দেশের রাজনৈতিক পটভ মির এ নাটকীয় পরিবর্তনে দলগুলোর মধ্যেই শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব প্রশ্নের সম্মুখীন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক নেতাই দলেব ব্যাপারে হাসিনা-খালেদার একক সিদ্ধান্তগ্রহণের বিষয়টি অপছন্দ করেন। দলের নেতাকর্মীদের কোনো মতামত গ্রহণ করেন না এ দু শীর্ষ নেত্রী। বিএনপি নেতারা এ দলীয় কাঠামো সংস্কার চাইতে শুরু করেছেন, একই অবস্থা আওয়ামী লীগেও। সমঙ্্রতি নির্বাহী কমিটির দলীয় নেতাদের তোপের মুখে পড়েছিলেন শেখ হাসিনা। বিএনপিতে এ ধরনের মিটিং না হলেও দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে নেতাদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে। এ কারণে হাসিনা ও খালেদা, দুজনই বেশ চাপে রয়েছেন। তবে দলগুলোর সূত্র জানায়, দলে একচ্ছত্র আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে এখনো মরিয়া দু নেত্রীই।
এ প্রথমবারের মতো হাসিনার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলো। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পইে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা, তবু একক সিদ্ধান্তেই শেখ হাসিনা জুনের মধ্যে নির্বাচন দাবি করে বসলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সময়সীমা বেঁছে দেয়ার পপাতী নন এ নেতারা। 2004-এর 30 এপ্রিলের ডেটলাইনের ব্যর্থতা বা খেলাফত মজলিসের সঙ্গে চুক্তিসহ অন্য বিতর্কিত ইসুতেও হাসিনাকে এভাবে আক্রমণ করেননি দলীয় নেতারা। আসলে সত্য ভাষণে নেত্রীর বিরাগভাজন হতে চাননি কেউ। তবে দিন বদলে গেছে, দলের মধ্যেই শোনা যাচ্ছে বিপরীত উচ্চারণ। দলের মধ্যেই শোনা যাচ্ছে স্বাধীন মতামত। নেতারা দলে সংস্কার দাবি করছেন। তাদের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ হাসিনাকে দিতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক নেতা জানিয়েছেন, দেশের অধিকাংশ নেতাই দুর্নীতিগ্রস্ত। তাই বলে এমন নয় যে, দলে কোনো সৎ নেতা নেই। দুর্নীতির অভিযোগ নেই, এমন নেতারাই এখন এ সব প্রশ্ন তুলছেন। হাসিনার দ্রুত নির্বাচন দাবিতে কেবল আওয়ামী লীগের নেতারাই ুদ্ধ নন, মহাজোটের অন্য অংশীদারদের মধ্যেও দেখা গেছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। জাতীয় পার্টি ও এলডিপিও প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের প।ে অপরাধ, দুর্নীতি ও কালো টাকা মুক্ত নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টির পরই নির্বাচনের প েগণফোরামের ড. কামাল হোসেনও।
এদিকে, বিএনপির চেয়ারপরসন হওয়ার পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের ব্যাপারে দলে কখনোই প্রশ্ন ওঠেনি। শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নীরবেই তার নির্দেশ পালন করে গেছেন। তার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দলের ভেতরে গণতন্ত্র চর্চা ও যৌথ সিদ্ধান্তের কথা উঠেছে। বিএনপির গণতন্ত্র-মনষ্ক নেতারা এ ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে আলোচনাও করছেন। সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে দলের শীর্ষ নেতার জবাবদিহিতার বিষয়টি কিভাবে নিশ্চিত করা যায়, এ নিয়েও ভাবতে শুরু করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। দলের এ মৌলিক পরিবর্তন যারা চাইছেন, তারা মতায় থাকাকালে খালেদার বিরাগভাজন ছিলেন।
সূত্র জানায়, গত সরকারের এক প্রভাবশালী মন্ত্রী দলের মধ্যে গণতন্ত্র এবং জবাবদিহিতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করলে, দারুণ েেপ যান খালেদা। খালেদা জিয়া ওই মন্ত্রীকে বলেছিলেন, ভুল করলে আমিই সেটা সামলাবো। তারেক প্রসঙ্গে একেবারেই অন্ধ ছিলেন তার মা। তিনি বলেছিলেন, তারেক অপরাধ করলে তাকে শাস্তি দেয়া হবে। তবে তারেক যদি দুর্নীতি করেই থাকে_ তার প্রমাণ কই?
দলের অপর এক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, বেশ কয়েক দুর্নীতিবাজ নেতাকে সমর্থন করতেন খালেদা জিয়া। তার সাবেক দু রাজনৈতিক সচিবই চরম দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত। তবে এ ব্যাপারে কোনো মাথা ব্যাথা ছিল না খালেদার। বিএনপিতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা শুরু না হলেও, পর্দার আড়ালে এ ইসু বেশ সাড়া ফেলেছে।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগে হাসিনা-খালেদার এ অবস্থান পর্যবেণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একক নেতৃত্বের প্রবণতার বিপরীতে দলের ভেতর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বতর্মান পরিস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




