somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার সারাদিন

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শীতের সকালে ঘুম থেকে ওঠা বেশ কঠিন। কম্বলের নিচে যে আরামদায়ক উষ্ণতা জমে থাকে তার মায়া কাটিয়ে ওঠা বেশ কঠিন। কথাটা সবার জন্যই প্রযোজ্য, আর আমার মত অলসের জন্য অতিমাত্রায় প্রযোজ্য। এর ওপরে যদি যুক্ত হয় সাপ্তাহিক ছুটি, তাহলে মানসিক কষ্টটা বেড়ে যায় অনেক গুণ। বাসার অন্য সবাই ঘুমে, আর আমি বই খুলে পড়তে বসছি - একবার চিন্তা করুন কি হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।

আজ সকালটা শুরু হয়েছিল ঠিক এভাবেই।

মাঝে মাঝে মনটা খুব বিদ্রোহী হয়ে উঠে। কেন? কেন আমাকে এত কষ্ট করতে হবে? যদিও ভালো করেই জানি, কষ্টটা শুধু আমার জন্য নয়; ক্লাসে আরো যে নিরানব্বইজন ছাত্রছাত্রী আছে সবার জন্যই প্রযোজ্য। তারাও আমার মতই একই মর্মপীড়ায় আক্রান্ত, হাতে গোনা কয়েকজন অতিমাত্রায় বাস্তববাদী ছাড়া - শীতের সকালে কম্বলের নিচে জমে থাকা উষ্ণতা তাদের মনে কোন আলাদা ভাবাবেগ সৃষ্টি করে না।

ঘুম থেকে উঠলাম বটে, কিন্তু পড়তে বসতে ইচ্ছে করলো না। বাইরে তাকালাম - প্রচণ্ড ঘন কুয়াশা। আমার রুমটা উত্তরমুখী, জানালা বন্ধ থাকলেও হিমালয় থেকে বয়ে আসা বাতাস রুমটাকে শীতল করে রাখে ঠিকই। অনেক কষ্টে নিজের আলস্যভরা শরীরটাকে নিয়ে গেলাম ডেস্কের সামনে। নোটগুলো খুললাম, পড়লাম। মাথায় তেমন কিছু ঢুকলো না। বুঝতে পারলাম আজ পরীক্ষায় নাসা স্যারের অংশে সাদা খাতা জমা দিয়ে আসা ছাড়া আমার গতি নেই।

আমাদের এই স্যার আমাদের খুবই বিপদে ফেলেছেন। শুনেছি তিনি নাকি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন, চলে যাবেন। যেহেতু চলে যাবেন তাই পড়ানোর তেমন একটা গরজ নেই। ক্লাস মিস দিয়েছেন অনেকগুলো, যেটুকু না পড়ালেই নয় ওটুকুই পড়িয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা - উনি আমাদের কোন ক্লাসটেস্ট নেন নি। অন্যান্য সাবজেক্টে যা পড়াশোনা হয় তা মূলত ক্লাসটেস্টের কারণেই। সুতরাং উনার সাবজেক্টে সবার অবস্থাই কম বেশি খারাপ, আর আমার মত যারা ফাঁকিবাজ তাদের অবস্থা আরো বেশি খারাপ।

বাসা থেকে বের হলাম একটু দেরি করে, কারণ ছুটির দিনে রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকবে জানা কথা। বাসস্ট্যান্ডে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে হল না, ভাগ্যটা ভালোই বলতে হবে। সাধারণত ছুটির দিনে রাস্তা ফাঁকা থাকলেও বাসের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।

ফাঁকা বাসটা হাতেগোনা কয়েকজন যাত্রী নিয়ে ছুটে চললো। পরের স্টপেজে বাসে উঠল মারুফ, ছেলেটা বি সেকশনে পড়ে। পরিচয় হয়েছে মাত্র দিন কয়েক আগে। আমার পাশে বসলো, কুশল বিনিময় আর ভদ্রতাসূচক দুটো কথা বলে যে যার পড়ায় মন দিলাম।

পরের স্টপেজে বি সেকশনের মুজাহিদ এবং আরেকটা ছেলে (নাম জানি না) উঠল। দেখলাম সবাই নাসা স্যারের অংশ নিয়ে খুবই চিন্তিত। ত্রিশ নম্বরের পরীক্ষায় পনেরো নম্বর নাসা স্যারের আর বাকি পনেরো শাহরিয়ার স্যারের। শাহরিয়ার স্যারের অংশ সবাই বেশ ভালোই পারে। কারণ তিনি একটা ক্লাস টেস্ট নিয়েছিলেন।

ভার্সিটিতে ঢোকার সময় দেখলাম গাড়িতে বসে সামিরা পড়ছে। ওর পড়ার ভঙ্গিটা অদ্ভুত। কেমনভাবে যেন মাথা দোলাতে দোলাতে পড়ে।

পরীক্ষা নিয়ে আমি কোনকালেই তেমন একটা উদ্বিগ্ন ছিলাম না, এখনও নই। তবে এটাও সত্যি নাসা স্যারের অংশে যে অবস্থা, এত খারাপ অবস্থা নিয়ে আমি এর আগে কোন পরীক্ষা দেই নি। সুতরাং এটা মোটামুটি নিশ্চিত ছিলো যে এই পরীক্ষা আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ পরীক্ষাগুলোর একটা হতে চলেছে।

পরীক্ষা শুরু হল। শাহরিয়ার স্যারের অংশের লেখা শেষ হয়ে গেলো পঁয়ত্রিশ মিনিটের মাথায়। পঞ্চান্ন মিনিট বাকি আর খাতায় লেখা বাকি পনেরো নাম্বারের। কমন পড়েছে মাত্র ছয় নম্বর। হালকা ধারণা আছে আরো তিন নম্বর।

লিখলাম মনের মাধুরী মিশিয়ে। স্যার যা দেন।

পরীক্ষা শেষে নিজেকে ক্লান্ত এবং অবসন্ন মনে হচ্ছিল। সামিরার সোশিওলজির একটা নোট আমার কাছে ছিল। নোটটা ওকে ফেরত দিয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম।

বাসায় ফিরে নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে ঘুমালাম টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা।

কাল আবার পরীক্ষা আছে। সোশিওলজি। তারপর টানা তিনদিন বিরতি - ইলেকশন উপলক্ষে। কাল হয়ত একটু নিশ্চিন্তে থাকতে পারব।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:২০
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×