সম্পাদকীয় /উপ সম্পাদকীয়
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও প্রাসঙ্গিক বাস্তবতা :
গোলাম মহিউদ্দিন নসু
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত ১৬ জুন-২৬ মঙ্গলবার আকস্মিক ভাবে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতাল পরিচালনায় অব্যবস্থাপনার দায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রত্যাহার করে জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ আনোয়ার হোসেনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। এমন ঘোষনায় হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মন্ত্রীকে ঘিরে নার্স ও আউট সোর্সিংকর্মীরা বিক্ষোভ করে এবং ডাঃ ফরিদের প্রত্যাহার আদেশ বাতিলের দাবীতে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে মšী¿ কে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে।
কিন্ত ২৩ জন ডাক্তার-কর্মকর্তা অনুপস্থিতি ,দালালচক্রের দৌরাত্ম্য , রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের নিম্নমান, টয়লেটসহ পুরা হাসপাতাল এলাকা অপরিচ্ছন্নতা, হাসপাতালে বেড পেতে বা বেড সিট পাল্টাতে,নার্স-ওয়াডবয়সহ সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন সেবা পেতে অনৈতিকভাবে টাকা দিতে হয়, সর্বপুরি বিশেজ্ঞ ডাক্তারদের সেবা সহজে পাওয়া যায় না এমন সব অভিযোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষনিকভাবে তত্বাবধায়ককে প্রতাহারের নির্দেশ দিয়ে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান উন্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।যাতে সাধারনের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে।
২২ জুনে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ আনোয়ার হোসেন জানালেন“ আমি মাত্র জয়েন্ট করেছ্ িদেকি কত টুকু করা যায়।”
তত্বাবধায়ক প্রত্যাহারের পরেও মন্ত্রীর প্রত্যাশা অনুযায়ী হাসপাতলের সার্বিকসেবার মান উন্নিত হয়েছি কি ?
এবিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক,হাসপাতালে ভর্তি রোগী বা তাদের স্বজনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জনের দেয়া তথ্যে ঊঠে আসে-
২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন ৬৫০-৮৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। ফলে অনেক রোগীকে মেঝেতে থাকতে হয়। ৬৫০-৮৫০ জন ভর্তি থাকলেও সরকারী ভাবে খাবার দেয়া হয় ২৫০ জন রোগীকে। প্রতিটি ওয়ার্ডে মাত্র ১-২ জন স্থায়ী সরকারি ওয়ার্ড বয় কাজ করে। ৩০ জন রোগীর প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে ক্লিনার থাকে, অথচ প্রতিটি ওয়ার্ডে রোগী ও রোগীর স্বজন মিলে প্রায় ২০০-২২০ জন মানুষ একটা টয়লেট ব্যবহার করে। হাসপাতালে বর্জ্য ব্যবস্থা পরিষ্কারের সাথে নোয়াখালী পৌরসভা জড়িত। এই বর্জ্য পরিষ্কারে পৌরসভার পক্ষ থেকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল নাই। ফলে ময়লাগুলো ডাম্পিং হয়ে থাকে।আউট সোর্সিং কর্মচারীরা গত ৮ মাস ধরে কোন বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। তারা কাজে মনোযোগী নয়।
তাই তারা মনে করে-শুধু মাত্র তত্বাবধায়ককে প্রত্যাহার করে সেবার মান উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।এ ক্ষেত্রে তাদের দাবী -১. ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০-১০০০ বেডে উন্নীত করে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেয়া। আউটসোর্সিং কর্মীদের বেতন ভাতা নিয়মিত করা । ২. নতুন ভবনের সকল কাজ দ্রুত শেষ করে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি সরবরাহ করে নতুন ভবনটি ব্যবহারে আনা। ৩. ২৫০ শয্যার হাসপাতালে অতিরিক্ত রুগীদের অতিরিক্ত খাবার বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
জধুরন ধযসবফ পযড়ঁফযঁৎু নামের একজন ১৮জুনে ফেইজ বুকে লিখলেন এ হাসপাতলে ৬৮টি টয়লেট আছে।্ যার ৬০টি রোগী - এটেন্ডেন্ট-ও স্বজনরা ব্যবহার করে। দৈনিক গড়ে ৭৫০জন রোগী-এটেন্ডেন্ট-স্বজন মিলে প্রায় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার লোক এগুলি ব্যবহার করে। যা পরিস্কার করার জন্য মাত্র ২২জন ক্লিনার কাজ করে। এ জনবলে যা কোনো ভাবেই পরিস্কার রাখা সম্ভব নয়।এ ছাড়া পয়ঃ নিষ্কাসনের সুয়ারেজ লাইন মেরামত,বিভিন্ন ধরনের মেরামত-সংস্কার কাজের জন্য /২৫ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে /২৬ সালের মার্চ মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত অন্তত ১০চিঠি পাঠিয়ে নোয়াখালীর গনপূর্ত বিভাগের আশানূরুপ সাড়া পায়নি। কিন্ত নোয়াখালীর গনপূর্তকে এ জন্য জবাব দিহিতায় আনা হচ্ছে না কেন ?
এসব সমস্যা কোনো একক তত্ত্বাবধায়কের সৃষ্টি নয়; বরং এগুলো দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা, অর্থায়ন, জনবল ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।
অবশ্য যদি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম বা দায়িত্বে গাফিলতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, তাহলে অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু তদন্তের আগেই জনসম্মুখে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা বা "মিডিয়া ট্রায়াল" কোনো প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করে না।
বরং তাদের মতে জিজ্ঞাসা হওয়া উচিত -* কেন নতুন ভবন সময়মতো চালু করা যায় নি ? * কেন প্রয়োজনীয় জনবল বছরের পর বছর শূন্য থাকে? * কেন আউটসোর্সিং কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করা যায় না?* কেন স্থানীয় অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থা নেই? *যে ডাক্তার নিয়মিত হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন না তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয় না ?
তাই মনে করা হয়- হাসপাতালের সার্বজনীন সেবার দায়িত্ব শুধু মাত্র একজন কেন্দ্রীক নয়। এটি একটি ‘গ্রুফ ওয়ার্ক’। যে বা যাহারাই এ দায়িত্বে অবহেলা করেন তাদের প্রত্যেককেই তদারকির আওতায় এনে প্রত্যাশিত সেবার মান নিশ্চিত করাই সার্বজনীন দাবী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




