somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নোয়াখাইল্ল্যা
আমি একজন ভাল পাঠক।ব্লগ শিক্ষণীয় এবং ইনফরমেটিভ।তাই ব্লগ পড়ে আনন্দ পাই।প্রায় সবার লেখাই মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করি এবং মুগ্ধ হই।

নোয়াখালী থেকে কত দূর রাঙামাটি?

০৩ রা জুলাই, ২০১৭ রাত ১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকে বলতে পারেন, বাংলাদেশ তো জাপানের মতো এত উন্নত-ধনী দেশ না। আমরা তো চাইলেই জাপানের মতো এত দ্রুত বসতি তৈরি করতে পারব না। দুর্গত মানুষকে পুনর্বাসন করতে পারব না। এত বিশাল আর্থিক সামর্থ্য কি বাংলাদেশের আছে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অবশ্য সুদূর চীন-জাপানে যাওয়ার দরকার হবে না। রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রাম পেরিয়ে নোয়াখালীর দিকে গেলেই হবে। ৭০ থেকে ৯০-এর দশকজুড়ে দেশের অন্যতম দুর্যোগপ্রধান ও দরিদ্র এলাকা ছিল নোয়াখালী। নিয়মিত বন্যা ও ঝড়ে সব হারা নোয়াখালীবাসী সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। আশির দশকে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণে মানুষ যখন জীবিকার তাগিদে প্রবাসী হওয়া শুরু করল, তখন সবচেয়ে বেশি মানুষ গেল বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা থেকে।
দুই দশক আগেও এই জেলার অর্ধেকের বেশি মানুষ ছিল দারিদ্র্যসীমার নিচে। ২০১৪ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরো জেলাভিত্তিক যে দারিদ্র্য মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেল নোয়াখালীর দারিদ্র্যের হার কমে ৯ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। আর দেশের অর্থনীতির কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত যে দুই জেলা, ঢাকা ও চট্টগ্রামের দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি। যথাক্রমে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ ও ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

এই প্রশ্ন তো উঠতেই পারে যে নোয়াখালীতে এমন তো কোনো অর্থনৈতিক তৎপরতা হয় না যে সেখানে দারিদ্র্য কমে যাবে। এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মিলবে প্রবাসী আয় নিয়ে করা পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬ সালের জরিপে। সেখানে দেখা গেছে দেশে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসে বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলা নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে। ওই আয়ের একটি বড় অংশ তারা ব্যয় করে বাড়ি-ঘর তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে। এই তিন জেলার মানুষদের সঞ্চয়ের প্রবণতাও বেশি।
নোয়াখালী নিয়ে এত সব তথ্য উপস্থাপনের পেছনে আসল উদ্দেশ্যটা আসলে বলে রাখি। অনেকেই বলতে পারেন, রাঙামাটির পাহাড়ধসের সঙ্গে নোয়াখালীর দারিদ্র্য কমে যাওয়ার সম্পর্ক কী। সম্পর্কটি অবশ্য মাথায় দিয়েছিলেন কানাডার মেনিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অধ্যাপক সি এমদাদ হক। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে তাঁর বাংলাদেশে আসার খবর পেয়ে রাজধানীর গুলশানের এক হোটেলে ছুটে যাই। বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সফলতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিস্তর কথা হয়।
কথার এক ফাঁকে তিনি বললেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সাফল্যের আসল দিকটি কেউ বলে না। প্রবাসী আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখানে কীভাবে বাংলাদেশে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যু কমে আসছে, তা একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখেন। সঙ্গে থাকা জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করা খুরশিদ আলমও এর সঙ্গে একমত হলেন। বললেন, দেশে-বিদেশে এ নিয়ে তাঁর বেশ কিছু গবেষণাও আছে। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশির ভাগ গ্রামীণ বসতি কাঁচা থেকে পাকা ঘরে পরিণত হচ্ছে। দুর্যোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসছে তাদের প্রবাসে থাকা আত্মীয়রা। ওই সব পরিবারে সঞ্চয়ও বেশি। দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনে ওই সঞ্চয় হয় সবচেয়ে বড় সহায়।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬ সালের প্রবাসী আয় নিয়ে করা জরিপের ফলাফল ওই দুই দুর্যোগ বিশেষজ্ঞের মতামতকে সমর্থন করে। ওই জরিপে দেখা যায়, দেশে প্রতিবছর বৈধ পথে যে ১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় আসে, তার ৭৫ শতাংশ ব্যয় হয় ঘরবাড়ি নির্মাণে। আর প্রবাসী আয়ে শীর্ষে থাকা নোয়াখালী এলাকায় গত এক যুগে পাকা ও আধা পাকা ঘরের সংখ্যা তিন গুণ বেড়েছে। ওই ৩ জেলার ৩৩ শতাংশ ঘরই পাকা ও আধা পাকা। ১৬ শতাংশ পরিবারের বাড়ির ছাদ কংক্রিটের তৈরি। ব্যাংকগুলোতে আর্থিক সঞ্চয়ের যে হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া গেছে, তাতে দেখা গেছে রাজধানী ঢাকার পরেই নোয়াখালীর মানুষদের ব্যাংকে আর্থিক সঞ্চয় বেশি। আর্থিক হিসাবে ওই তিন জেলার মানুষের মোট সঞ্চয় ২০ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা।
এই গত মাসেই বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের দারিদ্র্য নিয়ে একটি জরিপ করে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় যখন বলছে দেশে দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৩ শতাংশ, সেখানে পার্বত্য তিন জেলায় দারিদ্র্যের হার ৫১ দশমিক ১ শতাংশ। সমতলের চেয়ে ওই পার্বত্য তিন জেলায় পাকা ঘরের সংখ্যা কম, ঝুপড়ি ঘরের সংখ্যা বেশি। জাতীয় হারের তুলনায় আয়বৈষম্য বেশি।
এমন একটি পরিস্থিতিতে পার্বত্য তিন জেলায় পাহাড়ধসের ঘটনাগুলো ঘটল। এত বড় বিপর্যয়ের পর সেখানকার মানুষ যেখানে আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে ও স্থাপনায়। কবে তারা বাড়িতে ফিরতে পারবে, তার কোনো নিশ্চয়তাও নেই। আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল এই বিশাল জনগোষ্ঠীর নেই আত্মীয়দের প্রবাসী আয়ের ভরসা। রাষ্ট্র-সমাজ, সবার কাছে তারা পাহাড়ের ‘অবৈধ’ দখলদার। জাপানের মতো রাষ্ট্রের কাছ থেকে ভরসা বা নোয়াখালীর মতো প্রবাসী আয়ের আশ্রয় তাদের নেই। ফলে সেই পাহাড়েই তো তারা ফিরবে। আর পরবর্তী ধসে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করবে।

ইফতেখার মাহমুদ: সাংবাদিক
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৭ রাত ১:১৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন আমানতকারীদের সুরক্ষা নাকি লুটেরাদের পুনর্বাসন?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায় হলো ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনামলে ব্যাংকিং খাতের নজিরবিহীন লুটপাট। আওয়ামী লীগের শাসনামলের দেড় দশকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দেশের সাধারণ মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেজে ওঠে জ্যৈষ্ঠ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বৈশাখ রাঙিয়ে দিয়ে গেলো
নতুনকিছুর ছোঁয়া ! যেখানে
হাসি কান্নার চাঁদ চিমটি দিবে-
চৈত্রের শেষে আবার অপেক্ষা
পূর্ণিমার রাত জুড়ে যে কল্পনা;
কষ্টরা ক্লান্তি করে না পোড়া রোদ
তবু বৈশাখ বলে কথা, বাঙ্গালির
গন্ধ বার... ...বাকিটুকু পড়ুন

-প্রতিদিন একটি করে গল্প তৈরি হয়-৪৯

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩





---------------------------------------------------------
সবাইকে নতুন বাংলা বর্ষের-১৪৩৩ এর শুভেচ্ছা।




বৈশাকের সকালে পাশের ফ্ল্যাটের ভাবী উপহার পাঠালেন বিন্নি চালের মিষ্টি ভাত। খেতে দারুন। চট্টগ্রামে এই দিনে বিন্নি ভাত, মধু ভাত খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।




তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাসানী-জিয়ার সম্পর্ক ইতিহাসের দায় ও তথ্যবিভ্রাট

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

রাজনীতি কেবল ক্ষমতার পালাবদল বা সংখ্যার খেলা নয় বরং রাজনীতি হলো একটি জাতির আদর্শিক দর্পণ। এই দর্পণে যখন ঘুন পোকায় ধরে তখন ই জাতির পথচলা স্থবির হয়ে পড়ে একটি জাতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যামিলি কার্ড যদি থাকে, তবে গুম-ভাতা কেন নয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৩৫


পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ দশ ফ্যাসিবাদের তালিকা করলে শেখ হাসিনার নাম ওপরের দিকেই থাকবে। এই শাসনামলে বিএনপি-জামায়াতের হাজার হাজার নিরীহ নেতাকর্মীকে যে আয়নাঘরে বন্দি করা হয়েছিল, তার একেকটা ঘটনা শুনলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×