somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যখন হাসিনা-খালেদা ঐক্যমত্যে পেঁৗছেছেন

০৮ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ৩:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সম্প্রতি বাংলাদেশের দু শত্রুভাবাপন্ন নেত্রী একই সুরে কথা বলছেন। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেত্রীদের পরস্পরবিরোধী অবস্থানেই দেখতে অভ্যস্ত বাংলাদেশ। তবে ইদানিং হাসিনা ও খালেদার কথা শুনে মনে হচ্ছে, এক্সট্রা সেনসরি পারসেপশন বা ইএসপির মাধ্যমে তারা যোগাযোগ করে এ ঐক্যমত্যে পেঁৗছেছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতা ও বৈরিতা চরমে। এ অবস্থায় দুনেত্রীর মধ্যে যোগাযোগের জন্য ইএসপি ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। গত 16 বছর ধরে মতা দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত পরসঙ্রবিরোধী দু নেত্রী আজ এক সুরে কথা বললেও, দেশের সুশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইসুতে তাদের একমত হতে দেখা যায়নি।
তবে আজ কেন তারা ঐক্যমত্য পোষণ করছেন? কারণটাও পরিস্কার! দুজনই দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। অর্থাৎ বিষয়টি তাদের মতার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। দেরিতে নির্বাচন হলে তৃতীয় কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হতে পারে, যা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এ দল দুটির কাঠামোকে। এ আশঙ্কাতো আছেই।
এর আগেও একবার তাদের একমত হতে দেখা গিয়েছিল। 1990 সালে। জেনারেল এরশাদ পতনের আন্দোলনে এরা একমত ছিলেন। এক সঙ্গে আন্দোলনও করেছিলেন। 1982 সালে এরশাদ মতায় এলেও তার পতনের আন্দোলনে এ দুটি রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যে আসে 1990-এ। এরশাদই বেশ সুকৌশলে এ দ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখেছিলেন। যখন তারা বুঝতে পারলেন, তাদের বিবাদের সুযোগে এরশাদ মতা অাঁকড়ে ধরে টিকে আছেন, তখন তারা যুগপদ আন্দোলনে নামেন।
এরশাদ পরবর্তী সময়ও দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র আসেনি। এটা পরিস্কার যে, এরশাদ পতনের পর দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা সৃষ্টির সুযোগ হাতছাড়া করার জন্য দুটি দলই সমানভাবে দায়ী। যদি সংসদে সিরিয়াস বিতর্ক হতো, রাজনৈতিক ইসুতে দলগুলোর সহনশীল মনোভাব থাকতো, সত্যিকারের গণতন্ত্র চর্চার কাঠামো তৈরি হতো_ তা' হলে হয়তো বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চার ইতিহাস অন্যরকম হতো। যে কোনোভাবে রাজনৈতিক শত্রুকে ঘায়েল করাই বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান ফোকাসে পরিনত হয়। শাসন ও নীতি বাস্তবায়ন থেকে দূরে সরে যেতে থাকে রাজনীতি।
এভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। সুশাসনের দিকে নজর দেবে এমন দলের অভাবের প্রেেিতই ড. ইউনূসের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার ঘোষণা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা তার মদদদানকারী সেনাবাহিনী ইউনূসকে সমর্থন করছেন কি না_ তা' এখনো পরিস্কার নয়। তবে এমন কিছুও করেনি যাতে ইউনূসের রাজনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। অপরদিকে, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করায় দল গুছিয়ে নিতে বেশ সময় পাচ্ছেন ইউনূস। তবে বাংলাদেশে আত্দউন্নয়নই যখন রাজনীতিবিদদের মূল লক্ষ্য, সেখানে ইউনূস কী বির্তক এড়াতে পারবেন? এ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বর্তমানে দণি এশিয়ার সবচেয়ে সেলিব্রেটি হিসেবে পরিচিত ইউনূসের নোংরা রাজনীতিতে জড়ানোটাকে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। তবে এটা নির্ভর করছে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যদি সংস্কার আনতে পারে এ সরকার, কেবল তখনই ইউনূস ভিন্ন কিছু করার সুযোগ পাবেন।
(ইংরেজি সাপ্তাহিক বি্লৎজের চলতি সংখ্যায় প্রকাশিত বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মিলামের কলাম অবলম্বনে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×