতা আন্দোলনকে অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাতিয়ে তুলছে। অভিযোগটা মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে জড়িত নিরাপত্তা বিশ্লেষক ক্রিস্টিন ফেয়ারের। সম্প্রতি ইসরায়েলের জেরুজালেমে এই স্বাধীনতাকামীরা সরকার গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে। বোঝার আর কিছু কি বাকি রইল?
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য তছনছ করে সেখানকার তেলসম্পদ ও সামরিক স্বার্থ হাসিলের পর আমেরিকা এখন মধ্য এশিয়ায় নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে দণি এশিয়ায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালান করেছে। বুশের মূল পরিকল্পনায় ছিল ইরাক-ইরান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান ও সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করে ভেঙ্গে ফেলা বা খয়েরখাঁ সরকার প্রতিষ্ঠা করা। ইরানকে ধরবার আগে তাই পাকিস্তান ভেঙ্গে অবস্থান পোক্ত করা প্রয়োজন। আসল প্রয়োজন রাশিয়া ও চীনকে ঘিরে ন্যাটো শক্তিবলয় গড়ে তোলা। সেজন্যই সাবেক বলকান শক্তি চেকোস্লাভাকিয়া ও যুগোস্লাভিয়াকে টুকরা টুকরা করা হয়। রাশিয়ার ঘাড়ের কাছে জর্জিয়ায় ন্যাটোর ঘাঁটি বানানো নিয়ে নানান গোপন ও প্রকাশ্য তৎপরতা চলছে। কেউ যদি চীন, রাশিয়া ও ভারতের মাঝখানে মধ্য এশিয়ার মানচিত্রটি ভাল করে খেয়াল করেন, তাহলে বুঝবেন কেন ওবামা বুশের মতোই যুদ্ধের জন্য মরিয়া হয়েছেন। ইরান থেকে তেলের যে পাইপলাইনটি স্থলপথে ভারতে আর বেলুচিস্তানের গাদার বন্দর দিয়ে ভারত মহাসাগরে আসবে, সেটির নিরাপত্তা দরকার। গাদার বন্দরটি বানিয়ে দিয়েছে চীন। কিন্তু ভারত ও আমেরিকা এর ওপর সামরিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থেই নিয়ন্ত্রণ চায়। ভারত মহাসাগরে সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রাধান্যের জন্যও এটা জরুরি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র ফরেন অ্যাফেয়ার্স পত্রিকা বলছে ভারত মহাসাগর হলো একবিংশ শতাব্দীর কেন্দ্রীয় মঞ্চ।
একটা উদ্ধৃতি লাগবেই এখানে:
‘‘বৃহত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল জড়িয়ে আছে সাহারা মরুভূমি থেকে ইন্দোনেশিয় দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত ইসলামের সমগ্র খিলানটি। পশ্চিমারা যদিও আরবদের মরুর লোক বলে জানে, তারা একইসঙ্গে সমুদ্রচারী জাতি। মধ্যযুগে তারা জাহাজে করে আরব থেকে চীনে গিয়েছে, এই যাত্রা পথের সর্বত্র সামুদ্রিক বাণিজ্যের আশ্রয়ে তারা তাদের ধর্মবিশ্বাসও ছড়িয়ে দিয়েছে। আজ, পশ্চিমাদের আওতায় পড়া ভারত মহাসাগরের সীমার মধ্যে রয়েছে সোমালিয়া, ইয়েমেন, ইরান ও পাকিস্তান। এই সাগর ঘিরেই চলছে গতিশীল বাণিজ্য, আবার একে ঘিরেই দানা বেঁধেছে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ, জলদস্যুতা ও মাদক চোরাচালান। শত শত কোটি মুসলিম_ মধ্যযুগের সেই ধর্মান্তরণের উত্তরাধিকারি_ ভারত মহাসাগরের পূর্বপ্রান্তে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় বাস করে।’’ (সেন্টার স্টেজ ফর দা টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি, পাওয়ার প্লে’জ ইন দা ইন্ডিয়ান ওশেন, রবার্ট ডি কাপলান, ফরেন অ্যাফেয়ার্স, মার্চ/এপ্রিল ২০০৯)
আগামী পর্বে সমাপ্য। দেখুন এখানে: পাকিস্তান, তালেবান ও আমাদের খোয়াব ২ : আতর পাহাড়ের জন্ম ও বিলয় কথা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

