একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তার নির্বাচনি এলাকার অভিভাবক এটা আমরা সবাই জানি । শুধু নিজের নেতৃত্বের অস্তিত্ব ঠিকে রাখার জন্য সাধারন মানুষকে নিয়ে সংগ্রাম নয়, সাধারন মানুষের অধিকার আদায় করে দেওয়ার সংগ্রাম একজন প্রতিনিধির শপথ হওয়া উচিৎ।
আমার বক্তব্য স্পষ্ট করতে চাই, তাহলো অষ্টম জাতীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উর্দ্দেশ্যে। আমরা পরিবর্তনের রাজনীতিতে কেউ বিশ্বাস করি আবার কেউ করিনা। যাহোক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিম্নস্তরের নির্বাচন হলেও আমাদের গুরুত্বের সাথে নজর দেওয়া উচিৎ। নির্বাচনে ভোট কেনা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ কিন্তু অবাধে ভোট কেনা দেখা গিয়েছে সব নির্বাচনি এলাকায় শুধু তাই নয় হৈ হুল্লা করে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া দেখা গিয়েছে এবং বেশী ভাগ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের টাকা খরচের মাত্রা শুনলে অবাক হতে হয়। এতো খরচ করে ৫ বছর জনগনকে কি দিবে? আর জনগনই বা কেন বিক্রি করছে তার মুল্যবান ভোট। এই যদি হয় তাহলে কি পরিবর্তন আমরা চাই তাকি আমরা জানি? কেনই বা আমরা রিদয়ে লিখতে পারিনা নট ফর সেল মেড ইন নিজ এলাকা।
খুবই কষ্ট হয় সাধারন মানুষের এমন কান্ড দেখে। নির্বাচনের দিন ভোট দিতে গিয়ে দেখলাম বেশ কিছু ভোটার সময় প্রায় শেষের দিকে ওরা এলো-মেলো চলাচল করছে বললাম-ভোট দিবিনা ? আমার দিকে তাকিয়ে বলল-এখনই...! আরও সময় যাক তার পর দেখাযাক কাকে ভোট দেওয়া যায়। ভাব দেখে মনে হলো যে টাকা দিয়ে ভোট কিনবে তাকে ভোট দিবে। অথচ্য আমার জানামতে তার পরিবারের ভোট আগেই বিক্রি করে ফেলেছে এবং সেই টাকাও বোধয় শেষ হয়ে গেছে। যাহোক ভোটারা নিজেদের ভাগ্য নিয়ে এই ভাবেই গেম খেলে তারা নিজেরা জানেনা কি করছে। গত নির্বাচনে এক বৃদ্ধ এর নিকট ভোট চাইতে গেলে বৃদ্ধ ভোটার বলল- বাবা মোর ২ টা ভোট আছে ৫০০ টাকা দ্যও মুই ভোট দিম। নির্বাচনের পরে সেই প্রার্থী নির্বাচিত হলেন আর কয়েক বছর পর সেই বৃদ্ধ এলো চেয়্যারম্যানের কাছে অনুদান নেওয়ার জন্য এবং পরিচয়পত্র নেওয়ার জন্য তখন চেয়্যারম্যান সাব বলল বুড়াবেটা ভোট ত টাকা দিয়ে দিছেন এখন ট্যাকা ছাড়া কিছু হবেনা । কোথায় পাবে সেই বুড়ো টাকা, মাথা নীচু করে কথাগুলো শুনল আর লজ্জায় কোন কথা বলতে পারলনা। এইরকম লজ্জা হয়ত অনেকে পাই কিন্তু সত্যিই কি লজ্জা হয়। তাই আমাদের সবাব লজ্জা হ্ওয়া উচিৎ শুধু নেতৃত্বর পরিবর্তন বা সৎ হতে বললে হবেনা। সবাইকে পরিবর্তন হতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। আওয়ামী ক্ষমতায় থেকে ভুলে গেছে আর মনে হয় বিরোধী দলে থাকতে হরেনা। আর মনে হয় তত্বাবোধয় সরকার দরকার হবেনা, আর মনে হয় কোন দিন ১/১১ আসবেনা, তাই নিজেদের দলের সব কেস উঠিয়ে নিয়ে ফুর ফুরে মেজাজে আছে। আসলে সরকার আর দল আলাদা ভাবে রাখলে সবার জন্য ভালো হতো। থ্রি-কাট এর টিক্কা হচ্ছে বাংলার জনগন কখন কার হাতে যাবে বলা মুশকিল। জোট বা মহাজোট বলে কোন কথা নয়। তাই দেশের অবস্থা পরিবর্তন করতে চাইলে হবেনা নিজেদের ভাবমুর্তি দিকে নজর দিন এখনও সময় আছে যদিও আর সেই সময় ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় কারন সময়ের নায়ক সবাই হতে পারেনা ।।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১১ রাত ৮:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


