
তড়িঘিড়ি করে দেশকে ডিজিটাল করার দৌড়ে অবতীর্ন হলে যা হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের কোন সংজ্ঞা সরকার কি দিয়েছেন, তা আমি জানি না।
গ্রামে চায়ের দোকানে কোন একদিন বসে যখন চা খাচ্ছিলাম; আসে পাশে বাঁশে বেঞ্চি তে বসা অন্যান্য চা পান করত গ্রাম বাসীদের প্রায় দুবছর আগে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ""ডিজিটাল বাংলাদেশ" বলতে আপনারা কি বোঝেন?"
উত্তরের সারাংশ যা এসেছিল, তা শুনলে অবাক হবেন। ঐ গ্রামের চায়ের দোকানে আড্ডারত সকলেই মতামত দিয়েছিলেন;
- এই বিল্ডিং,রাস্তা ঘাট হবে
- সরকারী কর্মী বাহিনী গ্রামে বাড়বে
- আমরা কিছু উপকার পেলে পেতেও পারি।
গ্রামে স্থাপিত ৪০০০কিমি ফাইবার অপটিক ক্যবল কি ভাবে গ্রাম বাসীর উপকারে আসতে পারে, গ্রামবাসী তা জানেন না।
জানতেন যদি সরকারী গ্রামের কর্মীরা "ডিজিটাল বাংলাদেশের" উদ্দেশ্য জানতেন, সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত হতেন, "ডিজিটাল বাংলাদেশের" সংজ্ঞা অনুযায়ী তাকে কাজ করতে বলা হোত।
সরকারী আয়কর দপ্তরে একদিন দুপুরে কাজে গেছিলাম। যার সাথে আমার কাজ ছিল, তিনি আয়কর মেলায় থাকাতে ঐ কর্মী আমাকে বিনয়ের সাথে বসতে বলে, তিনি ইউটুবে পুরানো "হিন্দি" ছবি দেখা শুরু করলেন; কারন আয়কর মেলার কারনে তিনি ছাড়া ঐ আয়কর দপ্তরের সকলে আয়কর মেলায় জনগনের "ডিজিটাল" সেবা দেবার কারনে দপ্তর শুন্য। অতএব একমাত্র কর্মী দপ্তরে "ডিজিটাল" সুবিধার কারনে "হিন্দি" ছবি না দেখে কেমনি সময় পার করবেন?
আপনি যদি অপ্রস্তুত ও অনাগ্রহী শিক্ষার্থীকে শিক্ষিত করতে চান, কাজটা শুধু কঠিন নয়, রীতিমত অবাস্তব হয়ে দাঁড়ায়।
সরকারী দপ্তরে শুদুমাত্র নকল মাইক্রোসফ্ট অফিস ও ইন্টারনেট কানেকশান দিয়ে, গ্রাম্য কম্পউটার দোকানে শিক্ষিত হয়ে ওঠা টাইপিস্ট কে উপজেলার সরকারী কম্পুটার বিশেষজ্ঞ আখ্যায়িত করেন, হ্যকাররা তা হলে সহজেই স্বশরীরেই হ্যকার সাজতে পারবে।
হ্যাকার মানেই বাজে লোক, বাজে "ডিজিটাল" লোক তা কিন্তু নয়।
মাইক্রোসফট আসল হ্যাকারদের দুষ্ট আখ্যায়িত করার জন্য মিডিয়াতে হ্যকারদের চৌর্য বৃত্তির সংগে মিলিয়ে দেখায়।
হ্যাকার রা সাধারনতঃ বহু পটু কম্পুটার প্রোগ্রামার বা কোড অনুসন্ধানী। তারা সাধারনতঃ সিকিউরিটি লুপ হোল গুলো ধরিয়ে দেয়।
অর্থাৎ ডিজিটাল নিরাপত্তার দুর্বলতা গুলো প্রদর্শন করে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা নিজের মত করতে গিয়ে উন্নত দেশের বহু সরকার মাইক্রোসফট কে বিসর্জন দিয়েছে এবং অবলম্বন করেছে উন্মুক্ত সোর্স এর "লিনাক্স" কে।
এসব দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন দেশ সমুূহ।
আমাদেরও এরকম পদক্ষেপ জরুরী ভিত্তিতে নেয়া উচিত।
আমাদের দেশের ইলেকট্রনিক তথ্য ভান্ডার এর তথ্য গুলোর নিরাপত্তা কে দিবে?
আজ শুধু ১০০কোটি ডলার চুরি হয়েছে, ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক তথ্য ভান্ডার এর তথ্য গুলো যে চুরি হবে না কে এই নিরাপত্তা দিবে?
ইলেকট্রনিক তথ্য ভান্ডার এর তথ্য গুলো বিকৃতি করত ইলেকট্রনিক কৃমিনাল দোষীকে নির্দোষ, অপরাধীকে নিরাপরাধ, ইউনিভার্সিটির সার্টিফিকেট ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিবর্তন কর্তন করত ফেল করা ছাত্রকে পাশ ও দেখিয়ে দিতে পারবে, যদি ইলেকট্রনিক তথ্য সেরকম নিরাপদ না থাকে।
মাইক্রোসফট ব আই বি এম? এদের সোর্স কোড তো কাউকে তারা দেখতে দেয় না!
সোর্স কোড যদি প্রোগ্রামার দেখতে না পারে, ইলেকট্রনিক তথ্য ভান্ডার নিরাপত্তা সে কিভাবে দিবে?
সুতরাং সময় হয়েছে, বাংলাদেশ যেন উন্মুক্ত সোর্স কোড ভিত্তিক (তথা লিনাক্স ও "গনুহ" GNU ) কে অনুসরন করে তথ্য প্রযুক্তির পলিসি প্রস্তুত করত অনুসরন করে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১৬ বিকাল ৩:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



