somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ক্লোন রাফা
আমি আমাদের কথা বলতে এসেছি। আমি বাংলাদেশের কথা বলবো।আমি পৃথিবির অবহেলিত মানুষের পক্ষে ।জয় বাংলার প্রতিটি শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। ৭১-এর স্বাধীনতা রক্ষায় জিবন বাজী রেখে লড়াই করে যাবো।জিবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে ।জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।

৭১-কখনোই ৫০/৫৫বছরের পুরোনো কোনো ঘটনা নয় ।

১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




৭১-হলো আমাদের বাংলাদেশের বাঙালি জাতির প্রতিদিনের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা । ৭১ আমাদের অস্তিত্ব,একাত্তর আমাদের আত্মপরিচয়ের ইতিহাস । একাত্তর যদি মলিন বা বিলীন হয়,তখন আমি আর আমি,আমরা থাকিনা।কাজেই একাত্তর বেঁচে থাকবে প্রতিটি বাঙালির বাংলাদেশের মানুষের অন্তরে । একাত্তর এগিয়ে দিবে আমাদের প্রত‍্যাহিক জিবনকে।একাত্তর’কে ধারন করেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ’কে নিয়ে যাবো উন্নতির শিখরে ।

১৯৭১-এর ৩টা সত্যিকারের গল্প
যাঁদের গলায় জুতার মালা পরাই, তাঁরা কেমন ছিলেন?

১. মুড়ির পোঁটলা হাতে মা—নাম: রমিজ উদ্দিনের মা, রাজশাহী।
১৯৭১, এপ্রিল মাস। ১৭ বছরের রমিজ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে যাবে। যাওয়ার আগে মা ছেলের গামছায় মুড়ি, গুড় আর একটা পেঁয়াজ বেঁধে দিল।
ছেলে বলল, "মা, ফিরব তো?"
মা কেঁদে বলল, "ফিরতে হবে না বাবা। যদি দেশটা ফেরে, তুই না ফিরলেও চলবে। যা, পাকিস্তানি কুত্তাগুলারে তাড়া।"

রমিজ আর ফেরেননি। রাজশাহী কলেজ মাঠে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। আজও তাঁর মা প্রতি ১৬ ডিসেম্বর একটা মুড়ির পোঁটলা বেঁধে শহীদ মিনারে রাখেন। বলেন, 'এই নে বাবা, তোর যুদ্ধের মুড়ি।'

এই মাকে আপনি কী বলবেন? 'দালাল?'

২. হিন্দুর বাড়িতে মুসলিম যোদ্ধা, মুসলিমের বাড়িতে হিন্দু যোদ্ধা—নাম: ক্যাপ্টেন গিয়াস ও জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা।
সিলেটের এক গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনী খুঁজছে মুক্তিযোদ্ধা। ক্যাপ্টেন গিয়াস আহত। রক্তাক্ত অবস্থায় ঢুকলেন এক হিন্দু বাড়িতে। বাড়ির কর্তা বিধবা ঠাকুরমা। তিনি গিয়াসকে খাটের নিচে লুকিয়ে নিজে উঠোনে বসে গীতা পড়া শুরু করলেন।
পাকিস্তানি সেনা এসে বলল, 'মুক্তি কোথায়?'
ঠাকুরমা বললেন, 'আমার ঘরে ভগবান ছাড়া কেউ নাই। তল্লাশি নাও।'
সেনারা চলে গেলে ঠাকুরমা গিয়াসকে বললেন, "বাবা, বাঁচো। দেশটা বাঁচাও।"

আবার ঢাকায়, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতাকে যখন পাকিস্তানি সেনা গুলি করে, তাঁর লাশ তুলে নেন তাঁরই মুসলিম ছাত্ররা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। কারণ, শিক্ষক মানে ধর্ম না, শিক্ষক মানে বাবা।

এই মানবতাকে আপনি 'ধর্মহীন" বলবেন?

৩. পা হারিয়েও পতাকা হাতে—নাম: বীর প্রতীক আব্দুল হালিম, কুমিল্লা।
সেক্টর-২-এর যোদ্ধা আব্দুল হালিম। মুক্তিযুদ্ধের এক অপারেশনে পায়ে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার ঢোকে। গ্যাংরিন হয়ে পা কাটতে হয়।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে তিনি নার্সকে বললেন,' আপা, একটা লাল-সবুজ কাপড় দেন।'
নার্স অবাক হয়ে দিল। হালিম সেই কাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদলেন। বললেন, "পা একটা গেছে। দেশটা তো পেলাম।"

স্বাধীনতার পর তিনি ভিক্ষা করে খেয়েছেন। সরকারি সাহায্য চাননি। বলতেন, 'আমি দেশের জন্য পা দিয়েছি, ভিক্ষা করার জন্য না।'

এই মানুষটাকে আপনি 'লুটেরা, মাস্তান' বলবেন?

সবশেষে একটা হিসাব
২ লাখ যোদ্ধার মধ্যে ১০ জন খারাপ হতেই পারে। পৃথিবীর সব সেনাবাহিনীতেই থাকে।
কিন্তু ১০ জনের জন্য ১,৯,৯০ জন রমিজ, হালিম আর গিয়াসকে গালি দেওয়া যায় না।

তাঁরা ফেরেশতা ছিল না। তাঁরা মানুষ ছিল। ক্ষুধা লাগত, ভয় লাগত, বাড়ির কথা মনে পড়ত। তবুও তাঁরা ট্রিগার টিপেছে। আপনার-আমার জন্য।

তাই গলায় জুতার মালা না ভাই।
তাঁদের ছবির সামনে একটা লাল-সবুজ পতাকা রাখেন। আর নিজের বুকের ভেতর এক ফোঁটা সম্মানের জল।

(বি.দ্র. এই ছবি ও লেখা তৈরিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়েছে ॥

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ॥


সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুপান্তর

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭


কাজী সালাউদ্দিন সাহেবের আসলেই রাজকপাল , এই কথা বললে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলা হয় না। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মসনদে টানা ষোলো বছর বসে থাকার এক বিরল কীর্তি তিনি গড়েছেন, যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×