somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাকিবরা যেন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে নেমেছেন

১৮ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৭ মার্চ– এরকম প্রশ্ন আগে কখনও, কোনও সাংবাদিক সম্মেলনে শুনিনি৷‌ এই যে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে গেলেন, এর পর ড্রেসিংরুমে এমন আলোচনার কোনও রেশ থাকে নাকি? মানে, এই ধরুন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে যাওয়ার পর, বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়া মাথায় বা মনে তৈরি হয় নাকি? প্রশ্নকর্তা বাংলাদেশের এক ক্রিকেট লিখিয়ে৷‌ বক্তা সাকিব আল হাসান৷‌ কী উত্তর দেবেন তিনি এমন অদ্ভুত প্রশ্নের? এটাও সঙ্গে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এখানে কথা বলার পর কোনও চাপ, ভেতরে ভেতরে, অনুভব করেন কিনা৷‌ সংক্ষিপ্ত জবাব দিলেন বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক, ‘চাপ কেন হবে? এটা একটা পেশাদারি কর্তব্য৷‌ প্রেস কনফারেন্সে কথা বলা৷‌ কথা বলা শেষ মানে শেষ৷‌ ব্যাপারটা এর পর আর মাথায় থাকে না৷‌’

মঙ্গলবার সকাল পর্যম্ত বাংলাদেশ থেকে এসেছেন ৩৪ জন৷‌ আরও কয়েকজন রাতের মধ্যে এসে পড়বেন৷‌ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যম্ত পৌঁছনোর পর, পদ্মাপারের দেশে প্রবল সাড়া পড়ে গেছে৷‌ ক্রিকেটারদের অস্হিরতা দেখলেই দেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোন করে তাঁদের দেশের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে অনুরোধ করেন এই বার্তা পৌঁছে দিতে যে ছটফট না করে, ধৈর্য না হারিয়ে ক্রিকেটাররা যেন খেলা চালিয়ে যান৷‌ এখন যা পরিস্হিতি, তাতে ও দেশের এক বিরাট অংশের ধারণা, বৃহস্পতিবার তাদের দেশই জিতবে৷‌ ও দেশের ক্রিকেট লিখিয়েদের একাংশ ভয় পাচ্ছেন, আসল ছবি তুলে ধরতে৷‌ ভারত যে তুলনায় শক্তিশালী দল, এটা লিখতে গিয়ে ওঁরা হোঁচট খাচ্ছেন৷‌ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখন মাশরাফিদের সম্পর্কে কোনও নেতিবাচক কথা শুনতে চাইছেন না৷‌

সাকিব জানিয়ে গেলেন, এবার এখানে ক্রমাগত নিজেদের খেলায় উন্নতি হওয়ার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্কে প্রত্যাশা বাড়ছে৷‌ এবং এটা তাঁদের আরও ভাল খেলার জন্য উজ্জীবিত করে যাচ্ছে৷‌ মোটেই জনতার প্রত্যাশায় তাঁরা কোনও নেতিবাচক ব্যাপার দেখছেন না৷‌ এবং তাঁদের ঘিরে দেশের মানুষদের আগ্রহ বাড়ছে প্রতি ঘণ্টায়৷‌ ‘এই আগ্রহ বাড়ার মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা খুঁজে পাচ্ছি না৷‌ ভাল খেলা, তা-ও বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানো, কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যম্ত পৌঁছে যাওয়া, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওদের ঘরের মাঠে সমান তালে লড়ে যাওয়ার ফলে আমাদের প্রতি দেশে উন্মাদনা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে অবাক হচ্ছি না৷‌ এ জন্যই তো বলছি, ভারতের সামনে উপযুক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত৷‌’ এ কথা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে সাকিব জানিয়ে দিলেন, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের মতো বড় মাঠে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকা বা তুলনায় বৃহস্পতিবার গ্যালারিতে অনেক বেশি ভারতীয় দর্শক থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সেরা খেলাটা মেলে ধরতে অসুবিধা হবে না৷‌ মেনে নিলেন, বড় মাঠ মানে ফিল্ডিং সাজানোর ব্যাপারে, বুদ্ধি খরচ করার মতো ব্যাপারেও তাঁরা ভারতকে টেক্কা দিতে পারবেন৷‌ ‘আরে, একটা খারাপ দিন যে বৃহস্পতিবারই হবে না, তা কি ভারতীয় ক্রিকেটাররা জোর দিয়ে বলতে পারে? কিছুই হারানোর থাকবে না সেদিন, এটা সত্যিই একটা বড় ব্যাপার৷‌’

দেখা হলেই বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্রিকেট লিখিয়ে জানতে চাইছেন, ‘দাদা, কত পার্সেন্টেজ দিতে চাইছেন?’ কে বোঝাবে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সম্পর্কে, আগাম পূর্বাভাস না দেওয়া ভাল৷‌ উত্তর একটা দিতেই হবে? যে-ই বললাম, ‘৬৫: ৩৫৷‌’ পরের প্রশ্ন, কাদের স্বপক্ষে? এই প্রশ্নের মাঝেই যে আশা লুকিয়ে থাকছে, তা হল, ৬৫ শতাংশ বোঝাতে বাংলাদেশের কথা বোঝাতে চাইছি কিনা৷‌ যা বুঝে ছোট উত্তর দিলাম, ‘অবশ্যই ভারত৷‌’ এবার জবাব পেলাম, ‘২০০৭ বিশ্বকাপের কথা ভুলে গেলেন? পরে, শচীনের ১০০ সেঞ্চুরির ম্যাচে আমরা আবার হারিয়ে দিয়েছিলাম৷‌ সব ভুলে গেলেন নাকি?’ পাল্টা জবাবে অনেক কিছু বলা যেত৷‌ কিন্তু এই মুহূর্তে ওঁরা নিরাশ হতে চাইছেন না৷‌ প্রায় দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে মেতে আছেন বলে মনে হল৷‌

মাশরাফি, সাকিবরা অবশ্য এখন উচ্চাকাঙ্খী হয়ে পড়লেও, প্রকাশ ভঙ্গিটা এতটা উগ্র নয়, ‘আমরা ভয়হীন ক্রিকেট খেলব৷‌ ভারত ভাল টিম তো বটেই, কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছে, এখানেও টিম ইন্ডিয়াকে হারানো সম্ভব৷‌’ কিন্তু যাঁরা মাঠের বাইরে গলা ফাটাবেন, কাগজে লিখবেন, টেলিভিশনে বক্তব্য রাখবেন, সেই বাংলাদেশি অনুরাগীরা কোনও সমস্যার কথা এ মুহূর্তে শুনতে চাইছেন না৷‌ ভারতকে হারানোর পর, ওঁরা চাইছেন সেমিফাইনালে, পাকিস্তানকে হারাতে, ‘২৬ মার্চ হল আমাদের বিজয় দিবস৷‌ স্বাধীনতা পেয়েছিলাম আমরা সেদিন৷‌ আর, আই সি সি, কাকতালীয়ভাবে, সেদিনই রেখেছে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল৷‌ চাইতাছি সেদিন পাকিস্তানকে হারাতে৷‌ এর চেয়ে সুখের মুহূর্ত আমরা যে পাইনি আগে, দাদা৷‌’ তার মানে তো ফাইনালে পৌঁছে গেলেন? তার পর? ‘ধুস, এত সব ভাল ভাল ব্যাপার আমাদের কপালে আছে নাকি?’ কতটা আবেগ থেকে ফাইনাল পর্যম্ত পৌঁছনোর ব্যাপারটা ভাবা যায়, তা কল্পনা করে নিন৷‌ বলছি না, বাংলাদেশ যেন এখানে বৃহস্পতিবার ধোনিদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে নামতে চাইছে!



সাকিবরা যেন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে নেমেছেন

৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×