অবারিত প্রাকৃতিক উৎস থেকে অনিয়ন্ত্রিত কৃষি ও মৎস্য সম্পদ আহরণ গ্রামীণ কর্মসংস্থানেরআদিম উপায় হলেও জলবায়ু পরিবর্তন এবং অনিয়ন্ত্রিত হিউম্যান ইন্টারভেনশন এর কারনে প্রাণ এবং পরিবেশ এর চরম বিপর্জয়ের ঝুকির উপর দাঁড়িয়ে আমাদের আজ কর্মসংস্থানের সেসব মধ্যমকে পুনরায় ভাবনায় আনতে হবে।
চাষ না করে ওয়াইল্ড সোর্স থেকে মধু আহরণ, চাষ না করে মৎস্য আহরণ বা নিধন, পাখি শিকার, সুন্দরবন সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক বন থেকে মধু, মোম, চিংড়ী পোনা, উদ্ভিদ্য এবং প্রাণীজ সম্পদ আহরণের ন্যাচারাল এবং প্রাচীন ব্যাপারগুলো আমাদের ওয়াল্ড লাইফ, জৈব বৈচিত্র, মৎস্য প্রজনন এবং পরাগায়নের মত মৌলিক ব্যাপার গুলোকে বিষিয়ে তুলছে তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে।গত ২-৩ দশকে বিষাক্ত ক্যামিক্যাল দিয়ে চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করার প্রাণঘাতী পদ্ধতি সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে।
বন্ধ করতে হবে ন্যাচারাল মৌচাক থেকে মধু আহরণের ব্যাপার গুলো। বিস্তৃত গ্রামীণ জনসাধারণের (মৌয়াল, বনজীবি, মৎস্যজীবী) বিকল্প কর্মসংস্থানের উৎস বের করে পাখি, মৌমাছি, নদী এবং বন বাঁচাতে হবে। মৌমাছি এবং সাধু পানির মৎস্য প্রজাতির সংরক্ষণে অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক সার কীটনাশক চাষাবাদ নিয়ন্ত্রিত করে মৃত্তিকা, পানি এবং মৎস্য সংবেদনশীল চাষাবাদের উপর জোর দিতে হবে। প্রাণ এবং পরিবেশ রক্ষায়, মৌমাছি রক্ষায় এবং মা মাছ রক্ষায় সচেষ্ট হতে হবে।
বন বাঁচাতে সবার আগে বনজীবিদের বাঁচাতে হবে।পৃথিবীর সবচাইতে ঘনবসতিপূর্ন দেশে কৃষি পন্য উৎপাদন পুরোপুরি প্রকৃতির উপর ছেড়ে না দিয়ে, পরিবেশ বান্ধব বাণিজ্যিক চাষাবাদ ভিত্তিক করে তুলে প্রাকৃতিক কৃষি ও মৎস্য সম্পদের উৎসগুলোকে রক্ষায় মনোযোগী হতে হবে।
বনজীবিদের বিকল্প কর্মসংস্থান বন বাঁচানোর ১ম পর্যায়।
২য় পর্যায় হোল সকল নৌরুট সরানো, হিউম্যান পেনিট্রেশন (সম্পদ আহরণ হোক কিংবা পর্যটন)। পর্যটনের ব্যাপারটা একেবারেই অনালোচিত। আমরা বাঘের আলোকচিত্র চাই না। বাঘের আন ডিস্টারবড নিরাপদ এবং স্বাভাবিক বিচরণ চাই, হরিণের বিস্তারে বনের গাছ সংরক্ষণের নিশ্চয়তা চাই।
৩য় পর্যায় হোল প্রাণঘাতি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সরানো। এটা না সরালে এক থেকে দুই দশকের ব্যবধানে সুন্দরবনের আশেপাশের এলাকায় বায়ু, শব্দ এবং পানি দূষণে, পানি এবং বায়ুর তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ম্যানগ্রোভ এবং প্রাণী সুরক্ষার লেয়ার গুলো নষ্ট হয়ে পড়বে। বাঘ এই লেয়ারের উচ্চ স্তরে অবস্থান করছে। বাঘ শেষ হলে সুন্দরবন এর সম্পদ লূটে পুটে খাওয়া সহজ হবে।
সুন্দরবন আক্রান্ত বহু দিক থেকে। জীবন ধারণের নিমিত্তে ব্যক্তির সম্পদ আহরণ, আঞ্চলিক মাফিয়াদের বিভিন্ন চোরাকারবারি চক্র এবং ঢাকার মাফিয়া রাজনীতি ও কর্পোরেটদের বাইরেও এই আক্রমণ ছড়িয়ে গেছে দেশের বাইরে। সার্ভের নাম করে সুন্দরবনের জীব বৈচিত্রের জীনগত উপাদান গুলো চুরি করা হয়েছে বলেই আমার মনে হয়। বনের ভিতর দিয়ে নৌরুট করে বনের পরিবেশ ভেঙ্গে বাঘ তাড়ানো হয়েছে, এতে বনে হিউম্যান পেনিট্রেশন নিরাপদ হয়েছে। বনের খুব কাছাকাছি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র করে (যার শীতলীকরনের সাথে সুন্দরবনের জালের মত বিস্তৃত নদী গুলো জড়িত, যার ট্রান্সপোর্টেশনেও নদি জড়িত ) বনের পরিবেশ এবং পানি বিষাক্তকরনের কাজ করে বাকি যা আছে তা নষ্টের ব্যবস্থা দাঁড়া করানো হয়েছে এখন।
সুন্দরবন রক্ষায় জাতীয় ঐক্যমত্ত দরকার।
প্রাণ বৈচিত্র রক্ষায় গণসচেতনতা আসুক।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৩:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




