somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পূর্ণ প্রস্তুতি না নিয়ে জার্মানি আসলে এবং আসার পর পড়াশুনা না করলে কি হতে পারে

১৪ ই মার্চ, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকেই মাঝে মাঝে প্রশ্ন করেন, ভাইয়া আমার কি ভিসা হবে? তাদের কে বলছি, ভবিষ্যৎ কখনই নিশ্চিত না। একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই ভবিষ্যৎ জানেন এবং উনার মর্জিতেই ভিসা হবে । তবে সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি থাকলে এবং লক্ষ্য স্থির থাকলে ভিসা হয়। সঠিক পরিকল্পনা এবং পূর্ণ প্রস্তুতি না থাকলেও ভাগ্যের জোরে কিছু স্টুডেন্ট দের ভিসা হয়। আবার অনেকে স্টুডেন্ট এর আসার আগেই মনের বাসনা লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করবে।অনেক দালাল প্রতিষ্ঠান তাদেরকে এই ভুল স্বপ্ন দেখায়। এই লেখা টা এই সব স্টুডেন্ট এর জন্যই যারা পূর্ণ প্রস্তুতি না নিয়ে,সঠিক পরিকল্পনা না করে,টাকার বাসনা এবং ভুল স্বপ্ন নিয়ে জার্মানি আসে। কিছু ঘটনা দিয়ে এর পরিনিতি বুঝানোর চেষ্টা করছি।



ঘটনা ১- স্টুডেন্ট এর নাম সাইফুল ইসলাম। ২০১৩ এর জানুয়ারি তে বার্লিন এ আসে। তার ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল মাদ্রাসা। ইংলিশ এ দুর্বল। দালাল প্রতিষ্ঠান এর মিষ্টি কথায় আর পরিকল্পনা ছাড়াই ভাগ্যের জোরে ভিসা পায়। কিন্তু তখন সে জানতো না এখানে এসে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে। সে দেশ থেকে কোন জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে আসে নি। শুধু মাত্র টাকা আয় করার জন্য সে এসেছিল। পরাশুনার যে একদম ইচ্ছে ছিল না তা না। তবে পড়াশুনার চেয়ে টাকার বাসনা টাই তার বেশি ছিল। প্রথমে ভিসা এক্সটেন্সান করার পর সে দেড় বছরের ভিসা পায়। তাকে ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার জন্য এই সময় টা দেয়া হয়েছিলো এবং বলা হয়েছিলো এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি তে যেতে হবে। সে কোনমতে একটা লেভেল এখানে শেষ করে। তারপরে ল্যাঙ্গুয়েজ শেখা বন্ধ করে সে একটা রেস্টুরেন্ট এ ফুল টাইম ক্লেনিং এর কাজ শুরু করে। বেশ একটা ভাল টাকাই সে আয় করা শুরু করে। সে ভেবেছিল ভিসা শেষ হবার কিছুদিন আগে ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে কোন স্টুডেন্ট কলিগ সেন্টার এ ভর্তি হয়ে যাবে। বর্তমানে তার ভিসার শেষ হবার মাত্র ২/৩ মাস বাকি। এখন তার হুশ হয়েছে। কিন্তু হুশ হলেও এখন কিছু করবার নেই। তাকে শর্ত দেয়া হয়েছিলো এর মধ্যে ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে স্টুডেন্ট কলিগ শেষ করে ইউনিভার্সিটি তে ঢোকা। কিন্তু সে শর্ত ভেঙ্গে সে ক্লাস না করে শুধু ফুল টাইম জব করে। ফরেইন অফিস মানে যেখান থেকে ভিসা এক্সটেন্সান করতে হয় সেখানে সে ফুল্ টাইম জব করেছে এবং মাত্র ২ মাস ক্লাস করেছে তার সব প্রুফ এই রয়েছে। জার্মানি তে আর একবার সুযোগ পাবার সম্ভাবনা এখন তার নাই বললেই চলে। আমি সর্বশেষ যত টুকু জানি সে এখন অস্ট্রেলিয়া তে ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে রাজনৈতিক ভাবে আশ্রয় নেবার চিন্তা করছে। এটাকে কি জীবন বলে যেটার কোন ভবিষ্যৎ ভালোর সম্ভাবনা খুব কম।

ঘটনা -২। ঘটনার লোকটি একটি মেয়ে। নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। সে ২০১৪ এর ফেব্রুয়ারী তে আসে। তার শহরে ভিসা এক্সটেন্সান এর সময় ব্লক করতে হয় সেটা সে জানতো। তবে তার ফ্রেন্ড রা তাকে বলেছিল পুরো ৮০০০ ব্লক না করে শুধুমাত্র ৩০০০ ব্লক করে বাকিগুলো সেভিংস রাখলেই হবে। মেয়েটির ফ্যামিলি এর অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল না। সে তার ফ্রেন্ড দের ভরসা তেই এসেছিল। পরে এখানে এসে ভিসা এক্সটেন্সান এর সময় সে নিজের ২৫০০ ইউরো ব্লক করে এবং বাকি ৫৫০০ ফ্রেন্ড এর কাছ থেকে ধার নিয়ে সেভিংস হিসেবে রাখে। ভিসা এক্সটেন্সান এর সময় ফরেইন অফিস যে ব্যাংক এ ফোন দিয়ে তার অ্যাকাউন্ট সম্পরকে জিগ্যেস করবে সে ভাবতেই পারে নি। ফরেইন অফিসার যখন তার কাছে জিগ্যেস করে যে তুমি কত টাকা ব্লক করেছো সে মিথ্যে বলে যে সে ৮০০০ ইউরো এই ব্লক করেছে। পরে ফরেইন অফিসার ব্যাংক এ ফোন দিয়ে জানতে পারে সে তার অ্যাকাউন্ট বালেন্স ৮০০০ ইউরো হলেও ব্লক করেছে শুধুমাত্র ২৫০০ ইউরো। পরে তাকে মাত্র ১ মাসের ভিসা দেয়া হয় এবং বলা হয় এর মধ্যে বাকি টাকা গুলো ব্লক তারপরে আসতে। জানিনা তার ফ্যামিলি ১ মাসের মধ্যে ৫/৬ লাখ টাকা বেবস্থা করতে পারবে কিনা। কারন তার যেই ফ্রেন্ড রা ধার দিয়েছিল সেটা কিছুদিনের জন্য ১ বছরের জন্য না।।এখন তার ফ্যামিলি যদি এই টাকা বেবস্থা না করে তাহলে হয়তো তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে। পূর্ণ প্রস্তুতি না থাকলে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সেটা সে হারে হারে টের পাচ্ছে। সেদিন ফোন এ কথা বলার সময় বলল- ভাইয়া আমার এভাবে প্রস্তুতি ছাড়া আসা ঠিক হয় নি। আমি মনে মনে বলি আগে পরামর্শ না নিয়ে নিজের পা কেটে এখন বলছ।

ঘটনা- ৩। ভাইয়া টি মাস্টার্স করবার জন্য জার্মানি তে আসে। এর আগে নাকি সাইপ্রাস এ ব্যাচেলর্স শেষ করেছেন। উনিও দালাল প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে আসে। সাইপ্রাস এ যেভাবে হেলায় হেলায় ব্যাচেলর্স শেষ করেছে ভেবেছিল এমন টা মনে হয় জার্মানি তেও সম্ভব। সেও প্রথমে ১ বছরের ভিসা পায়। হিসেব মত তার ২ টা সেমিস্টার শেষ হয়ে যাবার কথা। কিন্তু সে মাত্র ১৮ দিন ক্লাস করবার পরে আর ইউনিভার্সিটির ক্লাস সম্পূর্ণ করে নি। সেও টাকার জন্য পড়াশুনা অফ রেখে ফুল টাইম জব করা শুরু করে। এক বছর জব করার পর কিছুদিন আগে সে ভিসা এক্সটেন্সান করবার জন্য দাড়ায়। ভাগ্যের পরিহাসে তার পাসপোর্ট টি রেখে দেয় এবং ১ মাসের মধ্যে দেশে ফিরবার টিকেট কেটে যেতে বলেছে এবং তার পাসপোর্ট এয়ারলাইন্স অফিস এর কাছে পাঠানো হবে। আপনি ই বলুন যে লোক বছরে মাত্র ১৮ দিন ক্লাস করে সে ভবিষ্যতেও যে পড়াশুনা করবে সেটার নিশ্চয়তা কথায়। এই কারনেই তাকে সুযোগ দেয়া হয় নি। এখন সে উকিল এর পিছনে তার বছরে আয় করা সব টাকাই খরচ করছে আর একবার সুযোগ পাবার জন্য।

সর্বশেষ কথা দালাল প্রতিষ্ঠান কে চিরতরে ভুলে জান। গ্রুপ এর হেল্প নিন। আপনার শহরের ভিসা এক্সটেন্সান এর সকল নিয়ম ভাল করে জেনে আসুন। পড়াশুনা করবার ভিসা নিয়ে আসবেন তাই আপনাকে পড়াশুনা টাকেই আগে গুরুত্ব দিবে। দেশ থেকে লাখ লাখ টাকা আয় এর স্বপ্ন দেখলে এখনি সেটা ভুলে যান। জার্মানি স্টুডেন্ট এর জন্য স্বর্গ এটা ১০০% সত্য। আপনি দেশ থেকে কমপক্ষে কিছু বেসিক ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে আসেন। তারপরে এখানে এসে ২/৩ টা লেভেল শেষ করবার পরেই নিজের খরচ চালাবার মত পার্ট টাইম জব আপনি পাবেন। ল্যাঙ্গুয়েজ জানলে এখানে জব এর অভাব হবে না। ভালভাবে ভাল ফলাফল করেন জার্মানি আপনার জন্য তখন সর্গ ই মনে হবে।।তখন টাকার স্বপ্ন দেইখেন। আর সবচেয়ে বড় কথা জার্মানি এর পড়াশুনা কিন্তু বাংলাদেশ এর তুলনায় অনেক অনেক কঠিন। অনেক পরিশ্রম করতে হবে। ধনীর ঘরের আলালের দুলাল অথবা দুলালি দের বলছি আসার আগে সবকিছু নিজে নিজে করা শিখে আসেন। না হলে এখানে এসে পরথমে বড় সর ধাক্কা খেতে হবে।পূর্ণ প্রস্তুতি, সঠিক পরিকল্পনা করে জার্মানি আসুন। অন্যান্য দেশে স্টুডেন্ট ভিসায় গিয়ে হেলায় হেলায় পড়াশুনা না করলেও খুব বেশি বিপদে পরবেন না কিন্তু জার্মানি তে পড়াশুনা করার জন্য এসে পড়াশুনা না করে বেশি দিন টিকতে পারবেন না। আর পড়াশুনার সর্বচ্চ দাম জার্মানি আপনাকে দিবে।

লিখেছেন - মেহেদি হাসান
*************************
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে যে কোন তথ্য ও সাহায্য বিনামুল্যে পেতে ঘুরে আসতে পারেন

ওয়েবসাইট- জার্মান প্রবাসে
ফেসবুক গ্রুপ- https://www.facebook.com/groups/BSAAG/

************************
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১২:৩৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপি একটি বেঈমান আর গাদ্দারদের দল।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

‘বিএনপি ৭৫এর যোদ্ধাদের রক্ষা করেনি, ২৪ এর যোদ্ধাদেরও রক্ষা করবে না।’ ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×