[গাঢ়]জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশ 2007 জারি করলেন রাষ্ট্রপতি।। বিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃতু্যদণ্ড[/গাঢ়]
সর্বোচ্চ শাস্তি মৃতু্যদণ্ডের বিধান রেখে গত শুক্রবার (12.01.2007) জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশ 2007 জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ।
অধ্যাদেশে বিধি প্রণয়নের মতা রাষ্ট্র ও জনসাধারণের নিরাপত্তা, স্বার্থরা বা জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা বা অর্থনৈতিক জীবন অক্ষুণ্ন রাখার প্রয়োজনে অথবা সমাজ জীবনে অত্যাবশ্যক সামগ্রীর সরবরাহ ও সেবাকার্য নিশ্চিত করতে অধ্যাদেশে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিধি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রণয়নের মতা দেয়া হয়েছে। অধ্যাদেশটির কার্যকারিতা গত 11 জানুয়ারি 'সংবিধানে 141(এ)(1)'র অধীন রাষ্ট্রপতির ঘোষণাকৃত জরুরি অবস্থা জারির মেয়াদকাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, উপধারা (1)-এ প্রদত্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতা অক্ষুণ্ন না করে অনুরূপ বিধিতে বেশকিছু বিষয়ে বিধিবিধান করতে যথাযথ কতর্ৃপক্ষকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশ 2007 যেসব বিষয়ে বিধিবিধান করার মতা দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো:
ক. সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী কার্যকলাপ নিবারণ
খ. বাংলাদেশের সঙ্গে বিদেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক ুণ্নকারী কার্যকলাপ নিবারণ
গ. বাংলাদেশের যে কোনো এলাকায় শান্তি বিঘ্নকারী কার্যকলাপ নিবারণ
ঘ. সমাজের বিভিন্ন অংশ বা শ্রেণীর মধ্যে বিদ্বেষ বা শত্রুতা সৃষ্টিকারী কার্যকলাপ নিবারণ
ঙ. রাষ্ট্র ও জনসাধারণের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কার্যকলাপ নিবারণ
চ. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক জীবন ও জনশৃঙ্খলা বিপর্যয়কারী কার্যকলাপ নিবারণ
ছ. সমাজ জীবনে অত্যাবশ্যক সামগ্রীর সরবরাহ ও সেবাকার্য ব্যাহতকারী কার্যকলাপ নিবারণ
জ. জননিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও সমাজ জীবনে অত্যাবশ্যক সামগ্রীর সরবরাহ ও সেবাকার্য ুণ্নকারী খবর বা বিষয়সংবলিত সংবাদপত্র, বইপুস্তক, দলিল বা কাগজপত্র মুদ্রণ বা প্রকাশনা এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে অনুরূপ খবর বা তথ্য সমপ্রচার নিষিদ্ধকরণ
ঝ. আগের দফা
জ. অনুযায়ী বর্ণিত কোনো খবর বা বিষয়সংবলিত কোনো সংবাদপত্র, বইপুস্তক, দলিল বা কাগজপত্র বাজেয়াপ্তকরণ এবং উহা মুদ্রণ বা প্রকাশনার জন্য ব্যবহৃত ছাপাখানা থেকে জামানত তলব এবং বাজেয়াপ্তকরণ
ঞ. দফা ঝ-তে উলিখিত জামানত বাজেয়াপ্তকরণ বা ক্ষেত্রমত, সমপ্রচার নিষিদ্ধকরণ সত্ত্বেও খবর বা বিষয়সংবলিত সংবাদপত্র, বইপুস্তক, দলিল বা কাগজপত্র মুদ্রণ বা প্রকাশনার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ছাপাখানা বন্ধকরণ বা ত্রেমত, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার যন্ত্রপাতি জব্দকরণ
ট. নদী ও সামুদ্রিক বন্দর, বিমান বন্দর, ডকইয়ার্ড, রেলপথ, সড়ক, সেতু, খাল, টেলিগ্রাফ, গ্যাস ও বিদু্যৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, জলযান, স্থলযান, বিমান ও রেলগাড়ি পণ্যাগার ও মালগুদাম, কলকারখানা, শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকার বা কোনো স্থানীয় কতর্ৃপরে প্রয়োজনে ব্যবহৃত বা ব্যবহার্য বাড়িঘর, অঙ্গন ও অন্যান্য সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধানকরণ
ঠ. বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক ক্ষুণ্নকারী কার্যক্রম, রাষ্ট্র ও জনসাধারণের নিরাপত্তা ও স্বার্থ বিঘ্নকারী কার্যক্রম, সমাজ জীবনে অত্যাবশ্যক সামগ্রীর সরবরাহ ও সেবাকার্য বিঘ্নকারী কার্যক্রম কিংবা বাংলাদেশের কোনো অংশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা রক্ষার্থেঅনিষ্টকারী কোনো কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার ও আটক রাখার বিধানকরণ এবং উক্তরূপ কোন ব্যক্তির কোনো এলাকায় প্রবেশ, বসবাস, অবস্থান বা গতিবিধি সম্পর্কে বিধিনিষেধ আরোপকরণ।
ড. বাংলাদেশে প্রবেশকারী, বাংলাদেশ ত্যাগকারী, অথবা বাংলাদেশ সফরকারী ব্যক্তিগণের নিয়ন্ত্রণ
ঢ. নদী ও সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, ডকইয়ার্ড এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপ ও ছুটি নিয়ন্ত্রণকরণ
ণ. রেলপথ, জনপথ ও স্থলপথে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং সরকার বা স্থানীয় কতর্ৃপরে প্রয়োজনে নৌযান, রেলগাড়ি বা অন্যান্য স্থলযানে স্থান সংরক্ষণ
ত. ডাক-সামগ্রী আটক বা তা বিতরণ বিলম্বিতকরণ এবং ডাক, বেতার, টেলিগ্রাম, টেলেক্স, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট বা টেলিফোনের মাধ্যমে বার্তা বা খবর প্রেরণ নিয়ন্ত্রণ এবং এর মাধ্যমে প্রেরিত বার্তা বা খবর আটককরণ বা তা প্রেরণে ব্যাঘাত সৃষ্টিকরণ
থ. সমাজ জীবনে অত্যাবশ্যক সামগ্রীর সরবরাহ ও সেবাকার্য অব্যাহত রাখার প্রয়োজনে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ
দ. বিদু্যৎ উৎপাদন, সরবরাহ, বিতরণ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ
ধ. সমাজ জীবনে অত্যাবশ্যক সামগ্রী সরবরাহ ও সেবাকার্য সম্পর্কিত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা সরকার কর্তৃক গ্রহণ
ন. মুদ্রা, স্বর্ণ- রৌপ্য, ব্যাংক নোট, কারেন্সি নোট, সিকিউরিটি অথবা বৈদেশিক মুদ্রা ধারণ, ব্যবহার, হস্তান্তর বা উহার কায়কারবার নিয়ন্ত্রণ
প. স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হুকুম দখলকরণ
ফ. জনজীবনে অত্যাবশ্যক সামগ্রীর ব্যাপারে মজুদদারি, মুনাফাখোরি, কালোবাজারি বা অন্য কোনো প্রকার অসাধু কার্যকলাপ প্রতিরোধকরণ
ব. মুদ্রা, স্বর্ণ-রৌপ্য, ব্যাংক নোট, কারেন্সি নোট, সিকিউরিটি এবং বৈদেশিক মুদ্রাসহ যে কোনো প্রকার পণ্য বা দ্রব্যের আমদানি ও রফতানি নিষিদ্ধকরণ এবং এদের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে Customsd Act, 1969 (IV of 1969)-এর বিধানাবলী প্রয়োগকরণ
ভ. সভা, সমাবেশ, মেলা, মিছিল, শোভাযাত্রা এবং অবরোধ নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণকরণ এবং তৎসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশনা ও প্রচারণা সম্পর্কে বাধা-নিষেধ আরোপ বা নিয়ন্ত্রণ
ম. রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়ন, কাব বা সমিতির কার্যাবলী ও কর্মতৎপরতা স্থগিতকরণ
য. রাষ্ট্র ও জনসাধারণের নিরাপত্তা ও স্বার্থের হানিকর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে সন্দেহে কোনো স্থানে প্রবেশ এবং এতে প্রাপ্ত অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে যে কোনো বস' আটক ও হস্তান্তরকরণ এবং
র. ধর্মঘট ও লকআউট নিষিদ্ধকরণ।
3. অধ্যাদেশ-1 উপধারার অধীন প্রণীত বিধি বা বিধি অনুযায়ী কোনো আদেশ লঙ্ঘনকারী ব্যক্তির গ্রেফতার ও বিচারের বিধান করা হয়েছে। বিধান অনুযায়ী এ সব লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা বা লঙ্ঘনের সহায়ক বা সহায়তার চেষ্টার জন্য সর্বোচ্চ মৃতু্যদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। একই অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা চৌদ্দ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়বিধ দণ্ড দেয়ার বিধান করা হয়েছে।
এছাড়া যে সম্পত্তি সম্পর্কে দেয়া বিধানের লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা বা লঙ্ঘনের সহায়তা করা হয়েছে সে সম্পত্তি জব্দ, আটক ও বাজেয়াপ্তকরণ, উক্ত বিধি বা তদধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সরকার বা কোনো কর্মকর্তা বা কতর্ৃপকে মতা প্রদান ও দায়িত্ব অর্পণ, উক্ত বিধি বা তদধীন প্রদত্ত কোনো আদেশের প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ বা তার লঙ্ঘন নিবারণের ব্যাপারে সরকারি কর্মচারী ও অন্যান্য ব্যক্তির মতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ, উক্ত বিধি বা তদধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ মোতাবেক কোনো নোটিশ জারির ব্যাপারে বাধা নিবারণ এবং উক্ত বিধির অধীন কোনো লাইসেন্স, পারমিট বা সার্টিফিকেট মঞ্জুর করার জন্য ফি আদায়।
অধ্যাদেশে এ ধারার অধীন প্রণীত যে কোনো বিধিকে ভূতাপেক্ষ কার্যকরতা দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
4. এই ধারার অধীন প্রণীত যেকোনো বিধিকে ভূতাপো কার্যকরতা দেওয়া যাবে। 4। মতা অপর্ণ- সরকার, আদেশ দ্বারা ধারা(3)-এ উলেখিত যে কোনো বিধির অধীন তার সকল বা যে কোনো মতা বা দায়িত্ব এর অধীনস্থ যে কোনো কর্মকর্তা বা কতর্ৃপরে কাছে অর্পণ করিতে পারিবে। 5। আদেশের হেফাজত- (1) এই আদেশের দ্বারা বা অধীন অর্পিত কোনো মতাবলে প্রদত্ত কোনো আদেশ সম্পর্কে কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। (2) যেেেত্র এই অধ্যাদেশের দ্বারা বা অধীন অর্পিত মতাবলে কোনো কতর্ৃপ কতর্ৃক কোনো আদেশ প্রদান বা স্বার করা হয়েছে বলে বিবেচিত হয়, সেেেত্র আদালত এভিডেন্স অ্যাক্ট, 1872 (ঢ ড়ভ 1872)-এর অর্থ অনুযায়ী উক্ত আদেশকে উক্ত কতর্ৃপ কতর্ৃক প্রদত্ত বা স্বারিত বলে গণ্য করবে।
(6) দায়মুক্তি-(1) এই অধ্যাদেশ বা তদধীন প্রণীত কোনো বিধি অথবা অনুরূপ কোনো বিধির অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ মোতাবেক সরল বিশ্বাসে কৃত কোনো কার্যের জন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনরূপ আইনগত কার্যধারা রুজু করা যাবে না। (2) এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো স্পষ্ট বিধান না থাকলে এই অধ্যাদেশ বা তদধীন প্রণীত কোনো বিধি অথবা অনুরূপ কোনো বিধির অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ মোতাবেক সরল বিশ্বাসে কৃত কোনো কার্যের ফলে সংঘটিত কোনো তির জন্য সরকারের বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা রুজু করা যাবে না ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







