somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লুল গ্রিক দেবতা প্যান - পোস্টে অপ্রাপ্ত বয়ষ্কদের প্রবেশ নিষেধ।

১২ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একজন উপদেবী ও দেবতা জিউসের (মতান্তরে হারমেস বা ড্রায়োপ) পুত্র প্যান ছিলো আর্কাডিয়ান দেবতা, বর্তমানে যার রাজধানী হলো ত্রিপলী। প্যান জন্ম নেয়ার পর ধাত্রী যখন দাড়ি ওয়ালা নবজাতকের মুখ দেখলো তখন সে ভীষণ ভীত হয়ে পড়লো। এ কারণে বলা হয় যে অযৌক্তিক ও অত্যধিক ভয় এসেছে প্যানের কাছ থেকে। প্যানের ছাগলের মতো দু'টি পা ও শিং ছিল, সাথে পশমে আবৃত ছিল তার ছোট লেজ। সে ছিলো বনভূমি, পাহাড়-পর্বত চূড়া ও চারণভূমির দেবতা। চষে বেড়াতো পাহাড় থেকে পাহাড়ে, হত্যা করতো বন্য পশু। কিন্তু সান্ধ্যকালে মিষ্টি ও স্নিগ্ধ সুরে বাঁশি বাজাতো, সেখানে তার সঙ্গী হতো পরী ও চোখ থেকে প্রেম ঝড়ে পরা রমনীরা।





প্যান প্রেমে পড়েছিলো সিরিক্স নামের আর্কাডিয়ান জলের উপদেবীর। নদীর দেবী লান্ডনের কন্যা ছিলো সে। একদিন শিকারে গেলে প্যানের সাথে তার দেখা হয়, রূপে অভিভূত ও কামনায় কাতর প্যান প্রেম নিবেদন করে তাকে। সিরিক্স ঘৃণাভরে সে ভালোবাসা ফিরিয়ে দেয়, প্রার্থনা ও প্রেমিকা হতে অস্বীকৃতি জানায় মানুষ ও ছাগলের মিলিত দেহ ধারণকারী প্যানের। দেবতা প্যান তখন সিরিক্সের পেছনে ছুটে তাকে ধরার জন্য।



সিরিক্স এসে পৌঁছায় পশ্চিম আর্কাডিয়ার লান্ডন নদীর ঝর্ণায় এবং তার পালানোর পথ শেষ হয়ে যায়।



সিরিক্স তখন সে নদীর দেবীর কাছে তার আকৃতি পরিবর্তনের প্রার্থনা করে, নদীর দেবী সে প্রার্থনা গ্রহণ করে সাথে সাথে সিরিক্সকে নদীর জলখাগড়ায় রূপান্তর করে দেয়।



প্যান যখন সিরিক্সকে ধরতে গেলো তখন তার হাতে আসলো শুধুই নলখাগড়া ও তার ভেতর বাতাসে উৎপন্ন হলো মনোরম সুর। সে সুর শুনে প্যান উৎফুল্ল হলো, উপদেবীকে মনে করলো আর বিজয়োল্লাসে নিজেকে বললো -

"This converse, at least, shall I have with you."

পরক্ষণেই বিভিন্ন মাপের সাতটি নলখাগড়া নিয়ে একটি সুরযন্ত্র বানালো, যার নাম হলো সিরিক্স বা প্যানের বাঁশি।



প্যান তার যৌন শক্তির জন্য বিখ্যাত। তার সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিলো চাঁদের দেবী সেলেনার সান্নিধ্য অর্জন। একাজের জন্য সে তার লোমময় ছাগলের দেহ ভেড়ার চামড়া দিয়ে ঢেকে ফেলে; চাঁদের দেবীকে নামিয়ে আনে জঙ্গলে এবং সেখানে সে দেবীকে ভোগ করে।





ইকো নামের আরেকটি উপদেবী ছিলো। ইকো ও প্যানের আয়েমবি নামের একটি সন্তান হয়।



চমৎকার গায়িকা ও নর্তকী ছিলো ইকো, কিন্তু অবজ্ঞা করতো সকল পুরুষকে। এই বিষয়টা কামাসক্ত দেবতা প্যানকে রাগিয়ে দিলো, সে তার অনুসারীদের ইকোকে হত্যার জন্য পাঠালো। ইকো তখন নিজেকে অসংখ্য খন্ডে বিভক্ত করে সারা পৃথিবীতে নিজেকে ছড়িয়ে দিলো। ধরিত্রী দেবী গাইয়া সে খন্ডগুলো গ্রহণ করলো, আর ইকোর সে মধুর সুরের অংশ প্রতিধ্বনির রূপ পেলো।



লুল দেবতা প্যান, পিতিয়াস নামের আরেকটি উপদেবীকে ভলোবাসতো। যে নিজেকে বাঁচানোর জন্য পাইন গাছে পরিণত হয়।



সিরিক্স আর পিতিয়াসকে না পেলেও কুমারী নারীদের ভোগ করতো প্যান। বাদ যায়নি ছাগল-ভেড়া ও তাদের পালকরা।







প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি দূরত্ব বজায় রেখে চলতো প্যানের থেকে। স্যান্ডেল হাতে দেবী আফ্রোদিতি -



এক সময় প্যান তার বাঁশির সুরের সাথে এপোলোর সুরের তুলনা করে ধৃষ্টতা দেখালো। এপোলো ছিলো বীণা জাতীয় গ্রীক সুরযন্ত্র লায়ারের বা সুরের দেবতা। তো প্যান তাকে প্রতিযোগিতার আমন্ত্রণ জানালো, বিচারক হলেন পাহাড়ের দেবতা টিমোলাস।



প্রতিযোগিতায় প্যানের সাদাসিদা সঙ্গীত প্যানকে ও তার অনুসারীদেরকে দারুণভাবে সন্তুষ্ট করলো। তারপর এপোলো তার লায়ারে সঙ্গীত তোললো। দেবতা টিমোলাস এপোলোকে বিজয়ী ঘোষণা করলো। শুধুমাত্র রাজা মিডাস ভিন্নমত দেখালো এবং ভুল বিচারের জন্য প্রশ্ন করলো। বিষয়টা এপোলোর কাছে সইলো না, পরিণতিতে রাজা মিডাসের কান গাধার মতো হয়ে গেলো।





সূত্র : বিভিন্ন ওয়েবসাইট অবলম্বনে রচিত।

এডাল্ট ছবি থাকায় পোস্টটি প্রথম পাতার সকল পোস্ট অংশে প্রকাশ করা হলো না।
৫০টি মন্তব্য ৪৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করতে এসেছিলেন ইউনুস স্যার!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৪



অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সার্বিক দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। দীর্ঘ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন কিরকুট, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

*** জামাত শিবির এর যারা আছেন তারা দয়ে করে প্রবেশ করবেন না ***


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল একটি দলের ভাগ্যের প্রশ্ন নয় এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক কাঠামো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২২



পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে। দুর্ধর্ষ মাফিয়া একটি রাষ্ট্রের মালিক হতে যাচ্ছে। দেশ সীমানা ভূখণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে, পৃথিবীর জন্যই অত্যন্ত বিপদজনক। অবশ্য নির্মম বাস্তবতা হলো, আগাগোড়া অসভ্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হইলো

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এখন আমাদের আর কোন টেনশন রইলো না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত দেশ আবার গণতন্ত্রের ট্রেনে যাত্রা শুরু করলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঙিন ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গ বিশ্লেষন ( Anatomy of Pomegranate )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১


সবুজ পাতার আড়াল ভেঙে
ডালিম ঝুলে লাজুক রঙে
বাইরে রক্তিম খোলস কঠিন
ভিতরে দারুন জীবন রঙিন।
শত দানার গোপন ভুবন
একসাথে বাঁধা মধুর টান
হৃদয়ের হাজার স্বপ্ন যেন
লুকিয়ে থাকা রক্তিম গান।

উপরে প্রচ্ছদ চিত্রে রেনেসাঁ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×